সংবাদ

বন্ধ কলকাতার ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল, অন‌্যগু‌লো‌তে নি‌চ্ছে তিনগুণ ভাড়া


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

বন্ধ কলকাতার ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল, অন‌্যগু‌লো‌তে নি‌চ্ছে তিনগুণ ভাড়া

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর কঠোর অবস্থানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার পর থেকে কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পুলিশ নিউমার্কেট অঞ্চলের একাধিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ফায়ার সেফটি লাইসেন্স না থাকা ভবনগুলোকে বন্ধের নোটিশ দিচ্ছে। হঠাৎ নেওয়া এই পদেক্ষেপে কোলন স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিটের মতো জনবহুল এলাকার হোটেলগুলো খালি করে দিতে বলায় সেখানে অবস্থানরত শত শত বাংলাদেশি পর্যটক তীব্র সংকটে পড়েছেন।
​হোটেল ছাড়ার নির্দেশে বাংলাদেশিদের থাকার খরচ একলাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। হোটেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেককে পার্ক স্ট্রিট, মেহদি বাগান, পার্ক সার্কাস ও জাকারিয়া স্ট্রিট এলাকার চালু হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগে অনেক হোটেল স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবহন সংস্থা গ্রিন লাইনের ম্যানেজার শ্যামল ঘোষ বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, "বাংলাদেশ থেকে অনেক পর্যটক আসছেন এবং ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো পূর্ণ থাকছে। কিন্তু মার্কুইস স্ট্রিটে থাকার জায়গা না পেয়ে অনেকে অন্যান্য এলাকায় যাচ্ছেন, যেখানে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকরা এসে খুব অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।"
​প্রশাসনের হঠাৎ এমন কড়াকড়িতে চরম বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার কাজে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরাও। ঢাকার বাসিন্দা প্রসেন‌জিৎ তার দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, "চিকিৎসার জন্য এসে একটি হোটেলে উঠেছিলাম। কিন্তু রাতে পুলিশ এসে সকাল ১০টার মধ্যে হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। চিকিৎসার কাজে এসে এভাবে বারবার হোটেল সংকটে পড়লে ভবিষ্যতে কলকাতায় আসার সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে হবে।"
তিনি সতর্ক করেন, ভিসা সুবিধা চালু হওয়ার এই সময়ে এমন জটিলতা চলতে থাকলে বাংলাদেশিরা বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে পারেন।
​হোটেল বন্ধের এই অভিযানে পর্যটকদের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় হোটেলকর্মীরাও। চাকরি হারানোর শঙ্কায় নিউমার্কেটের হোটেল কর্মচারী আক্ষেপ করে বলেন, "মির্জা গালিব স্ট্রিটে আগুন লেগেছে, আর তার খেসারত দিতে গিয়ে আমাদের এখানে হোটেল বন্ধের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এটি আমাদের পেটে লাথি মারার মতো। আমাদের কিছুটা সময় দিলে বা বিকল্প ব্যবস্থা করলে আমরা ও আমাদের পরিবারগুলো বেঁচে যেতে পারতাম।"
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


বন্ধ কলকাতার ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল, অন‌্যগু‌লো‌তে নি‌চ্ছে তিনগুণ ভাড়া

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর কঠোর অবস্থানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার পর থেকে কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পুলিশ নিউমার্কেট অঞ্চলের একাধিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ফায়ার সেফটি লাইসেন্স না থাকা ভবনগুলোকে বন্ধের নোটিশ দিচ্ছে। হঠাৎ নেওয়া এই পদেক্ষেপে কোলন স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিটের মতো জনবহুল এলাকার হোটেলগুলো খালি করে দিতে বলায় সেখানে অবস্থানরত শত শত বাংলাদেশি পর্যটক তীব্র সংকটে পড়েছেন।
​হোটেল ছাড়ার নির্দেশে বাংলাদেশিদের থাকার খরচ একলাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। হোটেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেককে পার্ক স্ট্রিট, মেহদি বাগান, পার্ক সার্কাস ও জাকারিয়া স্ট্রিট এলাকার চালু হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগে অনেক হোটেল স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবহন সংস্থা গ্রিন লাইনের ম্যানেজার শ্যামল ঘোষ বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, "বাংলাদেশ থেকে অনেক পর্যটক আসছেন এবং ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো পূর্ণ থাকছে। কিন্তু মার্কুইস স্ট্রিটে থাকার জায়গা না পেয়ে অনেকে অন্যান্য এলাকায় যাচ্ছেন, যেখানে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকরা এসে খুব অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।"
​প্রশাসনের হঠাৎ এমন কড়াকড়িতে চরম বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার কাজে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরাও। ঢাকার বাসিন্দা প্রসেন‌জিৎ তার দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, "চিকিৎসার জন্য এসে একটি হোটেলে উঠেছিলাম। কিন্তু রাতে পুলিশ এসে সকাল ১০টার মধ্যে হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। চিকিৎসার কাজে এসে এভাবে বারবার হোটেল সংকটে পড়লে ভবিষ্যতে কলকাতায় আসার সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে হবে।"
তিনি সতর্ক করেন, ভিসা সুবিধা চালু হওয়ার এই সময়ে এমন জটিলতা চলতে থাকলে বাংলাদেশিরা বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে পারেন।
​হোটেল বন্ধের এই অভিযানে পর্যটকদের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় হোটেলকর্মীরাও। চাকরি হারানোর শঙ্কায় নিউমার্কেটের হোটেল কর্মচারী আক্ষেপ করে বলেন, "মির্জা গালিব স্ট্রিটে আগুন লেগেছে, আর তার খেসারত দিতে গিয়ে আমাদের এখানে হোটেল বন্ধের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এটি আমাদের পেটে লাথি মারার মতো। আমাদের কিছুটা সময় দিলে বা বিকল্প ব্যবস্থা করলে আমরা ও আমাদের পরিবারগুলো বেঁচে যেতে পারতাম।"
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত