বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি মুহূর্তই যেন এক একটি নাটক। কখনো সেখানে লেখা হয় বীরত্বের গল্প, আবার কখনো একটিমাত্র ভুল রূপ নেয় আজীবনের ট্র্যাজেডিতে। গুয়াদালাজারায় ঠিক তেমনই এক রুদ্ধশ্বাস ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। গোলের জন্য মরিয়া দুই দলের লড়াই যখন সমানে-সমান, ঠিক তখনই পেনাল্টি বক্সে ভাগ্যদেবী সহায় হলেন স্বাগতিক মেক্সিকোর।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউয়ের এক মুহূর্তের অসাবধানতা আর হাত ফসকে যাওয়া বল মেক্সিকোকে এনে দিল আনন্দের জোয়ার, আর কোরিয়ান শিবিরে নামিয়ে আনল বুকভাঙা হতাশা। উপহার পাওয়া সেই বল ফাঁকা জালে জড়িয়ে লুইস রোমো মেক্সিকোকে উল্লাসে ভাসালেন, যার ওপর ভর করে সবার আগে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করল সহ-স্বাগতিক দেশ।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া এই ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকেই মাঠের লড়াই ছিল সমানে-সমান। বল দখলের লড়াইয়ে ৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিল দক্ষিণ কোরিয়াই। দুই দলই গোলের উদ্দেশ্যে সমান ৮টি করে শট নিয়েছিল, তবে মেক্সিকোর শটগুলো ছিল বেশি লক্ষ্যভেদী। প্রথমার্ধে দুই দলের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের তীব্র লড়াইয়ে গোলের তালা ভাঙা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বিরতির পর ফিরতেই ম্যাচের ৫০ মিনিটে আসে সেই ভাগ্যনির্ধারণী মুহূর্ত। বাম পাশ থেকে বক্সের ভেতরে চমৎকার একটি ক্রস বাড়িয়েছিলেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কুইনেনোস।
কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ বলটি রুখে দিতে এগিয়ে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরমুহূর্তেই তার বিশ্বস্ত গ্লাভস গলে বলটি বেরিয়ে যায়। ঠিক তখন পেনাল্টি স্পটের কাছে একবারে ফাঁকায় দাঁড়িয়েছিলেন মেক্সিকান মিডফিল্ডার লুইস রোমো। এমন উপহার হাতছাড়া করেননি ৩১ বছর বয়সী এই তারকা। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বলটি ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন তিনি। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন স্বাগতিক মেক্সিকান দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকার ও উল্লাস।
নিজেদের এক অবিশ্বাস্য ভুলে গোল হজম করার পর যেন মাঠেই পাথর হয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলাররা। গোলরক্ষকের সেই ভুল যেন পুরো দলের মনোবল কিছুটা নাড়িয়ে দেয়। অবশ্য ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল এশিয়ান পরাশক্তিরা। গোল শোধের জন্য তারা একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে বেশ কিছু চমৎকার সুযোগও তৈরি করেছিল। কিন্তু মেক্সিকোর জমাট রক্ষণভাগ আর নিজেদের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত জালের দেখা পায়নি তারা। ফলে সমানে-সমান লড়েও একরাশ আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কোরিয়াকে।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দারুণ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলেও, এই হারের ফলে এখন নকআউট পর্ব নিশ্চিতের জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে অপেক্ষায় থাকতে হবে গ্রুপের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। অন্যদিকে, 'এ' গ্রুপে টানা দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে মেক্সিকো পা রাখল দ্বিতীয় রাউন্ডে। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কোরিয়ার পেছনে ১ পয়েন্ট করে নিয়ে ওত পেতে আছে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি মুহূর্তই যেন এক একটি নাটক। কখনো সেখানে লেখা হয় বীরত্বের গল্প, আবার কখনো একটিমাত্র ভুল রূপ নেয় আজীবনের ট্র্যাজেডিতে। গুয়াদালাজারায় ঠিক তেমনই এক রুদ্ধশ্বাস ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। গোলের জন্য মরিয়া দুই দলের লড়াই যখন সমানে-সমান, ঠিক তখনই পেনাল্টি বক্সে ভাগ্যদেবী সহায় হলেন স্বাগতিক মেক্সিকোর।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউয়ের এক মুহূর্তের অসাবধানতা আর হাত ফসকে যাওয়া বল মেক্সিকোকে এনে দিল আনন্দের জোয়ার, আর কোরিয়ান শিবিরে নামিয়ে আনল বুকভাঙা হতাশা। উপহার পাওয়া সেই বল ফাঁকা জালে জড়িয়ে লুইস রোমো মেক্সিকোকে উল্লাসে ভাসালেন, যার ওপর ভর করে সবার আগে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করল সহ-স্বাগতিক দেশ।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া এই ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকেই মাঠের লড়াই ছিল সমানে-সমান। বল দখলের লড়াইয়ে ৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিল দক্ষিণ কোরিয়াই। দুই দলই গোলের উদ্দেশ্যে সমান ৮টি করে শট নিয়েছিল, তবে মেক্সিকোর শটগুলো ছিল বেশি লক্ষ্যভেদী। প্রথমার্ধে দুই দলের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের তীব্র লড়াইয়ে গোলের তালা ভাঙা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বিরতির পর ফিরতেই ম্যাচের ৫০ মিনিটে আসে সেই ভাগ্যনির্ধারণী মুহূর্ত। বাম পাশ থেকে বক্সের ভেতরে চমৎকার একটি ক্রস বাড়িয়েছিলেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কুইনেনোস।
কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ বলটি রুখে দিতে এগিয়ে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরমুহূর্তেই তার বিশ্বস্ত গ্লাভস গলে বলটি বেরিয়ে যায়। ঠিক তখন পেনাল্টি স্পটের কাছে একবারে ফাঁকায় দাঁড়িয়েছিলেন মেক্সিকান মিডফিল্ডার লুইস রোমো। এমন উপহার হাতছাড়া করেননি ৩১ বছর বয়সী এই তারকা। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বলটি ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন তিনি। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন স্বাগতিক মেক্সিকান দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকার ও উল্লাস।
নিজেদের এক অবিশ্বাস্য ভুলে গোল হজম করার পর যেন মাঠেই পাথর হয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলাররা। গোলরক্ষকের সেই ভুল যেন পুরো দলের মনোবল কিছুটা নাড়িয়ে দেয়। অবশ্য ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল এশিয়ান পরাশক্তিরা। গোল শোধের জন্য তারা একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে বেশ কিছু চমৎকার সুযোগও তৈরি করেছিল। কিন্তু মেক্সিকোর জমাট রক্ষণভাগ আর নিজেদের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত জালের দেখা পায়নি তারা। ফলে সমানে-সমান লড়েও একরাশ আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কোরিয়াকে।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দারুণ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলেও, এই হারের ফলে এখন নকআউট পর্ব নিশ্চিতের জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে অপেক্ষায় থাকতে হবে গ্রুপের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। অন্যদিকে, 'এ' গ্রুপে টানা দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে মেক্সিকো পা রাখল দ্বিতীয় রাউন্ডে। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কোরিয়ার পেছনে ১ পয়েন্ট করে নিয়ে ওত পেতে আছে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

আপনার মতামত লিখুন