ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ২৭ জন টিকা বহনকারী (পোর্টার)। দীর্ঘ সময় বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে তারা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন, যার ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের সন্তানদের পড়াশোনাও।
ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, বেতন না পেলেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। প্রতিদিন শহর থেকে শুরু করে দুর্গম এলাকাগুলোতে সময়মতো টিকা পৌঁছে দিচ্ছেন। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেতন পরিশোধের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার টিকা বহনকারী নাহিদ মিয়া বলেন, “বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে আমার ছয় সদস্যের সংসার। ১০ মাস বেতন না পাওয়ায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ করেছি। ঋণের চাপে পিষ্ট হলেও মানুষের সেবায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।”
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বকেয়া বেতনের দাবিতে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এসব কর্মী। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও অর্থ ছাড় না হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পোলিও নির্মূল, ধনুষ্টংকার প্রতিরোধ, হেপাটাইটিস-বি ও এমআরসহ বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে টিকার সরবরাহ বজায় রাখতে তারা নিরলস কাজ করেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেতন পরিশোধে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ২৭ জন টিকা বহনকারী (পোর্টার)। দীর্ঘ সময় বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে তারা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন, যার ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের সন্তানদের পড়াশোনাও।
ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, বেতন না পেলেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। প্রতিদিন শহর থেকে শুরু করে দুর্গম এলাকাগুলোতে সময়মতো টিকা পৌঁছে দিচ্ছেন। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেতন পরিশোধের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার টিকা বহনকারী নাহিদ মিয়া বলেন, “বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে আমার ছয় সদস্যের সংসার। ১০ মাস বেতন না পাওয়ায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ করেছি। ঋণের চাপে পিষ্ট হলেও মানুষের সেবায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।”
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বকেয়া বেতনের দাবিতে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এসব কর্মী। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও অর্থ ছাড় না হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পোলিও নির্মূল, ধনুষ্টংকার প্রতিরোধ, হেপাটাইটিস-বি ও এমআরসহ বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে টিকার সরবরাহ বজায় রাখতে তারা নিরলস কাজ করেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেতন পরিশোধে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন