রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠজুড়ে শুরু হলো আইভরি কোস্টের ঐতিহাসিক উল্লাস। সমীকরণটা আগে থেকেই জানা ছিল, বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জয় চাই-ই চাই। সেই সহজ সমীকরণ মাঠের লড়াইয়ে একদম সহজভাবেই মিলিয়ে নিল তারা।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার নকআউট পর্বের টিকিট কাটার ইতিহাস গড়ল আইভরি কোস্ট। দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক ভিয়ারিয়ালের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার নিকোলাস পেপে, যার পা থেকে এসেছে ম্যাচের দুটি গোলই।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে কুরাসাও কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাজের কাজ করেছে আইভরি কোস্ট। পুরো ম্যাচে মাত্র ৩৭ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১টি শট নেয় কুরাসাও, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের ৭টি শটের তিনটিই ছিল গোলমুখে। খেলার শুরুতেই লিড নেয় আইভরি কোস্ট। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কুরাসাও রক্ষণভাগের এক ভুলের সুযোগ নিয়ে বাইলাইন থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সের মাঝে থাকা পেপের উদ্দেশ্যে দারুণভাবে কাট-ব্যাক করা হয়। সেখান থেকে গোলকিপার রুমকে পরাস্ত করে আলতো টোকায় বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি পেপে।
প্রথমার্ধ জুড়েই বাম প্রান্ত দিয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণে অনবরত ভীতি ছড়িয়েছেন ইয়ান দিওমান্দে। তবে কুরাসাও-ও ছেড়ে কথা বলেনি; দূরপাল্লার শটে তাহিত চং গোল করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং লিয়েন্দ্রো বাকুনার একটি শট সাইড নেটে লাগে।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আইভরি কোস্ট ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সব শঙ্কা উড়িয়ে দেয়। সাঙ্গারের চমৎকার এক থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ এক শটে বল টপ কর্নারে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন ফরোয়ার্ড পেপে।
বাকি সময়ে কুরাসাও গোলের লক্ষ্যে কিছু এলোমেলো শট নিলেও জালের দেখা পায়নি। ফলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আইভরি কোস্ট। 'ই' গ্রুপে ৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে তারা। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা মুখোমুখি হবে ‘আই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের, যা হতে পারে ফ্রান্স বা নরওয়ে।
এই গ্রুপ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে জার্মানি এবং তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় শ্রেয়তর অবস্থানে থেকে নকআউটে উঠেছে ইকুয়েডর।
অন্যদিকে, ১ পয়েন্ট নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে নবাগত দল কুরাসাওকে। তবে অভিষেক বিশ্বকাপেই মিশ্র অনুভূতির দেখা পেয়েছে তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে লিভানো কোমেনেনসিয়া দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম ঐতিহাসিক গোলটি করে সমতা ফিরিয়েছিলেন, যদিও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৭-১ ব্যবধানে জিতে নেয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে গোলকিপার এলয় রুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে ইকুয়েডরকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছিল দলটি। চলতি বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টও নিজেদের জাত চিনিয়েছে; প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৯০ মিনিটে বদলি বেঞ্চ থেকে এসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা আমাদ দিয়ালো গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন।
আর দ্বিতীয় ম্যাচে অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসির গোল সবাইকে চমকে দিয়ে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিল আইভরি কোস্টকে, যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি তারা হেরে যায়। তবে কুরাসাওকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রথমবার নকআউটে ওঠার আনন্দে ভাসল আইভরি কোস্টের খেলোয়াড়রা।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠজুড়ে শুরু হলো আইভরি কোস্টের ঐতিহাসিক উল্লাস। সমীকরণটা আগে থেকেই জানা ছিল, বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জয় চাই-ই চাই। সেই সহজ সমীকরণ মাঠের লড়াইয়ে একদম সহজভাবেই মিলিয়ে নিল তারা।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার নকআউট পর্বের টিকিট কাটার ইতিহাস গড়ল আইভরি কোস্ট। দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক ভিয়ারিয়ালের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার নিকোলাস পেপে, যার পা থেকে এসেছে ম্যাচের দুটি গোলই।
ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে কুরাসাও কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাজের কাজ করেছে আইভরি কোস্ট। পুরো ম্যাচে মাত্র ৩৭ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১টি শট নেয় কুরাসাও, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের ৭টি শটের তিনটিই ছিল গোলমুখে। খেলার শুরুতেই লিড নেয় আইভরি কোস্ট। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কুরাসাও রক্ষণভাগের এক ভুলের সুযোগ নিয়ে বাইলাইন থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সের মাঝে থাকা পেপের উদ্দেশ্যে দারুণভাবে কাট-ব্যাক করা হয়। সেখান থেকে গোলকিপার রুমকে পরাস্ত করে আলতো টোকায় বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি পেপে।
প্রথমার্ধ জুড়েই বাম প্রান্ত দিয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণে অনবরত ভীতি ছড়িয়েছেন ইয়ান দিওমান্দে। তবে কুরাসাও-ও ছেড়ে কথা বলেনি; দূরপাল্লার শটে তাহিত চং গোল করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং লিয়েন্দ্রো বাকুনার একটি শট সাইড নেটে লাগে।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আইভরি কোস্ট ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সব শঙ্কা উড়িয়ে দেয়। সাঙ্গারের চমৎকার এক থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ এক শটে বল টপ কর্নারে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন ফরোয়ার্ড পেপে।
বাকি সময়ে কুরাসাও গোলের লক্ষ্যে কিছু এলোমেলো শট নিলেও জালের দেখা পায়নি। ফলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আইভরি কোস্ট। 'ই' গ্রুপে ৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে তারা। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা মুখোমুখি হবে ‘আই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের, যা হতে পারে ফ্রান্স বা নরওয়ে।
এই গ্রুপ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে জার্মানি এবং তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় শ্রেয়তর অবস্থানে থেকে নকআউটে উঠেছে ইকুয়েডর।
অন্যদিকে, ১ পয়েন্ট নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে নবাগত দল কুরাসাওকে। তবে অভিষেক বিশ্বকাপেই মিশ্র অনুভূতির দেখা পেয়েছে তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে লিভানো কোমেনেনসিয়া দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম ঐতিহাসিক গোলটি করে সমতা ফিরিয়েছিলেন, যদিও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৭-১ ব্যবধানে জিতে নেয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে গোলকিপার এলয় রুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে ইকুয়েডরকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছিল দলটি। চলতি বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টও নিজেদের জাত চিনিয়েছে; প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৯০ মিনিটে বদলি বেঞ্চ থেকে এসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা আমাদ দিয়ালো গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন।
আর দ্বিতীয় ম্যাচে অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসির গোল সবাইকে চমকে দিয়ে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিল আইভরি কোস্টকে, যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি তারা হেরে যায়। তবে কুরাসাওকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রথমবার নকআউটে ওঠার আনন্দে ভাসল আইভরি কোস্টের খেলোয়াড়রা।

আপনার মতামত লিখুন