সংবাদ

বিশ্বকাপে বলের ভেতরে কম্পিউটার!


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

বিশ্বকাপে বলের ভেতরে কম্পিউটার!
ছবি: এআই

বর্তমানে ফুটবল বল আর নিছক চামড়া-রাবার নয়, তা ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ ডিভাইস! ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে অ্যাডিডাস ‘টেলস্টার ১৮’ বাজারে আনে। যার ভেতরে ছিল ‘নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন’ চিপ বসানো। আপনার স্মার্টফোনকে বলের কাছে ধরলেই তা সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। বলে লেখা থাকতো বিশেষ ডেটা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আসে ‘আল রিহলা’।  আরবি এই শব্দের অর্থ ‘যাত্রা’। এটি ছিল পুরোপুরি সাসটেইনেবল উপাদানে তৈরি। আর ছিল অভ্যন্তরীণ সেন্সর। যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য পাঠাত।

২০২৬ বিশ্বকাপে চমক

অ্যাডিডাস ‘কনেভার্স’ বল নিয়ে আসছে যার ভেতরে থাকবে ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট চিপ। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের ত্বরণ, স্পিন, ঘূর্ণন ও গতিপথ রেকর্ড করবে। এই ডেটা সরাসরি চলবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেমে। ফলে হাতে বল লাগা, অফসাইডের আগে-পরে টাচ- এসব সিদ্ধান্ত হবে যান্ত্রিকভাবে নির্ভুল। বিজ্ঞান বলছে, হাতের স্পর্শ এখন চিপের কাছে ধরা খাবে!

একটি ফুটবল বলের দাম যেমন ১৫ ডলার থেকে ১৫০ ডলার (বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল)। তার বাজার কিন্তু কয়েক বিলিয়ন ডলারের। শুধু অ্যাডিডাস প্রতি বিশ্বকাপে ৪০ মিলিয়নেরও বেশি বল বিক্রি করে। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে তৈরি হয় পৃথিবীর ৭০ শতাংশ ফুটবল বল। সিয়ালকোট (পাকিস্তান) শহরটি ‘বিশ্বের ফুটবল রাজধানী’ এখানে হাতে সেলাই করা বলের কারিগরির ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে।

কিন্তু বাণিজ্যের আরেক অধ্যায় হলো নকল বল। বিশ্বের ৩০ শতাংশ ফুটবল বল নকল, যা ব্র্যান্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ- এমনকি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বলের নকলও বাজারে ছড়িয়ে পড়ে ফাইনালের আগেই!

বলের সবুজ বিপ্লব

জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে ফুটবল বলও বদলাচ্ছে। অ্যাডিডাস ঘোষণা করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের বলগুলো তৈরি করা হবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিয়েস্টার এবং উদ্ভিদভিত্তিক উপাদানে। আগের সিনথেটিক বলগুলোতে পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবহার হতো, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নতুন এই বলগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাবে। সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকও ব্যবহার করা হচ্ছে।

আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন, কোনো ফ্রি-কিকে বল বাঁকা পথে ঘুরে গোল হয়? এটি কিন্তু জাদু নয়, এটি ম্যাগনাস ইফেক্ট। যখন বল নিজের অক্ষে ঘুরতে থাকে, তখন তার পাশ দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হয়। বলের এক পাশে চাপ কম, অন্য পাশে বেশি হয়- ফলে বল বাঁকে।

রোনালদোর নাকি ‘নকল-ফ্লাইট’ বল আছে যা বাতাসে অপ্রত্যাশিতভাবে দুলে ওঠে। আদতে এটি অ্যারোডাইনামিক অস্থিরতা- বলের প্যানেলের সীমা রেখা এবং বাতাসের ঘর্ষণ তার গতিপথকে বিশৃঙ্খল করে তোলে। আর এই বিশৃঙ্খলাই ফুটবলকে ফুটবল করে তোলে!

এআই ছবি

পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ক্লাব, সবচেয়ে বড় তারকা, সবচেয়ে উত্তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা- সবকিছুই কেন্দ্রীভূত হয় এই ৪১০-৪৫০ গ্রাম ওজনের একটি বস্তুর ওপর। যে বল আজ একটি শিশুর হাতে খেলনা, কাল এক জাতির স্বপ্ন, পরশু এক ব্যবসায়ীর পণ্য আর ফাইনালের ৯০ মিনিটে তা হয়ে ওঠে ৮০০ কোটি মানুষের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু।

তাই পরের বার যখন কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখবেন, মনে রাখবেন- শুধু খেলোয়াড়রা নয়, সেই বলটিও বহন করছে ইতিহাসের গাম্ভীর্য, বিজ্ঞানের নির্ভুলতা, ব্যবসার হিসেব, এবং অজস্র মানুষের বিশ্বাস, কুসংস্কার আর আবেগ। পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলক এটি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


বিশ্বকাপে বলের ভেতরে কম্পিউটার!

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

বর্তমানে ফুটবল বল আর নিছক চামড়া-রাবার নয়, তা ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ ডিভাইস! ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে অ্যাডিডাস ‘টেলস্টার ১৮’ বাজারে আনে। যার ভেতরে ছিল ‘নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন’ চিপ বসানো। আপনার স্মার্টফোনকে বলের কাছে ধরলেই তা সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। বলে লেখা থাকতো বিশেষ ডেটা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আসে ‘আল রিহলা’।  আরবি এই শব্দের অর্থ ‘যাত্রা’। এটি ছিল পুরোপুরি সাসটেইনেবল উপাদানে তৈরি। আর ছিল অভ্যন্তরীণ সেন্সর। যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য পাঠাত।

২০২৬ বিশ্বকাপে চমক

অ্যাডিডাস ‘কনেভার্স’ বল নিয়ে আসছে যার ভেতরে থাকবে ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট চিপ। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের ত্বরণ, স্পিন, ঘূর্ণন ও গতিপথ রেকর্ড করবে। এই ডেটা সরাসরি চলবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেমে। ফলে হাতে বল লাগা, অফসাইডের আগে-পরে টাচ- এসব সিদ্ধান্ত হবে যান্ত্রিকভাবে নির্ভুল। বিজ্ঞান বলছে, হাতের স্পর্শ এখন চিপের কাছে ধরা খাবে!

একটি ফুটবল বলের দাম যেমন ১৫ ডলার থেকে ১৫০ ডলার (বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল)। তার বাজার কিন্তু কয়েক বিলিয়ন ডলারের। শুধু অ্যাডিডাস প্রতি বিশ্বকাপে ৪০ মিলিয়নেরও বেশি বল বিক্রি করে। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে তৈরি হয় পৃথিবীর ৭০ শতাংশ ফুটবল বল। সিয়ালকোট (পাকিস্তান) শহরটি ‘বিশ্বের ফুটবল রাজধানী’ এখানে হাতে সেলাই করা বলের কারিগরির ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে।

কিন্তু বাণিজ্যের আরেক অধ্যায় হলো নকল বল। বিশ্বের ৩০ শতাংশ ফুটবল বল নকল, যা ব্র্যান্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ- এমনকি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বলের নকলও বাজারে ছড়িয়ে পড়ে ফাইনালের আগেই!

বলের সবুজ বিপ্লব

জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে ফুটবল বলও বদলাচ্ছে। অ্যাডিডাস ঘোষণা করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের বলগুলো তৈরি করা হবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিয়েস্টার এবং উদ্ভিদভিত্তিক উপাদানে। আগের সিনথেটিক বলগুলোতে পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবহার হতো, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নতুন এই বলগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাবে। সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকও ব্যবহার করা হচ্ছে।

আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন, কোনো ফ্রি-কিকে বল বাঁকা পথে ঘুরে গোল হয়? এটি কিন্তু জাদু নয়, এটি ম্যাগনাস ইফেক্ট। যখন বল নিজের অক্ষে ঘুরতে থাকে, তখন তার পাশ দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হয়। বলের এক পাশে চাপ কম, অন্য পাশে বেশি হয়- ফলে বল বাঁকে।

রোনালদোর নাকি ‘নকল-ফ্লাইট’ বল আছে যা বাতাসে অপ্রত্যাশিতভাবে দুলে ওঠে। আদতে এটি অ্যারোডাইনামিক অস্থিরতা- বলের প্যানেলের সীমা রেখা এবং বাতাসের ঘর্ষণ তার গতিপথকে বিশৃঙ্খল করে তোলে। আর এই বিশৃঙ্খলাই ফুটবলকে ফুটবল করে তোলে!

এআই ছবি

পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ক্লাব, সবচেয়ে বড় তারকা, সবচেয়ে উত্তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা- সবকিছুই কেন্দ্রীভূত হয় এই ৪১০-৪৫০ গ্রাম ওজনের একটি বস্তুর ওপর। যে বল আজ একটি শিশুর হাতে খেলনা, কাল এক জাতির স্বপ্ন, পরশু এক ব্যবসায়ীর পণ্য আর ফাইনালের ৯০ মিনিটে তা হয়ে ওঠে ৮০০ কোটি মানুষের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু।

তাই পরের বার যখন কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখবেন, মনে রাখবেন- শুধু খেলোয়াড়রা নয়, সেই বলটিও বহন করছে ইতিহাসের গাম্ভীর্য, বিজ্ঞানের নির্ভুলতা, ব্যবসার হিসেব, এবং অজস্র মানুষের বিশ্বাস, কুসংস্কার আর আবেগ। পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলক এটি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত