সংবাদ

কালো টাকা হবে সাদা, উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

কালো টাকা হবে সাদা, উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়
ছবি : সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় (কালো টাকা) বৈধ করার সুযোগ রেখেছে। একই সঙ্গে এই টাকার উৎস নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, সে বিধানও রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। তবে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার এই বিধান অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়নি। এটি সরাসরি অর্থবিলের অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থবিল অনুযায়ী, আসন্ন জুলাই থেকে পরবর্তী জুন মাসের মধ্যে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই সুযোগ নেওয়া যাবে।

ক্রেতার সুবিধা: কোনো করদাতা জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি দামে কিনলে, সেই অতিরিক্ত অর্থের ওপর তিনি নিয়মিত করহারে আয়কর দিতে পারবেন। সেটি বৈধ হয়ে যাবে।

বিক্রেতার সুবিধা: কোনো করদাতা জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি দামে বিক্রি করলে, সেই অতিরিক্ত অর্থের ওপর তাকে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। সেটিও বৈধ হয়ে যাবে।

উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না: অর্থবিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বপ্রণোদিতভাবে প্রদর্শিত বিনিয়োগ বা ক্রয় বা প্রাপ্তির উৎস এবং এর বিপরীতে পরিশোধিত করের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।’

অর্থাৎ একবার কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করলে আর এর উৎস নিয়ে কেউ কিছু জানতে চাইতে পারবেন না। কোনো আইনি জটিলতাও তৈরি হবে না।

যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আদালতে মামলা চলছে অথবা যারা কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তারা এই সুযোগ পাবেন না।

এ ছাড়া, কেউ যদি স্বপ্রণোদিতভাবে কালো টাকা সাদা করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে অডিট বা কোনো আইনি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়, তাহলে তাকে স্বাভাবিক করের চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ছিল। সেখানেও উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বিধান রাখা হয়েছিল।

গত বছর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটেও এই সুযোগ রাখা হলেও সমালোচনার মুখে তা বাদ দেওয়া হয়। এবারের বাজেটে সেই সুযোগ ফিরিয়ে আনা হলো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


কালো টাকা হবে সাদা, উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় (কালো টাকা) বৈধ করার সুযোগ রেখেছে। একই সঙ্গে এই টাকার উৎস নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, সে বিধানও রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। তবে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার এই বিধান অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়নি। এটি সরাসরি অর্থবিলের অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থবিল অনুযায়ী, আসন্ন জুলাই থেকে পরবর্তী জুন মাসের মধ্যে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই সুযোগ নেওয়া যাবে।

ক্রেতার সুবিধা: কোনো করদাতা জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি দামে কিনলে, সেই অতিরিক্ত অর্থের ওপর তিনি নিয়মিত করহারে আয়কর দিতে পারবেন। সেটি বৈধ হয়ে যাবে।

বিক্রেতার সুবিধা: কোনো করদাতা জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি দামে বিক্রি করলে, সেই অতিরিক্ত অর্থের ওপর তাকে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। সেটিও বৈধ হয়ে যাবে।

উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না: অর্থবিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বপ্রণোদিতভাবে প্রদর্শিত বিনিয়োগ বা ক্রয় বা প্রাপ্তির উৎস এবং এর বিপরীতে পরিশোধিত করের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।’

অর্থাৎ একবার কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করলে আর এর উৎস নিয়ে কেউ কিছু জানতে চাইতে পারবেন না। কোনো আইনি জটিলতাও তৈরি হবে না।

যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আদালতে মামলা চলছে অথবা যারা কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তারা এই সুযোগ পাবেন না।

এ ছাড়া, কেউ যদি স্বপ্রণোদিতভাবে কালো টাকা সাদা করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে অডিট বা কোনো আইনি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়, তাহলে তাকে স্বাভাবিক করের চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ছিল। সেখানেও উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বিধান রাখা হয়েছিল।

গত বছর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটেও এই সুযোগ রাখা হলেও সমালোচনার মুখে তা বাদ দেওয়া হয়। এবারের বাজেটে সেই সুযোগ ফিরিয়ে আনা হলো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত