সংবাদ

‘এরশাদ আমলে আমার অধীনেই বন্দী ছিলেন শেখ হাসিনা’: ট্রাইব্যুনালে আযমী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

‘এরশাদ আমলে আমার অধীনেই বন্দী ছিলেন শেখ হাসিনা’: ট্রাইব্যুনালে আযমী

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনা তার অধীনে বন্দী ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ‘গুম নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে আযমীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

জেরার আইনজীবী দুলু তার কাছে জানতে চান, শেখ হাসিনার সঙ্গে আযমীর কখনো দেখা হয়েছিল কি না। জবাবে আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কয়েকবার দেখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম। ওই সময় মার্শাল ল’র দায়িত্ব পালন করতাম। তখন ওই বাড়িতে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী সাহারা খাতুনকে বন্দী করে কয়েকদিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।

১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তৎকালীন সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলায় তাকে এবং আওয়ামী লীগের আরও ৩১ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। সেবার ১৫ দিন অন্তরীণ থাকার পর মুক্তি পান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৩ সালে সেই আদালতেমানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ২৩ জুন গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন আযমী। তবে তখন নিজের পক্ষে রায় পাননি।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে। তার বদলে ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে তাকে ভুতাপেক্ষভাবেবাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এর ফলে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার হিসেবে আমান আযমীর সব আর্থিক অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পথ খোলে।

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৬ সালের ২২ অগাস্ট আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ২০২৪ এর অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের দুই দিন পর বাড়ি ফেরেন তিনি।

এরপর সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আযমী বলেন, তাকেগুম করে আয়নাঘরে অন্তরীণ করে রাখা হয়। অভ্যুত্থানের পর তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান। বন্দীদশার দিনগুলোতে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। আট বছর তিনি সূর্যের আলো দেখার সুযোগ পাননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকেচব্বিশের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে। প্রথম মামলার রায়ে শেখ হাসিনা এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়।

পরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মতের লোকদের গুম নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলা হয়।

এর মধ্যে ্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৭ জন এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বন্দী রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৩ জন আসামি। জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়।

জেআইসিতেগুম নির্যাতনের মামলায় ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনা এবং সাবেক বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এই তিন আসামি হলেন-ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

ট্রাইব্যুনালে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, শাইখ মাহদী এবং মঈনুল করিম।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


‘এরশাদ আমলে আমার অধীনেই বন্দী ছিলেন শেখ হাসিনা’: ট্রাইব্যুনালে আযমী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনা তার অধীনে বন্দী ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ‘গুম নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে আযমীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

জেরার আইনজীবী দুলু তার কাছে জানতে চান, শেখ হাসিনার সঙ্গে আযমীর কখনো দেখা হয়েছিল কি না। জবাবে আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কয়েকবার দেখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম। ওই সময় মার্শাল ল’র দায়িত্ব পালন করতাম। তখন ওই বাড়িতে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী সাহারা খাতুনকে বন্দী করে কয়েকদিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।

১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তৎকালীন সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলায় তাকে এবং আওয়ামী লীগের আরও ৩১ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। সেবার ১৫ দিন অন্তরীণ থাকার পর মুক্তি পান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৩ সালে সেই আদালতেমানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ২৩ জুন গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন আযমী। তবে তখন নিজের পক্ষে রায় পাননি।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে। তার বদলে ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে তাকে ভুতাপেক্ষভাবেবাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এর ফলে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার হিসেবে আমান আযমীর সব আর্থিক অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পথ খোলে।

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৬ সালের ২২ অগাস্ট আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ২০২৪ এর অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের দুই দিন পর বাড়ি ফেরেন তিনি।

এরপর সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আযমী বলেন, তাকেগুম করে আয়নাঘরে অন্তরীণ করে রাখা হয়। অভ্যুত্থানের পর তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান। বন্দীদশার দিনগুলোতে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। আট বছর তিনি সূর্যের আলো দেখার সুযোগ পাননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকেচব্বিশের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে। প্রথম মামলার রায়ে শেখ হাসিনা এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়।

পরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মতের লোকদের গুম নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলা হয়।

এর মধ্যে ্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৭ জন এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বন্দী রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৩ জন আসামি। জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়।

জেআইসিতেগুম নির্যাতনের মামলায় ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনা এবং সাবেক বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এই তিন আসামি হলেন-ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

ট্রাইব্যুনালে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, শাইখ মাহদী এবং মঈনুল করিম।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত