সংবাদ

হাওরে ডুবলো ধান, ৩ মাস ‘খাওয়ানোর’ আশ্বাস এমপির


প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ১ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

হাওরে ডুবলো ধান, ৩ মাস ‘খাওয়ানোর’ আশ্বাস এমপির
হাওরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। ছবি: প্রতিনিধি

বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল কিশোরগঞ্জের হাওরে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে স্বপ্নভঙ্গ কৃষকদের। পানিতে তলিয়ে গেছে কাঁচা ও আধাপাকা ধান। সরকারি হিসাবে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। বেসরকারি হিসেবে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এদিকে, কৃষকদের দুর্দশা দেখতে শুক্রবার (১ মে) হাওরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার দিনব্যাপী হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কৃষকদের বলেন, ‘আমার নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে আপনাদের দেখতে এসেছি। তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস খাওয়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। নিজের মনকে ছোট করবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। যতটুকু পারি কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করবো।’

এর আগে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মিজ সোহানা নাসরিনও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি কৃষকদের সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী- এই চার উপজেলা পুরোপুরি হাওর এলাকা। এ ছাড়া করিমগঞ্জ, তাড়াইল, কটিয়াদী, বাজিতপুর ও ভৈরবের কিছু এলাকাও হাওর হিসেবে পরিচিত। হাওরের কৃষকরা একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এই একটি ফসল দিয়েই চলে তাদের সারা বছরের সংসার।

কিন্তু এবার বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কাঁচা ও আধাপাকা ধান। পানির নিচ থেকে ধান কাটতে পারছেন না কৃষক। একদিকে বৈরি আবহাওয়ায় শ্রমিকরা মাঠে নামছেন না; অন্যদিকে হারভেস্টার মেশিনও কাজে আসছে না। ইতিমধ্যে কাটা ধান শুকাতে না পারায় অনেকের ঘরের ধানেই গজিয়েছে চারা।

মিঠামইনের কাটখাল গ্রামের কৃষক মো. মহসিন জানান, বৃষ্টিতে তাদের সমস্ত জমি তলিয়ে গেছে। নিকলীর বড়হাওরের কৃষক আব্দুল গণি বলেন, ‘ধার–দেনা করে বোরো আবাদ করেছিলাম। সেই ফসল এখন পানির নিচে। আমরা কিছুই করতে পারছি না।’

ইটনার বলদা হাওরের কৃষক জহির মিয়া বলেন, ‘যেখানে আনন্দে ধান কাটা-মাড়াই করার কথা ছিল, সেখানে বৃষ্টির পানি সেই উৎসবকে বিষাদে পরিণত করেছে।’

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হাওরের ধনু, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ফসলরক্ষা বাঁধ উপচে হাওরের বিশাল এলাকা তলিয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় কৃষকদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

কোমর পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকরা। ছবি: প্রতিনিধি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে হাওরেই ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন চাল।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বৃষ্টিতে প্রায় ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি স্থিতিশীল রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৫ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


হাওরে ডুবলো ধান, ৩ মাস ‘খাওয়ানোর’ আশ্বাস এমপির

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল কিশোরগঞ্জের হাওরে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে স্বপ্নভঙ্গ কৃষকদের। পানিতে তলিয়ে গেছে কাঁচা ও আধাপাকা ধান। সরকারি হিসাবে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। বেসরকারি হিসেবে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এদিকে, কৃষকদের দুর্দশা দেখতে শুক্রবার (১ মে) হাওরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার দিনব্যাপী হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কৃষকদের বলেন, ‘আমার নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে আপনাদের দেখতে এসেছি। তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস খাওয়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। নিজের মনকে ছোট করবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। যতটুকু পারি কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করবো।’

এর আগে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মিজ সোহানা নাসরিনও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি কৃষকদের সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী- এই চার উপজেলা পুরোপুরি হাওর এলাকা। এ ছাড়া করিমগঞ্জ, তাড়াইল, কটিয়াদী, বাজিতপুর ও ভৈরবের কিছু এলাকাও হাওর হিসেবে পরিচিত। হাওরের কৃষকরা একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এই একটি ফসল দিয়েই চলে তাদের সারা বছরের সংসার।

কিন্তু এবার বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কাঁচা ও আধাপাকা ধান। পানির নিচ থেকে ধান কাটতে পারছেন না কৃষক। একদিকে বৈরি আবহাওয়ায় শ্রমিকরা মাঠে নামছেন না; অন্যদিকে হারভেস্টার মেশিনও কাজে আসছে না। ইতিমধ্যে কাটা ধান শুকাতে না পারায় অনেকের ঘরের ধানেই গজিয়েছে চারা।

মিঠামইনের কাটখাল গ্রামের কৃষক মো. মহসিন জানান, বৃষ্টিতে তাদের সমস্ত জমি তলিয়ে গেছে। নিকলীর বড়হাওরের কৃষক আব্দুল গণি বলেন, ‘ধার–দেনা করে বোরো আবাদ করেছিলাম। সেই ফসল এখন পানির নিচে। আমরা কিছুই করতে পারছি না।’

ইটনার বলদা হাওরের কৃষক জহির মিয়া বলেন, ‘যেখানে আনন্দে ধান কাটা-মাড়াই করার কথা ছিল, সেখানে বৃষ্টির পানি সেই উৎসবকে বিষাদে পরিণত করেছে।’

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হাওরের ধনু, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ফসলরক্ষা বাঁধ উপচে হাওরের বিশাল এলাকা তলিয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় কৃষকদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

কোমর পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকরা। ছবি: প্রতিনিধি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে হাওরেই ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন চাল।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বৃষ্টিতে প্রায় ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি স্থিতিশীল রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৫ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত