সংবাদ

৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচল ঘরের মাঠে: কাতারকে উড়িয়ে কানাডার ঐতিহাসিক জয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচল ঘরের মাঠে: কাতারকে উড়িয়ে কানাডার ঐতিহাসিক জয়

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম পা রেখেছিল উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তারা অংশ নেয়। কিন্তু এই দুটি বিশ্বকাপে খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতেই তাদের সঙ্গী হয়েছিল হারের তেতো স্বাদ। কোনো জয় তো দূরের কথা, ড্রয়ের আনন্দও অধরা ছিল দলটির কাছে। অবশেষে নিজেদের চেনা আঙিনায়, ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে ঘুচল সেই দীর্ঘ ৩৬ বছরের আক্ষেপ। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয়ের দেখা পেল কানাডা। আর এই ইতিহাস গড়ার পথে তারা রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে গত ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারের সাথে।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে বিশ্বকাপের 'বি' গ্রুপের ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে কানাডা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের লিড নিয়ে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনবার কাতারের জাল কাঁপান জনাথন ডেভিড ও স্টিফেন উস্তাকুইয়োরা। ম্যাচের মূল নায়ক জুভেন্টাসে খেলা তারকা ফুটবলার জনাথন ডেভিড, যিনি মেতেছিলেন চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিকে। ডেভিডের এই হ্যাটট্রিক কেবল কানাডাকে জয়ই এনে দেয়নি, তাকে বসিয়েছে ইতিহাসের এক অনন্য আসনে।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে আয়োজক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রথম হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কিংবদন্তি জিওফ হার্স্ট।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩০তম স্থানে থাকা কানাডার সামনে যেন দাঁড়াতেই পারেনি ২৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা কাতার। পুরো ম্যাচে ৭৯ শতাংশ বল দখলে রেখে ৩৩টি শট নেয় জেসি মার্শের শিষ্যরা, যার মধ্যে ১০টিই ছিল লক্ষ্যে। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে রেকর্ড ৯৭ বার বল স্পর্শ করে কানাডার ফরোয়ার্ডরা। উল্টো দিকে দুটি লাল কার্ড দেখে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া কাতার পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র দুটি শট নিতে পারে, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। এই ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোলব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে সহ-আয়োজক কানাডা।

প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের দেখা পেয়েছিল কানাডা। আর এবার আসলো বহুল প্রতীক্ষিত সেই প্রথম জয়। এখন দলটির সামনে নকআউট পর্বে যাওয়ার নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র এক পয়েন্ট বা একটি ড্র আদায় করতে পারলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত হবে তাদের। শুধু তাই নয়, ড্র করতে পারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘরের মাঠেই রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ খেলার দারুণ সুযোগ পাবে উজ্জীবিত কানাডা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচল ঘরের মাঠে: কাতারকে উড়িয়ে কানাডার ঐতিহাসিক জয়

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম পা রেখেছিল উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তারা অংশ নেয়। কিন্তু এই দুটি বিশ্বকাপে খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতেই তাদের সঙ্গী হয়েছিল হারের তেতো স্বাদ। কোনো জয় তো দূরের কথা, ড্রয়ের আনন্দও অধরা ছিল দলটির কাছে। অবশেষে নিজেদের চেনা আঙিনায়, ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে ঘুচল সেই দীর্ঘ ৩৬ বছরের আক্ষেপ। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয়ের দেখা পেল কানাডা। আর এই ইতিহাস গড়ার পথে তারা রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে গত ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারের সাথে।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে বিশ্বকাপের 'বি' গ্রুপের ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে কানাডা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের লিড নিয়ে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনবার কাতারের জাল কাঁপান জনাথন ডেভিড ও স্টিফেন উস্তাকুইয়োরা। ম্যাচের মূল নায়ক জুভেন্টাসে খেলা তারকা ফুটবলার জনাথন ডেভিড, যিনি মেতেছিলেন চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিকে। ডেভিডের এই হ্যাটট্রিক কেবল কানাডাকে জয়ই এনে দেয়নি, তাকে বসিয়েছে ইতিহাসের এক অনন্য আসনে।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে আয়োজক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রথম হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কিংবদন্তি জিওফ হার্স্ট।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩০তম স্থানে থাকা কানাডার সামনে যেন দাঁড়াতেই পারেনি ২৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা কাতার। পুরো ম্যাচে ৭৯ শতাংশ বল দখলে রেখে ৩৩টি শট নেয় জেসি মার্শের শিষ্যরা, যার মধ্যে ১০টিই ছিল লক্ষ্যে। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে রেকর্ড ৯৭ বার বল স্পর্শ করে কানাডার ফরোয়ার্ডরা। উল্টো দিকে দুটি লাল কার্ড দেখে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া কাতার পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র দুটি শট নিতে পারে, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। এই ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোলব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে সহ-আয়োজক কানাডা।

প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের দেখা পেয়েছিল কানাডা। আর এবার আসলো বহুল প্রতীক্ষিত সেই প্রথম জয়। এখন দলটির সামনে নকআউট পর্বে যাওয়ার নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র এক পয়েন্ট বা একটি ড্র আদায় করতে পারলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত হবে তাদের। শুধু তাই নয়, ড্র করতে পারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘরের মাঠেই রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ খেলার দারুণ সুযোগ পাবে উজ্জীবিত কানাডা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত