ডালাস স্টেডিয়ামে আজ ফুটবল বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের এক নাটকীয় ম্যাচে সুইডেনের মুখোমুখি হয়েছিল জাপান। জয় কিংবা ড্রয়ের সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্লু সামুরাইরা। এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব অর্থাৎ শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
তবে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে জাপানকে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল। অন্যদিকে গ্রুপের তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় ভালো অবস্থানে থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে সুইডেন।
নকআউটে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের খেলায় চেনা গতি বা উত্তাপ দেখা যায়নি। ম্যাচের আধঘণ্টা পেরোতেই চোটের কারণে সেন্টার-ব্যাক হিয়েনকে হারায় সুইডেন। এর কিছুক্ষণ পরই প্রথমার্ধেই নিজেদের অধিনায়ককে তুলে নেওয়ার মতো এক অপ্রত্যাশিত ও বিরল সিদ্ধান্ত নেয় জাপান। ঘনঘন ফাউল আর অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির কারণে ম্যাচটি প্রথমার্ধে ছন্দহীন ছিল। তবে এর মাঝেই একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
সুইডেনের ডি-বক্সের ঠিক বাইরে চমত্কার এক পজিশন তৈরি করে নিয়েছিলেন নাকামুরা। তাঁর নেওয়া দারুণ এক মাপা শট সুইডেনের গোলপোস্টের নিচের ডান কোণ ঘেঁষে প্রায় ঢুকেই যাচ্ছিল। ওই এক চেষ্টা বাদ দিলে বিরতির আগে দুই দলের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবল ইতিহাসের তুলনায় বড্ড বেশি ম্যাড়মেড়ে ঠেকেছে।
ব্লু সামুরাইদের প্রথমার্ধের ম্যাড়মেড়ে পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। তবে সেই গোলের জন্য অপেক্ষাটা বৃথা যায়নি। দোয়ান এবং মায়েদার নিখুঁত আর নান্দনিক পাসিংয়ের রসায়নে দেখা মেলে অনবদ্য এক গোলের।
৫৬ মিনিটে দোয়ান বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একবার চোখ বুলিয়েই সুইডিশ ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে এক অবিশ্বাস্য থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন মায়েদার উদ্দেশ্যে। সেল্টিকের এই ফরোয়ার্ড চমৎকার গতিতে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং কোনো ভুল না করে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন।
অবশ্য সুইডেনও সমতায় ফিরতে খুব একটা সময় নেয়নি। ইউরোপিয়ান দলটির হয়ে বিশ্বকাপে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান এলাঙ্গা। গোল হজমের ৬ মিনিট পর তার নেওয়া দুর্দান্ত এক বাঁ-পায়ের ক্রস-শট জাপানি গোলকিপার সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে ম্যাচে সমতা ফেরে।
এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য দারুণ দুটি সেভ করে নিজের আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন জাপানের এই গোলকিপার। প্রথমে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইসাকের নেওয়া শট এবং শেষ মুহূর্তে তাঁর এক চমত্কার হেডার রুখে দেন সুজুকি। শেষ দিকে দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই।
এদিকে ‘এফ’ গ্রুপে ২ জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস, শেষ বত্রিশে যাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। আর ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে খালি হাতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তিউনিসিয়া।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
ডালাস স্টেডিয়ামে আজ ফুটবল বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের এক নাটকীয় ম্যাচে সুইডেনের মুখোমুখি হয়েছিল জাপান। জয় কিংবা ড্রয়ের সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্লু সামুরাইরা। এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব অর্থাৎ শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
তবে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে জাপানকে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল। অন্যদিকে গ্রুপের তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় ভালো অবস্থানে থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে সুইডেন।
নকআউটে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের খেলায় চেনা গতি বা উত্তাপ দেখা যায়নি। ম্যাচের আধঘণ্টা পেরোতেই চোটের কারণে সেন্টার-ব্যাক হিয়েনকে হারায় সুইডেন। এর কিছুক্ষণ পরই প্রথমার্ধেই নিজেদের অধিনায়ককে তুলে নেওয়ার মতো এক অপ্রত্যাশিত ও বিরল সিদ্ধান্ত নেয় জাপান। ঘনঘন ফাউল আর অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির কারণে ম্যাচটি প্রথমার্ধে ছন্দহীন ছিল। তবে এর মাঝেই একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
সুইডেনের ডি-বক্সের ঠিক বাইরে চমত্কার এক পজিশন তৈরি করে নিয়েছিলেন নাকামুরা। তাঁর নেওয়া দারুণ এক মাপা শট সুইডেনের গোলপোস্টের নিচের ডান কোণ ঘেঁষে প্রায় ঢুকেই যাচ্ছিল। ওই এক চেষ্টা বাদ দিলে বিরতির আগে দুই দলের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবল ইতিহাসের তুলনায় বড্ড বেশি ম্যাড়মেড়ে ঠেকেছে।
ব্লু সামুরাইদের প্রথমার্ধের ম্যাড়মেড়ে পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। তবে সেই গোলের জন্য অপেক্ষাটা বৃথা যায়নি। দোয়ান এবং মায়েদার নিখুঁত আর নান্দনিক পাসিংয়ের রসায়নে দেখা মেলে অনবদ্য এক গোলের।
৫৬ মিনিটে দোয়ান বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একবার চোখ বুলিয়েই সুইডিশ ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে এক অবিশ্বাস্য থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন মায়েদার উদ্দেশ্যে। সেল্টিকের এই ফরোয়ার্ড চমৎকার গতিতে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং কোনো ভুল না করে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন।
অবশ্য সুইডেনও সমতায় ফিরতে খুব একটা সময় নেয়নি। ইউরোপিয়ান দলটির হয়ে বিশ্বকাপে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান এলাঙ্গা। গোল হজমের ৬ মিনিট পর তার নেওয়া দুর্দান্ত এক বাঁ-পায়ের ক্রস-শট জাপানি গোলকিপার সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে ম্যাচে সমতা ফেরে।
এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য দারুণ দুটি সেভ করে নিজের আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন জাপানের এই গোলকিপার। প্রথমে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইসাকের নেওয়া শট এবং শেষ মুহূর্তে তাঁর এক চমত্কার হেডার রুখে দেন সুজুকি। শেষ দিকে দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই।
এদিকে ‘এফ’ গ্রুপে ২ জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস, শেষ বত্রিশে যাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। আর ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে খালি হাতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তিউনিসিয়া।

আপনার মতামত লিখুন