সংবাদ

বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস


বাকৃবি সংবাদদাতা
বাকৃবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
ছবি : সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তুচ্ছ ঘটনা ও পূর্ববিরোধের জেরে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার ভোররাত পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া হলগুলো হলো- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, মাওলানা ভাসানী হল, আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হল।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন মাওলানা ভাসানী হলের কয়েকজন ছাত্র। এ নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ‘ফসিল মোড়’ এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এ সময় দুই হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান এবং হলের প্রবেশপথসহ আশপাশের দোকানে ভাঙচুর করেন। এই উত্তেজনা সোমবার ভোররাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তে আমরা ইতোমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী ও ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম জানান, উপাচার্যের উপস্থিতিতে প্রোভোস্ট কাউন্সিল ও প্রক্টরিয়াল বডির জরুরি সভায় ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আশরাফুল হক ও শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। বারবার এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তুচ্ছ ঘটনা ও পূর্ববিরোধের জেরে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার ভোররাত পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া হলগুলো হলো- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, মাওলানা ভাসানী হল, আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হল।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন মাওলানা ভাসানী হলের কয়েকজন ছাত্র। এ নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ‘ফসিল মোড়’ এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এ সময় দুই হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান এবং হলের প্রবেশপথসহ আশপাশের দোকানে ভাঙচুর করেন। এই উত্তেজনা সোমবার ভোররাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তে আমরা ইতোমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী ও ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম জানান, উপাচার্যের উপস্থিতিতে প্রোভোস্ট কাউন্সিল ও প্রক্টরিয়াল বডির জরুরি সভায় ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আশরাফুল হক ও শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। বারবার এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত