সংবাদ

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি উত্তরবঙ্গে, নির্বিঘ্ন দক্ষিণাঞ্চলে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি উত্তরবঙ্গে, নির্বিঘ্ন দক্ষিণাঞ্চলে
বৃষ্টির মধ্যেই ট্রেনের ছাদে উঠে ঈদযাত্রা। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে সড়ক, রেল ও নৌপথে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি আর স্বস্তি ভাগ হয়ে গেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাস্তা ও সেতু স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিপরীতে উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ দেখা গেছি। যানজটের ওপর বৃষ্টি আর পানি জমে যাওয়ার কারণে উত্তরের ঈদযাত্রা ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই তিন জেলা দিয়ে ঢাকা থেকে সব যানবাহন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে তেমন যানজট নেই। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কোনাবাড়ির পর নূরবাগ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহন থেমে থেমে চলছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ৫-৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ফরেস্ট অফিসের সামনে আটকে পড়া অনেক যাত্রী গাড়ি না পেয়ে ট্রাকে উঠেছেন। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা ভিজে গেছেন। তাছাড়া যানজটের কারণে আধা ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগছে দুই ঘণ্টার বেশি।’

পুলিশ জানায়, সকালে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টায় ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কোনাবাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বাসসংকটের কারণে কেউ কেউ খোলা ট্রাক ও পিকআপে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বৃষ্টিতে এসব যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু উত্তরের মাওয়া টোল প্লাজায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা গেলেও যানজট নেই। এই রুটে স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মাওয়া টোল প্লাজায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপেক্ষা ছাড়াই টোল পরিশোধ করে সেতু পার হওয়া যাচ্ছে। 

রাজধানীর ফার্মগেট থেকে খুলনার দিকে রওনা হওয়া যাত্রী আশেকুল জানালেন, কোথাও যানজট না থাকায় দ্রুত সময়েই পদ্মা সেতু এলাকায় পৌঁছে গেছেন। এবার স্বস্তিতেই বাড়ি যেতে পারবেন বলে আশা করছেন।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল হায়দার বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতু এলাকায় কোথাও গাড়ির জটলা নেই। স্বাভাবিকভাবে যানবাহন পারাপার হচ্ছে।’ সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এদিকে, কালবৈশাখীর কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বেলা সোয়া ১১টা থেকে এই নৌপথে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন জানান, গত দুদিন ধরে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও যানবাহন বেড়েছে। আজ সকাল থেকে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি ছিল। হঠাৎ কালবৈশাখী শুরু হলে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ঘাট এলাকায় প্রায় অর্ধশত দূরপাল্লার বাস আটকা পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড গোলচত্বরের গর্তে পানি জমে গেছে। এতে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। গোলচত্বরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও সড়কের খানাখন্দের কারণে তিন-চার কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনগুলোর গতি কমে গেছে।

যানজটের পাশাপাশি যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ইজিবাইকে জনপ্রতি স্বাভাবিক ৭০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেকটায় স্বস্তিদায়ক হয়েছে। অপরদিকে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এখনও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় ভোগান্তি উত্তরবঙ্গে, নির্বিঘ্ন দক্ষিণাঞ্চলে

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে সড়ক, রেল ও নৌপথে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি আর স্বস্তি ভাগ হয়ে গেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাস্তা ও সেতু স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিপরীতে উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ দেখা গেছি। যানজটের ওপর বৃষ্টি আর পানি জমে যাওয়ার কারণে উত্তরের ঈদযাত্রা ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই তিন জেলা দিয়ে ঢাকা থেকে সব যানবাহন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে তেমন যানজট নেই। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কোনাবাড়ির পর নূরবাগ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহন থেমে থেমে চলছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ৫-৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ফরেস্ট অফিসের সামনে আটকে পড়া অনেক যাত্রী গাড়ি না পেয়ে ট্রাকে উঠেছেন। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা ভিজে গেছেন। তাছাড়া যানজটের কারণে আধা ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগছে দুই ঘণ্টার বেশি।’

পুলিশ জানায়, সকালে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টায় ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কোনাবাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বাসসংকটের কারণে কেউ কেউ খোলা ট্রাক ও পিকআপে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বৃষ্টিতে এসব যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু উত্তরের মাওয়া টোল প্লাজায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা গেলেও যানজট নেই। এই রুটে স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মাওয়া টোল প্লাজায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপেক্ষা ছাড়াই টোল পরিশোধ করে সেতু পার হওয়া যাচ্ছে। 

রাজধানীর ফার্মগেট থেকে খুলনার দিকে রওনা হওয়া যাত্রী আশেকুল জানালেন, কোথাও যানজট না থাকায় দ্রুত সময়েই পদ্মা সেতু এলাকায় পৌঁছে গেছেন। এবার স্বস্তিতেই বাড়ি যেতে পারবেন বলে আশা করছেন।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল হায়দার বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতু এলাকায় কোথাও গাড়ির জটলা নেই। স্বাভাবিকভাবে যানবাহন পারাপার হচ্ছে।’ সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এদিকে, কালবৈশাখীর কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বেলা সোয়া ১১টা থেকে এই নৌপথে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন জানান, গত দুদিন ধরে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও যানবাহন বেড়েছে। আজ সকাল থেকে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি ছিল। হঠাৎ কালবৈশাখী শুরু হলে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ঘাট এলাকায় প্রায় অর্ধশত দূরপাল্লার বাস আটকা পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড গোলচত্বরের গর্তে পানি জমে গেছে। এতে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। গোলচত্বরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও সড়কের খানাখন্দের কারণে তিন-চার কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনগুলোর গতি কমে গেছে।

যানজটের পাশাপাশি যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ইজিবাইকে জনপ্রতি স্বাভাবিক ৭০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেকটায় স্বস্তিদায়ক হয়েছে। অপরদিকে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এখনও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত