সংবাদ

তরুণ চিকিৎসককে ‘মব জাস্টিসের’ চেষ্টা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা প্রেরণ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

তরুণ চিকিৎসককে ‘মব জাস্টিসের’ চেষ্টা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা প্রেরণ

  • হাসপাতালে সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ল নারকীয় তাণ্ডব
  • অভিযুক্তদের গ্রেফতারে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ও পুলিশ

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর বর্বর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। উগ্র জনতা রোগীর স্বজনরা মিলে মব জাস্টিসের নামে ডা. নাসির ইসলাম নামের ওই চিকিৎসককে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে কয়েক দফায় লাঞ্ছিত মারধর করে। হামলায় গুরুতর আহত রক্তাক্ত ওই চিকিৎসককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত লোক মিলে ওই তরুণ চিকিৎসকের ওপর কিল-ঘুসি লাথি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও তার ওপর বর্বরতা থামেনি, একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হাসপাতালে আসেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন, কিন্তু যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসকের গাফিলতির ভুয়া অভিযোগে একদল বহিরাগত স্বজন হাসপাতালে তাণ্ডব চালায়। মাত্র তিন মাস আগে ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া ভাইয়ের এমন অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় ভাই নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিন মাস আগে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। সবসময় মানুষের সেবা করার কথা জানিয়েছে। মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে কেউ ভুল বুঝে যদি এমন হামলা চালায় এটি ন্যক্কারজনক। তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক যদি হাসপাতালে নিরাপদ না থাকে তাহলে তারা কীভাবে চিকিৎসাসেবা দেবে। আমরা ঘটনায় দোষীদের বিচার চাই।

ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হাসপাতাল প্রশাসনও দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমাকে ওই চিকিৎসক জানান একজন রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমি বিষয়টি দ্রুত পুলিশ ইউএনও ম্যাডামকে জানাই। এসে দেখি আমাদের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত করে আহত করা হয়েছে। শতাধিক লোক এই হামলায় জড়িত ছিল। এরই মধ্যে আমাদের আহত চিকিৎসককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকের ওপর এমন হামলার পর পুলিশ প্রশাসন দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ‘চিকিৎসকরা রোগীদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তাকেই হত্যাকারী অপবাদ দিয়ে তার ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করছি। রাতে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার উসকানিদাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


চিকিৎসকের ওপর হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজের দলের লোকেদেরও ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, ‘এখানে যে ঘটনা ঘটেছে তার সুষ্ঠু বিচার আমরা চাই। দলের পরিচয় দিয়ে দলের বদনাম হোক এটা চাই না। কেউ যাতে এটা না করে। দলের কেউ হলেও আমরা এটা দেখবো।

বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


তরুণ চিকিৎসককে ‘মব জাস্টিসের’ চেষ্টা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা প্রেরণ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

  • হাসপাতালে সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ল নারকীয় তাণ্ডব
  • অভিযুক্তদের গ্রেফতারে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ও পুলিশ

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর বর্বর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। উগ্র জনতা রোগীর স্বজনরা মিলে মব জাস্টিসের নামে ডা. নাসির ইসলাম নামের ওই চিকিৎসককে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে কয়েক দফায় লাঞ্ছিত মারধর করে। হামলায় গুরুতর আহত রক্তাক্ত ওই চিকিৎসককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত লোক মিলে ওই তরুণ চিকিৎসকের ওপর কিল-ঘুসি লাথি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও তার ওপর বর্বরতা থামেনি, একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হাসপাতালে আসেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন, কিন্তু যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসকের গাফিলতির ভুয়া অভিযোগে একদল বহিরাগত স্বজন হাসপাতালে তাণ্ডব চালায়। মাত্র তিন মাস আগে ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া ভাইয়ের এমন অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় ভাই নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিন মাস আগে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। সবসময় মানুষের সেবা করার কথা জানিয়েছে। মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে কেউ ভুল বুঝে যদি এমন হামলা চালায় এটি ন্যক্কারজনক। তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক যদি হাসপাতালে নিরাপদ না থাকে তাহলে তারা কীভাবে চিকিৎসাসেবা দেবে। আমরা ঘটনায় দোষীদের বিচার চাই।

ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হাসপাতাল প্রশাসনও দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমাকে ওই চিকিৎসক জানান একজন রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমি বিষয়টি দ্রুত পুলিশ ইউএনও ম্যাডামকে জানাই। এসে দেখি আমাদের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত করে আহত করা হয়েছে। শতাধিক লোক এই হামলায় জড়িত ছিল। এরই মধ্যে আমাদের আহত চিকিৎসককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকের ওপর এমন হামলার পর পুলিশ প্রশাসন দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ‘চিকিৎসকরা রোগীদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তাকেই হত্যাকারী অপবাদ দিয়ে তার ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করছি। রাতে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার উসকানিদাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


চিকিৎসকের ওপর হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজের দলের লোকেদেরও ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, ‘এখানে যে ঘটনা ঘটেছে তার সুষ্ঠু বিচার আমরা চাই। দলের পরিচয় দিয়ে দলের বদনাম হোক এটা চাই না। কেউ যাতে এটা না করে। দলের কেউ হলেও আমরা এটা দেখবো।

বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত