সংবাদ

২০১৫ সালের ‘ক্রসফায়ার’

হাসানাত আব্দুল্লাহসহ ৪ জনের বিচার শুরু


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

 হাসানাত আব্দুল্লাহসহ ৪ জনের বিচার শুরু

২০১৫ সালে বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত। এ মামলায় উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং বরিশালের তৎকালীন এসপি একেএম এহসান উল্লাহ এখনো পলাতক রয়েছেন।

​আদালতের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন কাঠগড়ায় থাকা গ্রেপ্তার দুই আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। সে সময় তারা দোষ স্বীকার করবেন কি না? তা জানতে চাওয়া হলে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমরা নির্দোষ, আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।"

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) আমির হোসেন দায়িত্ব পালন করেন।

​এর আগে গত ১৪ মে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান আদালতে বলেছিলেন, "আমার মক্কেলরা এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট গল্পের মাধ্যমে প্রসিকিউশন তাদের এই মামলায় আসামি করেছে।"

পলাতক আসামিদের পক্ষেও একই দাবি জানিয়ে অব্যাহতির আবেদন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। তবে এর পাল্টা যুক্তিতে প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম আদালতে বলেন, "আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি আমাদের হাতে রয়েছে।" উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ বহাল রাখে।

​মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহতরা হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা। প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, টিপু ও কবির ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, "হাসানাতের নির্দেশে বরিশালের তৎকালীন এসপি এহসান উল্লাহ এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের কাজ করেন।" এরপর ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। পরে এএসআই মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

​দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক দশক আগের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি পদক্ষেপ নেয় নিহতদের পরিবার। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। মামলার প্রধান আসামি হাসানাত আব্দুল্লাহকে নিজ ঠিকানায় না পেয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।

সবশেষে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি আত্মসমর্পণ না করায় গত ২৫ মার্চ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


হাসানাত আব্দুল্লাহসহ ৪ জনের বিচার শুরু

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

২০১৫ সালে বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত। এ মামলায় উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং বরিশালের তৎকালীন এসপি একেএম এহসান উল্লাহ এখনো পলাতক রয়েছেন।

​আদালতের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন কাঠগড়ায় থাকা গ্রেপ্তার দুই আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। সে সময় তারা দোষ স্বীকার করবেন কি না? তা জানতে চাওয়া হলে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমরা নির্দোষ, আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।"

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) আমির হোসেন দায়িত্ব পালন করেন।

​এর আগে গত ১৪ মে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান আদালতে বলেছিলেন, "আমার মক্কেলরা এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট গল্পের মাধ্যমে প্রসিকিউশন তাদের এই মামলায় আসামি করেছে।"

পলাতক আসামিদের পক্ষেও একই দাবি জানিয়ে অব্যাহতির আবেদন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। তবে এর পাল্টা যুক্তিতে প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম আদালতে বলেন, "আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি আমাদের হাতে রয়েছে।" উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ বহাল রাখে।

​মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহতরা হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা। প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, টিপু ও কবির ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, "হাসানাতের নির্দেশে বরিশালের তৎকালীন এসপি এহসান উল্লাহ এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের কাজ করেন।" এরপর ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। পরে এএসআই মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

​দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক দশক আগের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি পদক্ষেপ নেয় নিহতদের পরিবার। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। মামলার প্রধান আসামি হাসানাত আব্দুল্লাহকে নিজ ঠিকানায় না পেয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।

সবশেষে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি আত্মসমর্পণ না করায় গত ২৫ মার্চ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত