সংবাদ

বোয়ালমারীতে খাল খননের নামে বৃক্ষ নিধন, শিক্ষকের বাড়ি থেকে ৬০ গুঁড়ি জব্দ


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

বোয়ালমারীতে খাল খননের নামে বৃক্ষ নিধন, শিক্ষকের বাড়ি থেকে ৬০ গুঁড়ি জব্দ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাল পাড়ের গাছ কেটে নেওয়ার পর অভিযুক্তের বাড়ি থেকে জব্দ। ছবি : সংবাদ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখননের নামে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের দুই শতাধিক মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ বিধ্বংসী এই ভয়ংকর ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী শনিবারের (২৩ মে) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদেরচাঁদ এলাকা থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত খালের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই খনন কাজের আড়ালে গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপিত প্রায় ১৫ বছর বয়সী মূল্যবান মেহগনি ও শিশু গাছ কেটে সটকে পড়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী একটি মহল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রায় দুই শতাধিক গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গত রোববার (১৭ মে) রাতে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তথা স্থানীয় সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিনের বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালান। এ সময় তার বাড়ি থেকে অবৈধভাবে কাটা গাছের অন্তত ৬০টি বড় গুঁড়ি জব্দ করা হয়। অভিযানের খবর পেয়েই অভিযুক্ত শিক্ষক হেমায়েত উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছেন।

গাছ কাটার এই ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সমর্থকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। তবে সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গাছ কাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে।’

উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে কাউকে গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। খনন কাজের প্রয়োজনে গাছ সরাতে হলেও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এখানে আইনের তোয়াক্কা না করে বড় ধরনের অপরাধ করা হয়েছে।’

বোয়ালমারী ইউএনও এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সম্পদ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। উদ্ধারকৃত গাছগুলো বিধি অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


বোয়ালমারীতে খাল খননের নামে বৃক্ষ নিধন, শিক্ষকের বাড়ি থেকে ৬০ গুঁড়ি জব্দ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখননের নামে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের দুই শতাধিক মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ বিধ্বংসী এই ভয়ংকর ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী শনিবারের (২৩ মে) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদেরচাঁদ এলাকা থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত খালের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই খনন কাজের আড়ালে গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপিত প্রায় ১৫ বছর বয়সী মূল্যবান মেহগনি ও শিশু গাছ কেটে সটকে পড়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী একটি মহল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রায় দুই শতাধিক গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গত রোববার (১৭ মে) রাতে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তথা স্থানীয় সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিনের বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালান। এ সময় তার বাড়ি থেকে অবৈধভাবে কাটা গাছের অন্তত ৬০টি বড় গুঁড়ি জব্দ করা হয়। অভিযানের খবর পেয়েই অভিযুক্ত শিক্ষক হেমায়েত উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছেন।

গাছ কাটার এই ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সমর্থকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। তবে সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গাছ কাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে।’

উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে কাউকে গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। খনন কাজের প্রয়োজনে গাছ সরাতে হলেও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এখানে আইনের তোয়াক্কা না করে বড় ধরনের অপরাধ করা হয়েছে।’

বোয়ালমারী ইউএনও এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সম্পদ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। উদ্ধারকৃত গাছগুলো বিধি অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত