সংবাদ

রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যাচ্ছে বাংলাদেশের ৬ শিক্ষার্থী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যাচ্ছে বাংলাদেশের ৬ শিক্ষার্থী

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস কনফারেন্স ফর পিস: চিলড্রেন অ্যাজ দ্য পিসমেকারস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের ছয়জন তরুণ শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে তারা এই গৌরব অর্জন করেছে।

আগামী ১৮ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ার ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু কেন্দ্র ‘আরটেক’-এ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বখ্যাত আরটেক ক্যাম্পে তিন সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বিমান টিকিট পাবেন বলে সম্প্রতি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

​বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত এই তরুণ প্রতিনিধিরা হলেন: দিনাজপুরের টিউলিপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রেম জুনিয়র টি. হান্সডাক; ঢাকার মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের আহনাফ কাওছার ও জাহরান কাওছার; সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. দাইয়ান রহমান ও মো. আয়ান রহমান এবং ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের চৌধুরী মাহতাসিম মাসরাফি।

এই সম্মেলনে মূলত ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে বন্ধুত্ব, আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারণা জোরদার করা।

​আয়োজকরা আরও জানান, এই উদ্যোগটি মূলত ২০২৫ সালের ‘চিলড্রেনস ডিক্লারেশন অব পিস’-এর সাফল্যের একটি ধারাবাহিক অংশ। বিগত বছরের সেই শান্তি ঘোষণাটি বিশ্বের ৬৭টি দেশের ৩ হাজার ২০০ এর বেশি শিশু গ্রহণ করেছিল এবং পরবর্তীতে তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন আলোচনা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ কূটনীতিক ও শান্তি-নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করা।

​ইতিহাসে খ্যাত দুই শিশু শান্তিদূত, যুক্তরাষ্ট্রের সামান্থা স্মিথ এবং রাশিয়ার কাতিয়া লিচেভার ঐতিহাসিক ভূমিকার অনুপ্রেরণায় এই পুরো উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধের মতো কঠিন সময়ে এই দুই শিশু বিশ্বজুড়ে বন্ধুত্ব ও শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে আরটেকের অফিশিয়াল অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পাশাপাশি চলতি জুনের মাঝামাঝিতে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সংলাপ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যাচ্ছে বাংলাদেশের ৬ শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস কনফারেন্স ফর পিস: চিলড্রেন অ্যাজ দ্য পিসমেকারস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের ছয়জন তরুণ শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে তারা এই গৌরব অর্জন করেছে।

আগামী ১৮ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ার ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু কেন্দ্র ‘আরটেক’-এ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বখ্যাত আরটেক ক্যাম্পে তিন সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বিমান টিকিট পাবেন বলে সম্প্রতি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

​বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত এই তরুণ প্রতিনিধিরা হলেন: দিনাজপুরের টিউলিপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রেম জুনিয়র টি. হান্সডাক; ঢাকার মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের আহনাফ কাওছার ও জাহরান কাওছার; সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. দাইয়ান রহমান ও মো. আয়ান রহমান এবং ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের চৌধুরী মাহতাসিম মাসরাফি।

এই সম্মেলনে মূলত ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে বন্ধুত্ব, আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারণা জোরদার করা।

​আয়োজকরা আরও জানান, এই উদ্যোগটি মূলত ২০২৫ সালের ‘চিলড্রেনস ডিক্লারেশন অব পিস’-এর সাফল্যের একটি ধারাবাহিক অংশ। বিগত বছরের সেই শান্তি ঘোষণাটি বিশ্বের ৬৭টি দেশের ৩ হাজার ২০০ এর বেশি শিশু গ্রহণ করেছিল এবং পরবর্তীতে তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন আলোচনা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ কূটনীতিক ও শান্তি-নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করা।

​ইতিহাসে খ্যাত দুই শিশু শান্তিদূত, যুক্তরাষ্ট্রের সামান্থা স্মিথ এবং রাশিয়ার কাতিয়া লিচেভার ঐতিহাসিক ভূমিকার অনুপ্রেরণায় এই পুরো উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধের মতো কঠিন সময়ে এই দুই শিশু বিশ্বজুড়ে বন্ধুত্ব ও শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে আরটেকের অফিশিয়াল অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পাশাপাশি চলতি জুনের মাঝামাঝিতে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সংলাপ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত