সংবাদ

বাসের ধাক্কায় দম্পতির মৃত্যু, মায়ের মুখ দেখতে বিদেশ থেকে ফিরছেন ছেলে


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

বাসের ধাক্কায় দম্পতির মৃত্যু, মায়ের মুখ দেখতে বিদেশ থেকে ফিরছেন ছেলে
ছবি : সংবাদ

রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র নয়ারহাট এলাকার আনিসুর রহমান (৫৫) ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম মোটরসাইকেলে করে রংপুরে যাচ্ছিলেন। পথে মিঠাপুকুর এলাকায় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি অজ্ঞাত বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় ব্যক্তিরা আফিয়া বেগমকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তিনিও মারা যান।

নিহত দম্পতির মরদেহ রাতেই গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। আনিসুর রহমানকে দাফন করা হলেও আফিয়া বেগমের দাফন এখনো সম্পন্ন হয়নি। 

তাদের ছেলে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার জন্য তিনি দেশের পথে রওনা হয়েছেন। ছেলের আকুতিতে আফিয়া বেগমের মরদেহ দাফন না করে রাখা হয়েছে।

গ্রামীণ পরিবেশে মরদেহ সংরক্ষণের সুব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি বিপাকে পড়েছিল। এ সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা’। সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত একটি ফ্রিজিং কফিন নিয়ে গিয়ে মরদেহটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এতে প্রবাসী ছেলের জন্য তার মাকে শেষবার দেখার সুযোগ তৈরি হয়।

সংস্থাটির সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করি যাতে কোনো সন্তান তার বাবা-মায়ের শেষ দেখা থেকে বঞ্চিত না হয়। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আমরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। প্রবাসী ছেলেটি আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সে এলেই দাফন সম্পন্ন হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


বাসের ধাক্কায় দম্পতির মৃত্যু, মায়ের মুখ দেখতে বিদেশ থেকে ফিরছেন ছেলে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র নয়ারহাট এলাকার আনিসুর রহমান (৫৫) ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম মোটরসাইকেলে করে রংপুরে যাচ্ছিলেন। পথে মিঠাপুকুর এলাকায় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি অজ্ঞাত বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় ব্যক্তিরা আফিয়া বেগমকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তিনিও মারা যান।

নিহত দম্পতির মরদেহ রাতেই গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। আনিসুর রহমানকে দাফন করা হলেও আফিয়া বেগমের দাফন এখনো সম্পন্ন হয়নি। 

তাদের ছেলে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার জন্য তিনি দেশের পথে রওনা হয়েছেন। ছেলের আকুতিতে আফিয়া বেগমের মরদেহ দাফন না করে রাখা হয়েছে।

গ্রামীণ পরিবেশে মরদেহ সংরক্ষণের সুব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি বিপাকে পড়েছিল। এ সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা’। সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত একটি ফ্রিজিং কফিন নিয়ে গিয়ে মরদেহটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এতে প্রবাসী ছেলের জন্য তার মাকে শেষবার দেখার সুযোগ তৈরি হয়।

সংস্থাটির সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করি যাতে কোনো সন্তান তার বাবা-মায়ের শেষ দেখা থেকে বঞ্চিত না হয়। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আমরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। প্রবাসী ছেলেটি আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সে এলেই দাফন সম্পন্ন হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত