সংবাদ

১০ গরু থেকে ‘ডেইরি আইকন’ হারুন


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

১০ গরু থেকে ‘ডেইরি আইকন’ হারুন
ছবি : সংবাদ

শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে, মাত্র ১০টি গবাদি পশু আর দুজন কর্মচারী নিয়ে। এক যুগের বেশি সময় পর সেই ছোট উদ্যোগই এখন বিশাল এক খামারে রূপ নিয়েছে। পশুর সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫টিতে। কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার ১০ জন বেকারের। বলছিলাম বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের পাংশা গ্রামের সফল উদ্যোক্তা মো. হারুন অর রশিদের কথা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ফারহান ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্ম’ এখন এই অঞ্চলের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য জয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, হারুনের খামারে এখন ৪০টি দুগ্ধবতী গাভীসহ মোট ৬৫টি গবাদি পশু রয়েছে। প্রতিদিন দুই বেলা মিলিয়ে এখানে গড়ে ২২০ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। এই দুধের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা এখানে ছুটে আসেন। বরিশাল ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে আসা ক্রেতা আজিজ বলেন, ‘এখানকার গরুকে প্রাকৃতিক খড়কুটা খাওয়ানো হয় বলে দুধের মান খুব ভালো। এ জন্য পাঁচ মাইল দূর থেকে কষ্ট করে হলেও এখান থেকেই নিয়মিত ৪ লিটার দুধ নিয়ে যাই।’

সাফল্যের এই পথ অবশ্য মসৃণ ছিল না। হারুন অর রশিদ মাধবপাশা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ পেরিয়ে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। ডেইরি ফার্মের শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শুরুতে লাভ না হলেও ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছি। এখন আমি বেশ ভালো অবস্থানে আছি। আমার লক্ষ্যই ছিল মানুষের কাছে খাঁটি দুধ ও মাংস পৌঁছে দেওয়া।’

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে ‘বাংলাদেশ ডেইরি আইকন’ তালিকায় দেশের সেরা ১০ জনের মধ্যে স্থান পান হারুন। বরিশাল বিভাগের সেরা খামারি হিসেবেও তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখছে। খামারের কর্মচারী জামাল বলেন, ‘আগে বেকার ছিলাম। গত ৫ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। বেতন যা পাই, তা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই চলছে।’

বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলার দুধের চাহিদার প্রায় ৭৮-৭৯ শতাংশ এখন স্থানীয় খামারিরাই পূরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘হারুন অর রশিদের মতো উদ্যোক্তাদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সরকারি ভ্যাকসিন দিয়ে সহযোগিতা করি। একদিনে কোনো খামার বড় হয় না, আধুনিক পদ্ধতি ও ধৈর্যের কারণেই আজ হারুন সফল।’ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ৫০টির বেশি গবাদি পশু থাকলে সেটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির খামার বলা হয় এবং এসব খামার বিশেষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।

হারুন অর রশিদের স্বপ্ন এখন আরও বড়। দুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তিনি তার এই উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে চান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


১০ গরু থেকে ‘ডেইরি আইকন’ হারুন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে, মাত্র ১০টি গবাদি পশু আর দুজন কর্মচারী নিয়ে। এক যুগের বেশি সময় পর সেই ছোট উদ্যোগই এখন বিশাল এক খামারে রূপ নিয়েছে। পশুর সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫টিতে। কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার ১০ জন বেকারের। বলছিলাম বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের পাংশা গ্রামের সফল উদ্যোক্তা মো. হারুন অর রশিদের কথা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ফারহান ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্ম’ এখন এই অঞ্চলের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য জয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, হারুনের খামারে এখন ৪০টি দুগ্ধবতী গাভীসহ মোট ৬৫টি গবাদি পশু রয়েছে। প্রতিদিন দুই বেলা মিলিয়ে এখানে গড়ে ২২০ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। এই দুধের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা এখানে ছুটে আসেন। বরিশাল ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে আসা ক্রেতা আজিজ বলেন, ‘এখানকার গরুকে প্রাকৃতিক খড়কুটা খাওয়ানো হয় বলে দুধের মান খুব ভালো। এ জন্য পাঁচ মাইল দূর থেকে কষ্ট করে হলেও এখান থেকেই নিয়মিত ৪ লিটার দুধ নিয়ে যাই।’

সাফল্যের এই পথ অবশ্য মসৃণ ছিল না। হারুন অর রশিদ মাধবপাশা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ পেরিয়ে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। ডেইরি ফার্মের শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শুরুতে লাভ না হলেও ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছি। এখন আমি বেশ ভালো অবস্থানে আছি। আমার লক্ষ্যই ছিল মানুষের কাছে খাঁটি দুধ ও মাংস পৌঁছে দেওয়া।’

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে ‘বাংলাদেশ ডেইরি আইকন’ তালিকায় দেশের সেরা ১০ জনের মধ্যে স্থান পান হারুন। বরিশাল বিভাগের সেরা খামারি হিসেবেও তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখছে। খামারের কর্মচারী জামাল বলেন, ‘আগে বেকার ছিলাম। গত ৫ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। বেতন যা পাই, তা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই চলছে।’

বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলার দুধের চাহিদার প্রায় ৭৮-৭৯ শতাংশ এখন স্থানীয় খামারিরাই পূরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘হারুন অর রশিদের মতো উদ্যোক্তাদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সরকারি ভ্যাকসিন দিয়ে সহযোগিতা করি। একদিনে কোনো খামার বড় হয় না, আধুনিক পদ্ধতি ও ধৈর্যের কারণেই আজ হারুন সফল।’ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ৫০টির বেশি গবাদি পশু থাকলে সেটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির খামার বলা হয় এবং এসব খামার বিশেষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।

হারুন অর রশিদের স্বপ্ন এখন আরও বড়। দুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তিনি তার এই উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে চান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত