আওয়ামী লীগকে ‘বাংলাদেশপন্থী’ নয় বরং ভারতের ‘এক্সটেনশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ যেসব রাজনৈতিক দল বাংলাদেশপন্থী, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য বা পলিসি নিয়ে বিভাজন থাকতে পারে। এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে কোনো নেতা তার লাখ লাখ কর্মী ফেলে চোরের মতো পালিয়ে যায়। তারা আর কোনোদিন বাংলাদেশে ফেরত আসতে পারবে না।’
দেশের বেকারত্ব নিরসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি প্রতিটি সেক্টরে মেধাবীদের স্থান দিতে হবে এবং বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আগামী বাজেটে এই দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হতে না হয়।
পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে হয়রানি করেন। শেখ হাসিনার আমলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার কারণে মানুষকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না।’
চৌদ্দগ্রামকে সীমান্তবর্তী এলাকা উল্লেখ করে তিনি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘মাদক কারবারিরা দেশ ও জাতির শত্রু। পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ী একসঙ্গে চলতে পারে না। পুলিশকে আরও আধুনিক করে মাদক নির্মূলে কঠোর হতে হবে।’
জাতীয় যুব শক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাভীদ নওরোজ শাহ, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ, এনসিপি নেতা মাসুমুল কাউছারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মজুমদার।
আপনার মতামত লিখুন