বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু করা ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে’ ২ বছর ৮ মাসে যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৭ হাজার গ্রাহক, যাদের মাধ্যমে জমা হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। শেষ বয়সে সব শ্রেণির মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার কথা বলে ২০২৩ সালের ১৭ অগাস্ট এই স্কিম চালু করা হয়। স্কিমে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিককে (বিশেষ বিবেচনায় ৫০ ঊর্ধ্ব) যুক্ত করার কথা বলা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ি, শুরু হওয়ার প্রথম একবছরে এই স্কিমে যুক্ত হয়েছিল প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ। পরের ২০ মাসে এ সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ হাজারের মত।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের’ অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রীকে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান স্কিমের বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নির্বাহী চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ি, যাত্রার শুরু থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হন। পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়য় প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পুরনো তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত এক বছরে ‘জাতীয় পেনশন স্কিমে’ যুক্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন। মোট জমার পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি টাকা। শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যূত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই স্কিমের ভবিষ্যত নিয়ে জনসাধারণের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অংশগ্রহণে ভাটা পড়ে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উচ্চ পর্যায়ের সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে।
ভবিষ্যতের এই জনমিতি পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা
‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজনকে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে অর্থমন্ত্রী ‘শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম’ চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্র্তী সরকার এই স্কিম চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত দিলেও’ সাধারণ মানুষের আর সাড়া দেয়নি। শুরুতে ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিম চালু করা হয়েছিল। গত জুলাইয়ে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’-স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও অংশীজনদের বিরোধিতার কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু করা ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে’ ২ বছর ৮ মাসে যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৭ হাজার গ্রাহক, যাদের মাধ্যমে জমা হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। শেষ বয়সে সব শ্রেণির মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার কথা বলে ২০২৩ সালের ১৭ অগাস্ট এই স্কিম চালু করা হয়। স্কিমে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিককে (বিশেষ বিবেচনায় ৫০ ঊর্ধ্ব) যুক্ত করার কথা বলা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ি, শুরু হওয়ার প্রথম একবছরে এই স্কিমে যুক্ত হয়েছিল প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ। পরের ২০ মাসে এ সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ হাজারের মত।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের’ অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা হয়। এ সময় অর্থমন্ত্রীকে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান স্কিমের বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নির্বাহী চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ি, যাত্রার শুরু থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হন। পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়য় প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পুরনো তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত এক বছরে ‘জাতীয় পেনশন স্কিমে’ যুক্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন। মোট জমার পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি টাকা। শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যূত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই স্কিমের ভবিষ্যত নিয়ে জনসাধারণের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অংশগ্রহণে ভাটা পড়ে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উচ্চ পর্যায়ের সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে।
ভবিষ্যতের এই জনমিতি পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা
‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজনকে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে অর্থমন্ত্রী ‘শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম’ চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্র্তী সরকার এই স্কিম চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত দিলেও’ সাধারণ মানুষের আর সাড়া দেয়নি। শুরুতে ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিম চালু করা হয়েছিল। গত জুলাইয়ে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’-স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও অংশীজনদের বিরোধিতার কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন