ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সামগ্রিক সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ, পদক বিতরণ এবং পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বর্তমান ফায়ার স্টেশনগুলোর সেবার চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।"
এই সংকট কাটাতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে।"
এছাড়া নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
ফায়ার সার্ভিসের জনবল ও অবকাঠামোগত কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, "ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।"
সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, "ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম গত ০১ মে থেকে চালু করা হয়েছে।"
ফায়ার ফাইটারদের জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, "জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।"
আবাসন ও ভাতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকার মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতা হিসেবে 'ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা' এবং ফ্রেশ মানি প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।"
এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে "ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬"-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং মনোজ্ঞ পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবারের পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ারফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন এবং ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন নবীন সদস্য অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিসের মোট ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে মর্যাদাপূর্ণ পদক তুলে দেন, যার মধ্যে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জন কৃতিত্বপূর্ণ সদস্য রয়েছেন।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সামগ্রিক সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ, পদক বিতরণ এবং পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বর্তমান ফায়ার স্টেশনগুলোর সেবার চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।"
এই সংকট কাটাতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে।"
এছাড়া নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
ফায়ার সার্ভিসের জনবল ও অবকাঠামোগত কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, "ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।"
সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, "ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম গত ০১ মে থেকে চালু করা হয়েছে।"
ফায়ার ফাইটারদের জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, "জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।"
আবাসন ও ভাতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকার মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতা হিসেবে 'ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা' এবং ফ্রেশ মানি প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।"
এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে "ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬"-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং মনোজ্ঞ পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবারের পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ারফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন এবং ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন নবীন সদস্য অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিসের মোট ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে মর্যাদাপূর্ণ পদক তুলে দেন, যার মধ্যে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জন কৃতিত্বপূর্ণ সদস্য রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন