সংবাদ

সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা হোক আশুরা


প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা  হোক আশুরা

আজ আশুরা। মুসলিম বিশ্বের কাছে দিনটি গভীর শোক, আত্মত্যাগ ও আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কারবালার প্রান্তরে হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররমে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার সঙ্গীরা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শাহাদতবরণ করেছিলেন। ইতিহাসের সেই মর্মান্তিক ঘটনা আজও মুসলমানদের হৃদয়ে বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে। একই সঙ্গে এটি সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আশুরার তাৎপর্য কেবল কারবালার ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামী ঐতিহ্যে এই দিনের সঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে সময়ের পরিক্রমায় কারবালার আত্মত্যাগই আশুরার সবচেয়ে শক্তিশালী ও অর্থবহ প্রতীক হয়ে উঠেছে। কারণ সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায় ও প্রতারণার বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল।

হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি। তার এই অবস্থান ইসলামের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে উজ্জ্বল করেছে। কারবালার ঘটনা তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি আদর্শ ও নীতির পক্ষে দৃঢ় থাকার শিক্ষা।

দুঃখজনকভাবে আজও পৃথিবীর নানা স্থানে ধর্মের নামে বিভেদ, ঘৃণা ও সংকীর্ণতার চর্চা দেখা যায়। ক্ষমতা বা স্বার্থের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করার প্রবণতাও কম নয়। এমন বাস্তবতায় আশুরার শিক্ষা নতুন করে স্মরণ করা প্রয়োজন। এই শিক্ষা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে, সত্যের পক্ষে কথা বলতে এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।

আশুরা পালন কেবল শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার প্রকৃত তাৎপর্য পূর্ণতা পায় না। এই দিনের মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায়পরায়ণতা এবং সত্যের প্রতি অবিচল থাকা। হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) শাহাদত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ন্যায় ও সত্যের সংগ্রাম কখনও সহজ নয়। সেই পথই শেষ পর্যন্ত মানবতার মর্যাদা রক্ষা করে।

আশুরায় আমাদের প্রত্যাশা, ব্যক্তি ও সমাজজীবনে কারবালার শিক্ষার প্রতিফলন ঘটুক। শোকের স্মৃতিকে ধারণ করে আমরা যেন সত্য, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার চর্চায় আরও দৃঢ় হই। তাহলেই আশুরার তাৎপর্য বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হবে। সেটা হলে হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) আত্মত্যাগের প্রতি যথার্থ সম্মান জানানো সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা হোক আশুরা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

আজ আশুরা। মুসলিম বিশ্বের কাছে দিনটি গভীর শোক, আত্মত্যাগ ও আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কারবালার প্রান্তরে হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররমে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার সঙ্গীরা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শাহাদতবরণ করেছিলেন। ইতিহাসের সেই মর্মান্তিক ঘটনা আজও মুসলমানদের হৃদয়ে বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে। একই সঙ্গে এটি সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আশুরার তাৎপর্য কেবল কারবালার ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামী ঐতিহ্যে এই দিনের সঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে সময়ের পরিক্রমায় কারবালার আত্মত্যাগই আশুরার সবচেয়ে শক্তিশালী ও অর্থবহ প্রতীক হয়ে উঠেছে। কারণ সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায় ও প্রতারণার বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল।

হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি। তার এই অবস্থান ইসলামের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে উজ্জ্বল করেছে। কারবালার ঘটনা তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি আদর্শ ও নীতির পক্ষে দৃঢ় থাকার শিক্ষা।

দুঃখজনকভাবে আজও পৃথিবীর নানা স্থানে ধর্মের নামে বিভেদ, ঘৃণা ও সংকীর্ণতার চর্চা দেখা যায়। ক্ষমতা বা স্বার্থের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করার প্রবণতাও কম নয়। এমন বাস্তবতায় আশুরার শিক্ষা নতুন করে স্মরণ করা প্রয়োজন। এই শিক্ষা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে, সত্যের পক্ষে কথা বলতে এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।

আশুরা পালন কেবল শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার প্রকৃত তাৎপর্য পূর্ণতা পায় না। এই দিনের মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায়পরায়ণতা এবং সত্যের প্রতি অবিচল থাকা। হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) শাহাদত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ন্যায় ও সত্যের সংগ্রাম কখনও সহজ নয়। সেই পথই শেষ পর্যন্ত মানবতার মর্যাদা রক্ষা করে।

আশুরায় আমাদের প্রত্যাশা, ব্যক্তি ও সমাজজীবনে কারবালার শিক্ষার প্রতিফলন ঘটুক। শোকের স্মৃতিকে ধারণ করে আমরা যেন সত্য, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার চর্চায় আরও দৃঢ় হই। তাহলেই আশুরার তাৎপর্য বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হবে। সেটা হলে হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) আত্মত্যাগের প্রতি যথার্থ সম্মান জানানো সম্ভব হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত