পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে ভারতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। আর এর পরপরই ইন্টারনেট জগতে শুরু হয়েছে এক নতুন আলোড়ন। নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল টপকাতে ভারতীয় ব্যবহারকারীরা এখন দলে দলে ঝুঁকছেন ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) এবং সিগন্যালের মতো বিকল্প অ্যাপগুলোর দিকে।
ভারতের
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট-ইউজি ঘিরে সম্প্রতি বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ
ওঠে। অসাধু চক্র টেলিগ্রামের মেসেজ এডিট করার সুবিধাটি ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস ও
জালিয়াতির ভুয়া প্রমাণ তৈরি করতে পারে,
এমন আশঙ্কায় আগামী ২২ জুন পর্যন্ত অ্যাপটি ব্লক করার নির্দেশ দেয় ভারত
সরকার।
তবে
সরকারি এই নিষেধাজ্ঞার পর এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে। অ্যাপটি বন্ধ করার ঘোষণা
আসার দিন থেকেই দেশটিতে ভিপিএন ডাউনলোডের হিড়িক পড়ে যায়। অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে
প্রোটন ভিপিএন ডাউনলোডের হার ১১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিকল্প হিসেবে
পরিচিত সিগন্যাল অ্যাপের ডাউনলোড গুগল প্লে স্টোরে এক ধাক্কায় ৩২২ শতাংশ বৃদ্ধি
পায়। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো,
নিষেধাজ্ঞার পরও টেলিগ্রামের দৈনন্দিন সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্টো ১৭
শতাংশ বেড়ে গেছে, কারণ
মানুষ নানা বিকল্প উপায়ে বা ভিপিএন ব্যবহার করে অ্যাপটিতে প্রবেশ করছে।
এদিকে
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম
কর্তৃপক্ষ। তাদের যুক্তি,
কোনো নির্দিষ্ট আপত্তিকর কনটেন্ট বা চ্যানেল ব্লক করার বদলে ১৫ কোটির বেশি
মানুষের ব্যবহৃত একটি পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যদিও
আদালত আপাতত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
টেলিগ্রামের
প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরভ জানিয়েছেন,
এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ভারতের সাধারণ ব্যবহারকারীদেরই শাস্তি দিচ্ছে না, বরং
কারিগরিভাবে ইন্টারনেট ট্রাফিক ব্যাহত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের
ব্যবহারকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকারের একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে সাধারণ মানুষের
দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনে প্রভাব ফেলছে,
ভিপিএন ডাউনলোডের এই উল্লম্ফন তারই এক বাস্তব প্রমাণ।
সূত্র : techcrunch

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে ভারতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। আর এর পরপরই ইন্টারনেট জগতে শুরু হয়েছে এক নতুন আলোড়ন। নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল টপকাতে ভারতীয় ব্যবহারকারীরা এখন দলে দলে ঝুঁকছেন ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) এবং সিগন্যালের মতো বিকল্প অ্যাপগুলোর দিকে।
ভারতের
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট-ইউজি ঘিরে সম্প্রতি বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ
ওঠে। অসাধু চক্র টেলিগ্রামের মেসেজ এডিট করার সুবিধাটি ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস ও
জালিয়াতির ভুয়া প্রমাণ তৈরি করতে পারে,
এমন আশঙ্কায় আগামী ২২ জুন পর্যন্ত অ্যাপটি ব্লক করার নির্দেশ দেয় ভারত
সরকার।
তবে
সরকারি এই নিষেধাজ্ঞার পর এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে। অ্যাপটি বন্ধ করার ঘোষণা
আসার দিন থেকেই দেশটিতে ভিপিএন ডাউনলোডের হিড়িক পড়ে যায়। অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে
প্রোটন ভিপিএন ডাউনলোডের হার ১১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিকল্প হিসেবে
পরিচিত সিগন্যাল অ্যাপের ডাউনলোড গুগল প্লে স্টোরে এক ধাক্কায় ৩২২ শতাংশ বৃদ্ধি
পায়। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো,
নিষেধাজ্ঞার পরও টেলিগ্রামের দৈনন্দিন সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্টো ১৭
শতাংশ বেড়ে গেছে, কারণ
মানুষ নানা বিকল্প উপায়ে বা ভিপিএন ব্যবহার করে অ্যাপটিতে প্রবেশ করছে।
এদিকে
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম
কর্তৃপক্ষ। তাদের যুক্তি,
কোনো নির্দিষ্ট আপত্তিকর কনটেন্ট বা চ্যানেল ব্লক করার বদলে ১৫ কোটির বেশি
মানুষের ব্যবহৃত একটি পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যদিও
আদালত আপাতত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
টেলিগ্রামের
প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরভ জানিয়েছেন,
এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ভারতের সাধারণ ব্যবহারকারীদেরই শাস্তি দিচ্ছে না, বরং
কারিগরিভাবে ইন্টারনেট ট্রাফিক ব্যাহত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের
ব্যবহারকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকারের একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে সাধারণ মানুষের
দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনে প্রভাব ফেলছে,
ভিপিএন ডাউনলোডের এই উল্লম্ফন তারই এক বাস্তব প্রমাণ।
সূত্র : techcrunch

আপনার মতামত লিখুন