সংবাদ

‘নদী দূষণ রোধে শিশুদের শিক্ষিত করুন’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

‘নদী দূষণ রোধে শিশুদের শিক্ষিত করুন’
সিলেটের সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী।

প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি এখন অসম্ভব রকম বিষাক্ত। শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, এভাবে যদি সব নদী বিষাক্ত হতে থাকে, তাহলে একসময় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি স্কুলশিশুদের শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নদীতে জমে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গেছে। এইভাবে যদি সবগুলো নদী বিষাক্ত হতে থাকে, তাহলে একটা সময় অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কাজেই এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

নদী দূষণ রোধে শিশুশিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বড়রা শুনলেও সহজে শিখতে চায় না। কিন্তু যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখান, তা তার মাথায় ঢুকে যায়। সে তার বাবা-মাকেও ওটা মানতে বাধ্য করবে।’

তিনি সিটি করপোরেশন এলাকার সব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিষয়টি শেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে প্লাস্টিক, পলিথিন ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে শিশুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল খননকে প্রধান উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সিলেটে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অতিবৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে নগরের পানির বড় অংশই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সিলেটে নয়, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরেও দেখা যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্ষায় বিপুল পরিমাণ পানি ধরে রাখতে পারলে কৃষি ও নাগরিক জীবনে ব্যবহার করা যাবে। খাল খনন সেই সুযোগ তৈরি করবে।

এর আগে সকালে সুরমার মেয়ে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আকাশপথে পূণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নিজ বাসে রওনা হন শহরের উদ্দেশে।

 প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেই হযরত শাহজালাল রহ. মাজার জিয়ারত করে সিলেট সফরের কার্যক্রম শুরু করেন সরকারপ্রধান। এ সময় দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া মোনাজাতও করেন তারেক রহমান।

পরে শহরের সুরমা নদীর পাগে চাঁদনী ঘাটে যান। জলবদ্ধতা নিরসনে সুরমা নদীর উভয় পাড়ে বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো প্রকল্পসহ বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেন সরকারপ্রধান।পরে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বাঁইশা নদী পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


‘নদী দূষণ রোধে শিশুদের শিক্ষিত করুন’

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি এখন অসম্ভব রকম বিষাক্ত। শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, এভাবে যদি সব নদী বিষাক্ত হতে থাকে, তাহলে একসময় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি স্কুলশিশুদের শিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নদীতে জমে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গেছে। এইভাবে যদি সবগুলো নদী বিষাক্ত হতে থাকে, তাহলে একটা সময় অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কাজেই এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

নদী দূষণ রোধে শিশুশিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বড়রা শুনলেও সহজে শিখতে চায় না। কিন্তু যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখান, তা তার মাথায় ঢুকে যায়। সে তার বাবা-মাকেও ওটা মানতে বাধ্য করবে।’

তিনি সিটি করপোরেশন এলাকার সব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিষয়টি শেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে প্লাস্টিক, পলিথিন ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে শিশুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল খননকে প্রধান উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সিলেটে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অতিবৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে নগরের পানির বড় অংশই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সিলেটে নয়, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরেও দেখা যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্ষায় বিপুল পরিমাণ পানি ধরে রাখতে পারলে কৃষি ও নাগরিক জীবনে ব্যবহার করা যাবে। খাল খনন সেই সুযোগ তৈরি করবে।

এর আগে সকালে সুরমার মেয়ে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আকাশপথে পূণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নিজ বাসে রওনা হন শহরের উদ্দেশে।

 প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেই হযরত শাহজালাল রহ. মাজার জিয়ারত করে সিলেট সফরের কার্যক্রম শুরু করেন সরকারপ্রধান। এ সময় দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া মোনাজাতও করেন তারেক রহমান।

পরে শহরের সুরমা নদীর পাগে চাঁদনী ঘাটে যান। জলবদ্ধতা নিরসনে সুরমা নদীর উভয় পাড়ে বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো প্রকল্পসহ বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেন সরকারপ্রধান।পরে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বাঁইশা নদী পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত