কুষ্টিয়ায় অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ-২০২৬ অভিযান উপলক্ষে জেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধান, গম ও চাল সংগ্রহের কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধান ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা (মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা)। এ ছাড়া প্রতি কেজি আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে কেনা হবে। ৩ মে থেকে শুরু হওয়া ধান ও গম সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে, চাল সংগ্রহ শুরু হবে ১৫ মে থেকে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
জেলায় এবার মোট ৩ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন ধান, ২ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম, ৯০৮ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৩৭ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সদরে ১ হাজার ৩৮৩ টন, মিরপুরে ৯৪১ টন এবং কুমারখালীতে ৫৫৭ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া খোকসা, ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলা থেকেও ধান কেনা হবে।
সভায় জানানো হয়, জেলায় ১২৯টি হাস্কিং মিল এবং ৬১টি অটো রাইস মিলসহ মোট ১৯০টি অনুমোদিত চালকল রয়েছে। মিল মালিকদের ১৫ মে থেকে ২৫ মে’র মধ্যে চুক্তিনামা সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে বা চাল সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মিল মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ‘কৃষক অ্যাপ’ ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা কৃষকদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বলেন, ‘খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রকৃত কৃষকেরা যেন ফসলের সঠিক মূল্য পান এবং মানসম্মত চাল সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি করবে।’
সভায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল-ওয়াজিউর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামানসহ জেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন