সংবাদ

মাঝরাতে দেবদূত হয়ে এলেন পুলিশ কর্মকর্তা


প্রতিনিধি, রামু (কক্সবাজার)
প্রতিনিধি, রামু (কক্সবাজার)
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

মাঝরাতে দেবদূত হয়ে এলেন পুলিশ কর্মকর্তা
রামুতে অসুস্থ প্রসূতি ও নবজাতককে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত গড়লেন পুলিশ সদস্যরা। ছবি : সংবাদ

কক্সবাজারের রামুতে গভীর রাতে টহল দেওয়ার সময় মুমূর্ষু অবস্থায় এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এই মানবিক তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন মা ও শিশু। রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে রামু থানার এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টহল দিচ্ছিলেন। রাত তিনটার দিকে রাজারকুল কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে পৌঁছালে এক নারী তাদের গতিরোধ করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের জানান, ক্লিনিকের মেঝেতে তার মেয়ে সন্তান প্রসব করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। বিদ্যুৎহীন ওই ক্লিনিকে মা ও নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে এএসআই জাহিদ দ্রুত ক্লিনিকের ভেতরে যান। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। গভীর রাত হওয়ায় কোনো যানবাহন না পেয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা পাশের গ্রামের এক চালকের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে অটোরিকশা নিয়ে এসে দ্রুত তাদের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালে ভর্তির পর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও নিজের অর্থে কিনে দেন এএসআই জাহিদ। চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক সেবায় বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। এএসআই জাহিদ বলেন, ‘পুলিশের পোশাকের আড়ালে আমরাও মানুষ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আত্মতৃপ্তি পাচ্ছি।’

রামুর সচেতন মহলের মতে, পুলিশ বাহিনীর এই দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


মাঝরাতে দেবদূত হয়ে এলেন পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের রামুতে গভীর রাতে টহল দেওয়ার সময় মুমূর্ষু অবস্থায় এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এই মানবিক তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন মা ও শিশু। রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে রামু থানার এএসআই জাহিদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টহল দিচ্ছিলেন। রাত তিনটার দিকে রাজারকুল কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে পৌঁছালে এক নারী তাদের গতিরোধ করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের জানান, ক্লিনিকের মেঝেতে তার মেয়ে সন্তান প্রসব করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। বিদ্যুৎহীন ওই ক্লিনিকে মা ও নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে এএসআই জাহিদ দ্রুত ক্লিনিকের ভেতরে যান। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। গভীর রাত হওয়ায় কোনো যানবাহন না পেয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা পাশের গ্রামের এক চালকের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে অটোরিকশা নিয়ে এসে দ্রুত তাদের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালে ভর্তির পর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও নিজের অর্থে কিনে দেন এএসআই জাহিদ। চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক সেবায় বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। এএসআই জাহিদ বলেন, ‘পুলিশের পোশাকের আড়ালে আমরাও মানুষ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আত্মতৃপ্তি পাচ্ছি।’

রামুর সচেতন মহলের মতে, পুলিশ বাহিনীর এই দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত