দীর্ঘ সাত দশকের ঐতিহ্য আর সংগ্রামের পথ বেয়ে গৌরবময় ৭৪ বছরে পদার্পণ করল দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’।
১৯৫২ সালের ২ মে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি জন্মলগ্ন থেকেই শিশুদের সুস্থ, সবল, অসাম্প্রদায়িক ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে আজ শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর পল্টনে ‘দৈনিক সংবাদ’ কার্যালয়ে এক প্রীতি ও সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, হেড অফ নিউজ রাশেদ আহমেদ, চিফ রিপোর্টার সালাম জুবায়েরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও মহানগর খেলাঘরের নেতৃবৃন্দ এবং শিশু-কিশোর সদস্যরা কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানে খেলাঘরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদ, এনামুল ইসলাম জিন্না, হাসান তারেক, হান্নান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, প্রণয় সাহা, আমিনুল রানা, আকতার হোসেন, মারুফ হোসেন, শিশির চক্রবর্তী, শাহীন আক্তার, ফারুক মহসিন, কাশেদ আলী নয়ন, আনিসুল বিপ্লব, জহিরুল ইসলাম স্বপন, কামরুল হাসান, মাহবুবুর রহমান বাপিন, আহসান হাবীব খান রিপন, সৌমেন পোদ্দারসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠক এবং শিশু-কিশোর সদস্যরা। অনুষ্ঠানে ভালোবাসা, সংগ্রাম ও স্বপ্নে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে খেলাঘরের সুদীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদসহ অন্যান্য সংগঠকরা ভালোবাসা, সংগ্রাম ও স্বপ্নে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ১৯৫২ থেকে ২০২৬ এই দীর্ঘ যাত্রায় খেলাঘর পাড়ায় পাড়ায় শাখা গড়ে তুলে লক্ষ লক্ষ শিশু-কিশোরের সৃজনশীল বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখেছে।
সংগঠনটি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে, এখান থেকেই উঠে এসেছেন দেশের অসংখ্য বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক ও বিজ্ঞানী। রনেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার, সত্যেন সেন ও হাবিবুর রহমানের মতো মহৎ প্রাণ ব্যক্তিত্বদের হাত ধরে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজও সমান্তরালে প্রবহমান।
খেলাঘরের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সে সময় সংগঠনের কর্মীরা দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। এজন্যই সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বলা হয়, “বাংলাদেশের ইতিহাসে খেলাঘরের রক্ত আছে।” শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধেও খেলাঘর সবসময় সোচ্চার। বরিশালের সুজন মোল্লার আত্মত্যাগকে স্মরণ করে সংগঠনটি প্রতিবছর মাদকবিরোধী দিবস পালন করে এবং শিশু নির্যাতন ও শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত জনমত গঠন করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশ ও বিদেশের সকল কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এবারের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার বিশেষ কর্মসূচিতে সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
খেলাঘর নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সব শিশু এখনো তাদের আকাশী পতাকার নিচে সমবেত হতে না পারলেও এই অপূর্ণতাকে শক্তিতে রূপান্তর করেই তারা সামনে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আজকের খেলাঘর, আগামীদিনের বাংলাদেশ।” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই খেলাঘর একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
দীর্ঘ সাত দশকের ঐতিহ্য আর সংগ্রামের পথ বেয়ে গৌরবময় ৭৪ বছরে পদার্পণ করল দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’।
১৯৫২ সালের ২ মে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি জন্মলগ্ন থেকেই শিশুদের সুস্থ, সবল, অসাম্প্রদায়িক ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে আজ শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর পল্টনে ‘দৈনিক সংবাদ’ কার্যালয়ে এক প্রীতি ও সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, হেড অফ নিউজ রাশেদ আহমেদ, চিফ রিপোর্টার সালাম জুবায়েরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও মহানগর খেলাঘরের নেতৃবৃন্দ এবং শিশু-কিশোর সদস্যরা কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানে খেলাঘরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদ, এনামুল ইসলাম জিন্না, হাসান তারেক, হান্নান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, প্রণয় সাহা, আমিনুল রানা, আকতার হোসেন, মারুফ হোসেন, শিশির চক্রবর্তী, শাহীন আক্তার, ফারুক মহসিন, কাশেদ আলী নয়ন, আনিসুল বিপ্লব, জহিরুল ইসলাম স্বপন, কামরুল হাসান, মাহবুবুর রহমান বাপিন, আহসান হাবীব খান রিপন, সৌমেন পোদ্দারসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠক এবং শিশু-কিশোর সদস্যরা। অনুষ্ঠানে ভালোবাসা, সংগ্রাম ও স্বপ্নে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে খেলাঘরের সুদীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদসহ অন্যান্য সংগঠকরা ভালোবাসা, সংগ্রাম ও স্বপ্নে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ১৯৫২ থেকে ২০২৬ এই দীর্ঘ যাত্রায় খেলাঘর পাড়ায় পাড়ায় শাখা গড়ে তুলে লক্ষ লক্ষ শিশু-কিশোরের সৃজনশীল বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখেছে।
সংগঠনটি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে, এখান থেকেই উঠে এসেছেন দেশের অসংখ্য বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক ও বিজ্ঞানী। রনেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার, সত্যেন সেন ও হাবিবুর রহমানের মতো মহৎ প্রাণ ব্যক্তিত্বদের হাত ধরে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজও সমান্তরালে প্রবহমান।
খেলাঘরের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সে সময় সংগঠনের কর্মীরা দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। এজন্যই সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বলা হয়, “বাংলাদেশের ইতিহাসে খেলাঘরের রক্ত আছে।” শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধেও খেলাঘর সবসময় সোচ্চার। বরিশালের সুজন মোল্লার আত্মত্যাগকে স্মরণ করে সংগঠনটি প্রতিবছর মাদকবিরোধী দিবস পালন করে এবং শিশু নির্যাতন ও শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত জনমত গঠন করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশ ও বিদেশের সকল কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এবারের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার বিশেষ কর্মসূচিতে সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
খেলাঘর নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সব শিশু এখনো তাদের আকাশী পতাকার নিচে সমবেত হতে না পারলেও এই অপূর্ণতাকে শক্তিতে রূপান্তর করেই তারা সামনে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আজকের খেলাঘর, আগামীদিনের বাংলাদেশ।” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই খেলাঘর একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখে।

আপনার মতামত লিখুন