ম্যাড়মেড়ে, নিস্তেজ আর ছকবাঁধা এক ফুটবল ম্যাচ। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৭৩ মিনিট পার হয়ে গেছে। গ্যালারিতে বসা দর্শকরা হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন, গোলশূন্য ড্রয়ের এক হতাশাজনক গল্প লিখতে যাচ্ছে দুই দল। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন সবটুকু নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ আর রোমাঞ্চকর শিহরণ জমিয়ে রেখেছিলেন শেষ ১৬ মিনিটের জন্য। ৭৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙার পর মাঠের চিত্রনাট্য বদলে গেল এক ঝটকায়। একের পর এক আক্রমণে বসনিয়ার রক্ষণব্যূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল সুইজারল্যান্ড। যোগ করা সময়ে দুই দলই জালের দেখা পেলেও, শেষ পর্যন্ত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসরের প্রথম জয়ের স্বাদ মেখে মাঠ ছাড়লো মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বকাপের ২৬তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বমঞ্চে আসা বসনিয়া শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করছিল। কিক অফের পর দশম মিনিটে ড্যান এনদোয়ির বাঁ পায়ের নিচু শট সাইড নেটে লাগলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বসনিয়া। ১৩ মিনিটে অধিনায়ক জাকার রক্ষণভেদী পাস থেকে ড্যান রিডার বল বাড়িয়ে দিলেও ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারেননি এনদোদেই। ২৩ মিনিটে রেমো ফ্রয়লারের দূরপাল্লার জোরালো শট গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
তবে বসনিয়াও বসে ছিল না। ৩২ মিনিটে তরুণ আলাজবেগোভিকের পাস থেকে সুইস বক্সে বল পান অভিজ্ঞ এডিন জেকো। ৪০ মিনিটে জেকো যখন শট নিতে প্রস্তুত, ঠিক তখনই বাজপাখির মতো এসে তা রুখে দেন সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি। বিরতির পর ৫১ মিনিটে আবারও এনদোদেইয়ের নিচু শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিলজ।
১৬ মিনিট বাকি থাকার আগ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে এক পয়েন্টের স্বপ্ন দেখছিল পূর্ব ইউরোপের দেশটি। কিন্তু ৭৪ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের দুই বদলি ফুটবলারের রসায়নে ধসে পড়ে বসনিয়ার দুর্গ। বাঁ প্রান্ত থেকে ভার্গাসের বাড়ানো বল যখন বসনিয়ার ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে পারেননি, তখন বাতাসে ভাসতে থাকা বলটিকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক বডি টার্নে জালে জড়ান মানজাম্বি। বসনিয়ার গোলকিপার হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রুখতে পারেননি। ১-০ তে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।
প্রথম গোলের পর সুইসদের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৮৫ মিনিটে এমবোলোর পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে নিখুঁত কোণাকুণি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লেফট উইঙ্গার রুবেন ভারগাস। ম্যাচের ৯০ মিনিটে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার পাস থেকে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন মানজাম্বি। স্কোরলাইন তখন ৩-০। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের (৯০+৩ মিনিট) মাথায় বসনিয়ার হয়ে সান্ত্বনাসূচক এক গোল শোধ করেন এরমিন মাহমিচ।
তবে নাটকের তখনও শেষ ছিল না। ঠিক চার মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথার শটে বসনিয়ার জালে গোলের হালি পূরণ করেন খোদ সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। এই জাদুকরী জয়ে 'বি' গ্রুপে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করলো সুইজারল্যান্ড। আর এই হারে তলানিতেই পড়ে রইলো লড়াকু বসনিয়া।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
ম্যাড়মেড়ে, নিস্তেজ আর ছকবাঁধা এক ফুটবল ম্যাচ। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৭৩ মিনিট পার হয়ে গেছে। গ্যালারিতে বসা দর্শকরা হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন, গোলশূন্য ড্রয়ের এক হতাশাজনক গল্প লিখতে যাচ্ছে দুই দল। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন সবটুকু নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ আর রোমাঞ্চকর শিহরণ জমিয়ে রেখেছিলেন শেষ ১৬ মিনিটের জন্য। ৭৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙার পর মাঠের চিত্রনাট্য বদলে গেল এক ঝটকায়। একের পর এক আক্রমণে বসনিয়ার রক্ষণব্যূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল সুইজারল্যান্ড। যোগ করা সময়ে দুই দলই জালের দেখা পেলেও, শেষ পর্যন্ত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসরের প্রথম জয়ের স্বাদ মেখে মাঠ ছাড়লো মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বকাপের ২৬তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বমঞ্চে আসা বসনিয়া শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করছিল। কিক অফের পর দশম মিনিটে ড্যান এনদোয়ির বাঁ পায়ের নিচু শট সাইড নেটে লাগলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বসনিয়া। ১৩ মিনিটে অধিনায়ক জাকার রক্ষণভেদী পাস থেকে ড্যান রিডার বল বাড়িয়ে দিলেও ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারেননি এনদোদেই। ২৩ মিনিটে রেমো ফ্রয়লারের দূরপাল্লার জোরালো শট গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
তবে বসনিয়াও বসে ছিল না। ৩২ মিনিটে তরুণ আলাজবেগোভিকের পাস থেকে সুইস বক্সে বল পান অভিজ্ঞ এডিন জেকো। ৪০ মিনিটে জেকো যখন শট নিতে প্রস্তুত, ঠিক তখনই বাজপাখির মতো এসে তা রুখে দেন সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি। বিরতির পর ৫১ মিনিটে আবারও এনদোদেইয়ের নিচু শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিলজ।
১৬ মিনিট বাকি থাকার আগ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে এক পয়েন্টের স্বপ্ন দেখছিল পূর্ব ইউরোপের দেশটি। কিন্তু ৭৪ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের দুই বদলি ফুটবলারের রসায়নে ধসে পড়ে বসনিয়ার দুর্গ। বাঁ প্রান্ত থেকে ভার্গাসের বাড়ানো বল যখন বসনিয়ার ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে পারেননি, তখন বাতাসে ভাসতে থাকা বলটিকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক বডি টার্নে জালে জড়ান মানজাম্বি। বসনিয়ার গোলকিপার হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রুখতে পারেননি। ১-০ তে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।
প্রথম গোলের পর সুইসদের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৮৫ মিনিটে এমবোলোর পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে নিখুঁত কোণাকুণি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লেফট উইঙ্গার রুবেন ভারগাস। ম্যাচের ৯০ মিনিটে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার পাস থেকে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন মানজাম্বি। স্কোরলাইন তখন ৩-০। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের (৯০+৩ মিনিট) মাথায় বসনিয়ার হয়ে সান্ত্বনাসূচক এক গোল শোধ করেন এরমিন মাহমিচ।
তবে নাটকের তখনও শেষ ছিল না। ঠিক চার মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথার শটে বসনিয়ার জালে গোলের হালি পূরণ করেন খোদ সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। এই জাদুকরী জয়ে 'বি' গ্রুপে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করলো সুইজারল্যান্ড। আর এই হারে তলানিতেই পড়ে রইলো লড়াকু বসনিয়া।

আপনার মতামত লিখুন