আটলান্টার স্টেডিয়ামে তখন সবেমাত্র গ্যালারির দর্শক আসন গ্রহণ করছেন। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন মাত্র ছয় মিনিট। ঠিক তখনই মাঠজুড়ে এক অবিশ্বাস্য উল্লাস। চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলটি করে চেক রিপাবলিককে উল্লাসে ভাসালেন সাদিলেক। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে হতভম্ব হয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। বল পজেশন ধরে রেখেও প্রথমার্ধে কার্যকরী কোনো আক্রমণ শাণাতে পারছিল না আফ্রিকানরা। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। আফ্রিকানদের মুহুর্মুহ আক্রমণের তোড়ে শেষ পর্যন্ত আর রক্ষণ ধরে রাখতে পারল না চেকিয়ারা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি ড্র হওয়ায় দুই দলেরই নকআউট পর্বের সমীকরণ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ল। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এই দুই দলই একের অধিক ম্যাচ খেলে ফেলল। টুর্নামেন্টের ২৫তম ম্যাচে এসে এটি ছিল ১০ম ড্র। এই ড্রয়ের পর দুটি করে ম্যাচ খেলে সমান এক পয়েন্ট করে ঝুলিতে পুরল চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই গ্রুপে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো, যাদের পয়েন্ট তিন। আর সহ-আয়োজকদের সমান পয়েন্ট পেয়ে গোল ব্যবধানে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে দক্ষিণ কোরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার হাতেই ছিল। পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। দলটির নেওয়া ১২টি শটের ৪টিই ছিল অন টার্গেট। অন্যদিকে মাত্র ৩৯ শতাংশ বল পজেশন রাখা চেকিয়া ৯টি শট নিলেও কেবল দুটি ছিল গোলমুখে। অথচ ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। খেলার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই একটি নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে চেকিয়া। বক্সের পেছনের পোস্টের দিকে ভাসিয়ে দেওয়া চমৎকার একটি ক্রস চলে আসে শিকের কাছে। হেডের জন্য তিনি যথেষ্ট সময় ও ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলেন, কিন্তু বলের সাথে টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়ায় তাঁর হেডটি গোলপোস্টের বাইরে চলে যায়। তবে চার মিনিট পরেই সাদিলেকের সেই জাদুকরী গোল পুরো দলকে স্বস্তি এনে দেয়।
১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে লড়তে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দক্ষিণ আফ্রিকার ফরোয়ার্ড তাপেলো মাসেলো ডান দিক দিয়ে তীব্র গতিতে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকেই শট নেন। তাঁর বাঁ পায়ের জোরালো শটটি লাইনে থাকা চেক রিপাবলিকের স্ট্রাইকার পাভেল সুলকের হাতে আঘাত করে। হ্যান্ডবলের কারণে রেফারি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সফল স্পট কিকে চেকিয়া গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনা। সমতায় ফেরার পর যেন আরও হিংস্র হয়ে ওঠে আফ্রিকা। ৮৭ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের আরও একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিল তারা। তবে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া প্যাট্রিক শিকের গতিময় শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন চেকিয়ার গোলকিপার মাতেজ কোভার। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে মাঠজুড়ে আফসোসের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সমতায় শেষ হয় মাঠের যুদ্ধ।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
আটলান্টার স্টেডিয়ামে তখন সবেমাত্র গ্যালারির দর্শক আসন গ্রহণ করছেন। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন মাত্র ছয় মিনিট। ঠিক তখনই মাঠজুড়ে এক অবিশ্বাস্য উল্লাস। চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলটি করে চেক রিপাবলিককে উল্লাসে ভাসালেন সাদিলেক। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে হতভম্ব হয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। বল পজেশন ধরে রেখেও প্রথমার্ধে কার্যকরী কোনো আক্রমণ শাণাতে পারছিল না আফ্রিকানরা। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। আফ্রিকানদের মুহুর্মুহ আক্রমণের তোড়ে শেষ পর্যন্ত আর রক্ষণ ধরে রাখতে পারল না চেকিয়ারা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি ড্র হওয়ায় দুই দলেরই নকআউট পর্বের সমীকরণ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ল। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এই দুই দলই একের অধিক ম্যাচ খেলে ফেলল। টুর্নামেন্টের ২৫তম ম্যাচে এসে এটি ছিল ১০ম ড্র। এই ড্রয়ের পর দুটি করে ম্যাচ খেলে সমান এক পয়েন্ট করে ঝুলিতে পুরল চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই গ্রুপে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো, যাদের পয়েন্ট তিন। আর সহ-আয়োজকদের সমান পয়েন্ট পেয়ে গোল ব্যবধানে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে দক্ষিণ কোরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার হাতেই ছিল। পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। দলটির নেওয়া ১২টি শটের ৪টিই ছিল অন টার্গেট। অন্যদিকে মাত্র ৩৯ শতাংশ বল পজেশন রাখা চেকিয়া ৯টি শট নিলেও কেবল দুটি ছিল গোলমুখে। অথচ ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। খেলার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই একটি নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে চেকিয়া। বক্সের পেছনের পোস্টের দিকে ভাসিয়ে দেওয়া চমৎকার একটি ক্রস চলে আসে শিকের কাছে। হেডের জন্য তিনি যথেষ্ট সময় ও ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলেন, কিন্তু বলের সাথে টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়ায় তাঁর হেডটি গোলপোস্টের বাইরে চলে যায়। তবে চার মিনিট পরেই সাদিলেকের সেই জাদুকরী গোল পুরো দলকে স্বস্তি এনে দেয়।
১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে লড়তে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দক্ষিণ আফ্রিকার ফরোয়ার্ড তাপেলো মাসেলো ডান দিক দিয়ে তীব্র গতিতে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকেই শট নেন। তাঁর বাঁ পায়ের জোরালো শটটি লাইনে থাকা চেক রিপাবলিকের স্ট্রাইকার পাভেল সুলকের হাতে আঘাত করে। হ্যান্ডবলের কারণে রেফারি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সফল স্পট কিকে চেকিয়া গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনা। সমতায় ফেরার পর যেন আরও হিংস্র হয়ে ওঠে আফ্রিকা। ৮৭ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের আরও একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিল তারা। তবে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া প্যাট্রিক শিকের গতিময় শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন চেকিয়ার গোলকিপার মাতেজ কোভার। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে মাঠজুড়ে আফসোসের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সমতায় শেষ হয় মাঠের যুদ্ধ।

আপনার মতামত লিখুন