‘বই পড়ি, মন গড়ি’–এই স্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে এক বিশাল বই পড়া উৎসব। স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এই উৎসবে মেতেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এই উৎসবের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ লিখিত পরীক্ষা। এতে উপজেলার মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গত ২১ জুলাই এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়েছিল। শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সমন্বয় এবং ‘উত্তরণ’-এর পাঠ সহযোগিতায় এই কর্মযজ্ঞ চলছে।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগীদের চারটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ থেকে ‘ঘ’ পর্যন্ত এসব বিভাগে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। এর বাইরে সাধারণ পাঠকদের জন্য রাখা হয়েছে একটি ‘উন্মুক্ত বিভাগ’। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে সেরা ১০ জনকে দ্বিতীয় ধাপের জন্য বাছাই করা হবে। এরপর চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত হবেন সেরা তিন মেধাবী।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে ১৪টি কালজয়ী বই। এর মধ্যে রয়েছে এ পি জে আবদুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’, জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাশিয়ার চিঠি’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’-এর মতো ধ্রুপদি সাহিত্য।
এই আয়োজন সফল করতে উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজে পরিদর্শন করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, 'বর্তমান প্রজন্ম যখন মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকছে, তখন তাদের বইয়ের জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা জরুরি। মেধা ও মননশীল সমাজ গড়তেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।'
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করছে প্রশাসন। শ্রীমঙ্গলের এই বই পড়ার উৎসব এখন স্থানীয় জনপদে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
‘বই পড়ি, মন গড়ি’–এই স্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে এক বিশাল বই পড়া উৎসব। স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এই উৎসবে মেতেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এই উৎসবের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ লিখিত পরীক্ষা। এতে উপজেলার মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গত ২১ জুলাই এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়েছিল। শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সমন্বয় এবং ‘উত্তরণ’-এর পাঠ সহযোগিতায় এই কর্মযজ্ঞ চলছে।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগীদের চারটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ থেকে ‘ঘ’ পর্যন্ত এসব বিভাগে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। এর বাইরে সাধারণ পাঠকদের জন্য রাখা হয়েছে একটি ‘উন্মুক্ত বিভাগ’। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে সেরা ১০ জনকে দ্বিতীয় ধাপের জন্য বাছাই করা হবে। এরপর চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত হবেন সেরা তিন মেধাবী।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে ১৪টি কালজয়ী বই। এর মধ্যে রয়েছে এ পি জে আবদুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’, জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাশিয়ার চিঠি’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’-এর মতো ধ্রুপদি সাহিত্য।
এই আয়োজন সফল করতে উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজে পরিদর্শন করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, 'বর্তমান প্রজন্ম যখন মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকছে, তখন তাদের বইয়ের জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা জরুরি। মেধা ও মননশীল সমাজ গড়তেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।'
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করছে প্রশাসন। শ্রীমঙ্গলের এই বই পড়ার উৎসব এখন স্থানীয় জনপদে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন