সংবাদ

ফুটবলকে আমেরিকানরা কেন 'সকার' বলে, জানুন এর চমকপ্রদ ইতিহাস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

ফুটবলকে আমেরিকানরা কেন 'সকার' বলে, জানুন এর চমকপ্রদ ইতিহাস

মজার বিষয় হলো, 'সকার' শব্দটির উপত্তি কিন্তু আমেরিকায় নয়, বরং ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে নতুন শব্দ বানানোর একটি প্রবণতা ছিল, যেখানে কোনো শব্দের শেষে 'আর' বা 'এর' যুক্ত করা হতো।

ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ছিল 'অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল', যা ১৮৬৩ সালে দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন খেলাটির নিয়মাবলি তৈরি করার পর প্রচলিত হয়। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা 'অ্যাসোসিয়েশন' শব্দটিকে সংক্ষেপে প্রথমে 'অ্যাসক' বলতেন, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় 'সকার'-এ। একইভাবে 'রাগবি ফুটবল' থেকে 'রাগার' নামেও একটি ডাকনাম তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

ব্রিটিশরাও একসময় 'সকার' শব্দটি ব্যবহার করত

আজকের দিনে অনেক ব্রিটিশ ফুটবলপ্রেমী 'সকার' শব্দটি শুনলে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু একসময় ব্রিটেনেই এই শব্দটি স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয় নিয়ে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো 'সকার' শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তার আত্মজীবনীতে এই শব্দ ব্যবহার করেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের সময়েও পত্রিকার শিরোনামে দেখা গিয়েছিল 'সকার' শব্দটি। ব্রিটেনের পরিচিত টিভি অনুষ্ঠান 'সকার এএম'-এর নামটিও ২০২৩ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।

আজও কেন যুক্তরাষ্ট্রে 'সকার' শব্দ চালু

মূল কারণ হলো বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে 'ফুটবল' শব্দটি দিয়ে সাধারণত আমেরিকান ফুটবল বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকার বল দিয়ে খেলা হয় এবং সেখানে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। তাই দুই খেলাকে পার্থক্য করার জন্যই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটিকে 'সকার' নামে ডাকার চল শুরু হয়, যা পরে স্থায়ী রূপ নেয়। অন্যদিকে ব্রিটেনে ধীরে ধীরে 'ফুটবল' শব্দটিই বেশি প্রচলিত হয়ে ওঠে এবং 'সকার' শব্দের ব্যবহার কমতে থাকে।

কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়

অনেকের ধারণা, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই এই শব্দটি প্রচলিত। কিন্তু বাস্তবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও 'সকার' শব্দের ব্যবহার দেখা যায়, যদিও এসব দেশের অনেকেই 'ফুটবল' শব্দটিও সমানভাবে ব্যবহার করেন।

বিভিন্ন ভাষায় ফুটবলের নাম

একই খেলা হলেও ভাষাভেদে এর নাম ভিন্ন। স্প্যানিশে এটি 'ফুতবল', জার্মান ভাষায় 'ফুসবল' এবং ফরাসি ভাষায় 'ল্য ফুত' নামে পরিচিত। নাম ও উচ্চারণ যাই হোক, খেলাটির প্রতি ভালোবাসা সবখানেই একই রকম।

শেষ কথা

২০২৬ বিশ্বকাপের আবহে 'ফুটবল' বনাম 'সকার' নিয়ে আলোচনা ফিরে এসেছে। কিন্তু ইতিহাসের চমকপ্রদ সত্য হলো, যে শব্দটিকে আজ অনেকে আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে করেন, তার শিকড় আসলে ইংল্যান্ডেই। তাই পরের বার কেউ যদি বলেন 'সকার' শব্দটি আমেরিকানদের তৈরি, নির্দ্বিধায় বলা যায় - এর জন্ম আটলান্টিকের অপর পাড়ে নয়, বরং ব্রিটেনেই।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ফুটবলকে আমেরিকানরা কেন 'সকার' বলে, জানুন এর চমকপ্রদ ইতিহাস

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

মজার বিষয় হলো, 'সকার' শব্দটির উপত্তি কিন্তু আমেরিকায় নয়, বরং ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে নতুন শব্দ বানানোর একটি প্রবণতা ছিল, যেখানে কোনো শব্দের শেষে 'আর' বা 'এর' যুক্ত করা হতো।

ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ছিল 'অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল', যা ১৮৬৩ সালে দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন খেলাটির নিয়মাবলি তৈরি করার পর প্রচলিত হয়। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা 'অ্যাসোসিয়েশন' শব্দটিকে সংক্ষেপে প্রথমে 'অ্যাসক' বলতেন, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় 'সকার'-এ। একইভাবে 'রাগবি ফুটবল' থেকে 'রাগার' নামেও একটি ডাকনাম তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

ব্রিটিশরাও একসময় 'সকার' শব্দটি ব্যবহার করত

আজকের দিনে অনেক ব্রিটিশ ফুটবলপ্রেমী 'সকার' শব্দটি শুনলে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু একসময় ব্রিটেনেই এই শব্দটি স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয় নিয়ে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো 'সকার' শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তার আত্মজীবনীতে এই শব্দ ব্যবহার করেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের সময়েও পত্রিকার শিরোনামে দেখা গিয়েছিল 'সকার' শব্দটি। ব্রিটেনের পরিচিত টিভি অনুষ্ঠান 'সকার এএম'-এর নামটিও ২০২৩ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।

আজও কেন যুক্তরাষ্ট্রে 'সকার' শব্দ চালু

মূল কারণ হলো বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে 'ফুটবল' শব্দটি দিয়ে সাধারণত আমেরিকান ফুটবল বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকার বল দিয়ে খেলা হয় এবং সেখানে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। তাই দুই খেলাকে পার্থক্য করার জন্যই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটিকে 'সকার' নামে ডাকার চল শুরু হয়, যা পরে স্থায়ী রূপ নেয়। অন্যদিকে ব্রিটেনে ধীরে ধীরে 'ফুটবল' শব্দটিই বেশি প্রচলিত হয়ে ওঠে এবং 'সকার' শব্দের ব্যবহার কমতে থাকে।

কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়

অনেকের ধারণা, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই এই শব্দটি প্রচলিত। কিন্তু বাস্তবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও 'সকার' শব্দের ব্যবহার দেখা যায়, যদিও এসব দেশের অনেকেই 'ফুটবল' শব্দটিও সমানভাবে ব্যবহার করেন।

বিভিন্ন ভাষায় ফুটবলের নাম

একই খেলা হলেও ভাষাভেদে এর নাম ভিন্ন। স্প্যানিশে এটি 'ফুতবল', জার্মান ভাষায় 'ফুসবল' এবং ফরাসি ভাষায় 'ল্য ফুত' নামে পরিচিত। নাম ও উচ্চারণ যাই হোক, খেলাটির প্রতি ভালোবাসা সবখানেই একই রকম।

শেষ কথা

২০২৬ বিশ্বকাপের আবহে 'ফুটবল' বনাম 'সকার' নিয়ে আলোচনা ফিরে এসেছে। কিন্তু ইতিহাসের চমকপ্রদ সত্য হলো, যে শব্দটিকে আজ অনেকে আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে করেন, তার শিকড় আসলে ইংল্যান্ডেই। তাই পরের বার কেউ যদি বলেন 'সকার' শব্দটি আমেরিকানদের তৈরি, নির্দ্বিধায় বলা যায় - এর জন্ম আটলান্টিকের অপর পাড়ে নয়, বরং ব্রিটেনেই।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত