সংবাদ

পাঠদর্শন


প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম

পাঠদর্শন
আমরা বই পড়ি, কিন্তু বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি না

প্রায় সব শিক্ষার্থীর মনে একটাই প্রশ্ন-'এটা কি পরীক্ষায় আসবে?' প্রশ্নটা স্বাভাবিক, কিন্তু এর মধ্যেই আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতির গভীর সংকট লুকায়িত। আমরা বই পড়াকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং ভেবেই নিয়েছি সনদ পাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে। প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক, তা বলব না। প্রতিযোগিতামূলক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে পরীক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য বই পড়া অপ্রয়োজনীয় তা বলাও সমীচীন নয়। পরীক্ষার জন্য পড়া আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়, পরিশ্রমী করে তোলে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরি করে। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন পরীক্ষাই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্যে পরিণত হয়। যখন বই হয়ে ওঠে নম্বর অর্জনের পাথেয়।

আমরা বই পড়ি, কিন্তু বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি না। কারণ বই পড়ার পর আমাদের লক্ষ্য থাকে একটি মানসম্মত ফলাফল অর্জন করা, তারপর একটি চাকরি জোটানো। লক্ষ্যগুলো অযৌক্তিক-তা নয়। তবে সমস্যা ভিন্ন জায়গায়। আমরা ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে শিক্ষার উদ্দেশ্য যেন একটাই-তা হলো পরীক্ষায় সফল হওয়া। শিক্ষার লক্ষ্য যদি তাই হয়, তাহলে তা আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায় না, ভাবতে শেখায় না; ফলস্বরূপ, সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অথচ সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আবিষ্কারগুলো এসেছে প্রশ্নের ভাবোদয় থেকেই।

তবে প্রশ্ন ও চিন্তা-চেতনার এই চর্চা কেবল বিজ্ঞান বা ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা কিন্তু নয়। এর বহিঃপ্রকাশ আমরা সাহিত্যেও দেখতে পাই। সাহিত্যের উদ্ভব কীভাবে? সাহিত্যের উদ্ভবও মানুষের অন্তর্জগতের প্রশ্ন, আবেগ-অনুভূতি, নিজেকে বোঝার আকাঙ্ক্ষা ও কল্পনার নান্দনিক প্রকাশ থেকে। রবীন্দ্রনাথের 'পোস্টমাস্টার'-এর একাকিত্ব, 'কাবুলিওয়ালা'-র মানবিক সম্পর্ক আমাদের মানুষের অন্তর্জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। শরৎচন্দ্র পড়লে সমাজের প্রান্তে দুঃখে-কষ্টে জর্জরিত থাকা মানুষটিকেও দূরে বলে মনে হয় না। বেগম রোকেয়ার 'সুলতানাস ড্রিম'-এ নারী ও সমাজ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। বিভূতিভূষণের 'পথের পাঁচালী'-র  অপু-দুর্গার চরিত্রগুলোর মধ্যেও নিজেকে কল্পনা করতে আমাদের আনন্দ দেয়। এখানেই সাহিত্যের শক্তি। একটি ভালো বই পাঠককে নিজের পরিচিত চিন্তার জগতের বাইরে নিয়ে যায়।

আমরা সাধারণত নিজের মতের সাথে মিল আছে এমন মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করি। বই সেই সাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি ভেঙে দিতে পারে। একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ দর্শনের বই পড়তে পারেন, বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ সাহিত্যের বই পড়তে পারেন।সাহিত্যের মানুষ বিজ্ঞানের বই পড়তে পারেন।একমাত্র বই-ই পারে একটি মানুষকে তার পরিচিত পৃথিবীর বাইরে আরেকটি নতুন পৃথিবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। তখন অনুভব করতে পারবো আমরা যা ভাবি পৃথিবী শুধু তাই নয়। এই উপলব্ধিই মানুষকে মানবিক হতে শেখায় আর বিনয়ী করে তোলে। মানবজীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলো মানবিক আর বিনয়ী হওয়া। তার অর্থ এই  নয় যে ন্যায়-অন্যায় নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। মানুষের মতো মানুষ হতে হলে ন্যায়-অন্যায় বুঝতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে। সত্য-মিথ্যা যাচাই করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যুক্তি দিয়ে ভাবতে হবে। বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজের ভুল স্বীকার করার সৎসাহস থাকতে হবে এবং ভিন্নমতকে বুঝতে শিখতে হবে।

বই পড়লেই কী মানুষের মতো মানুষ হওয়া যায়?ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়,পৃথিবীতে এমন মানুষও ছিলেন, যারা অনেক বই পড়েছেন, অনেক জেনেছেন, কিন্তু জ্ঞানকে ন্যায়ের কাজে ব্যবহার করতে পারেননি। সুতরাং প্রশ্ন এটা হওয়া অনুচিত- 'কত বই পড়েছি?' বরং প্রশ্ন এটা হওয়া উচিত- 'পড়ে কী হয়েছি বা কী করতে পেরেছি!'

একজন মানুষ ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েও যদি তার আচরণে রূঢ়তা, নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায় তবে সেই পাঠ তার জীবনে কতটুকু আলো আনতে পেরেছে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। বই পড়ার সার্থকতা বইয়ের সমাপ্তিতে নয়, বরং বই পড়ে মানুষের কল্যাণে আসতে পেরেছি কি না কিংবা কতটুকু আলো নিজের জীবনে প্রতিফলিত করতে পেরেছি সেখানেই বই পড়ার সার্থকতা নিহিত। আমাদের বই পড়া উচিত পৃথিবীটাকে ভালোভাবে জানা এবং বোঝার জন্য, মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য, নিজের সীমাবদ্ধতা কোথায়, তা জানার জন্য।

সুতরাং বইয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা শুধুই পরীক্ষার ফল হতে পারে না। কারণ মানুষের জীবন পরীক্ষার সিলেবাসের চেয়েও অনেক অনেক গুণ বড়। জীবনে এমন অসংখ্য প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যার কোনো সাজেশন নেই। তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয় বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে। সেই বিবেক বুদ্ধিকে জাগ্রত করার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হলো ভালো বই।

একটি বই আমাদের কী দিয়েছে? তার হিসাব কখনোই তার পৃষ্ঠা গণনা করে হয়না। হয়তো একটি বই আমাদের একটি প্রশ্ন দিয়েছে। হয়তো একটি গল্প আমাদের ক্ষমা করতে শিখিয়েছে। হয়তো একটি বিজ্ঞানগ্রন্থ আমাদের কুসংস্কার থেকে মুক্ত করেছে। হয়তো একটি কবিতা আমাদের পৃথিবীকে সুন্দর করে দেখতে শিখিয়েছে।

তাই বই পড়বো শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়, বরং পড়বো কীভাবে জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায় সেজন্যও।

মুজাহিদুল হক হুসাইন

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাঠদর্শন

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রায় সব শিক্ষার্থীর মনে একটাই প্রশ্ন-'এটা কি পরীক্ষায় আসবে?' প্রশ্নটা স্বাভাবিক, কিন্তু এর মধ্যেই আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতির গভীর সংকট লুকায়িত। আমরা বই পড়াকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং ভেবেই নিয়েছি সনদ পাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে। প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক, তা বলব না। প্রতিযোগিতামূলক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে পরীক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য বই পড়া অপ্রয়োজনীয় তা বলাও সমীচীন নয়। পরীক্ষার জন্য পড়া আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়, পরিশ্রমী করে তোলে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরি করে। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন পরীক্ষাই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্যে পরিণত হয়। যখন বই হয়ে ওঠে নম্বর অর্জনের পাথেয়।

আমরা বই পড়ি, কিন্তু বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি না। কারণ বই পড়ার পর আমাদের লক্ষ্য থাকে একটি মানসম্মত ফলাফল অর্জন করা, তারপর একটি চাকরি জোটানো। লক্ষ্যগুলো অযৌক্তিক-তা নয়। তবে সমস্যা ভিন্ন জায়গায়। আমরা ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে শিক্ষার উদ্দেশ্য যেন একটাই-তা হলো পরীক্ষায় সফল হওয়া। শিক্ষার লক্ষ্য যদি তাই হয়, তাহলে তা আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায় না, ভাবতে শেখায় না; ফলস্বরূপ, সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অথচ সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আবিষ্কারগুলো এসেছে প্রশ্নের ভাবোদয় থেকেই।

তবে প্রশ্ন ও চিন্তা-চেতনার এই চর্চা কেবল বিজ্ঞান বা ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা কিন্তু নয়। এর বহিঃপ্রকাশ আমরা সাহিত্যেও দেখতে পাই। সাহিত্যের উদ্ভব কীভাবে? সাহিত্যের উদ্ভবও মানুষের অন্তর্জগতের প্রশ্ন, আবেগ-অনুভূতি, নিজেকে বোঝার আকাঙ্ক্ষা ও কল্পনার নান্দনিক প্রকাশ থেকে। রবীন্দ্রনাথের 'পোস্টমাস্টার'-এর একাকিত্ব, 'কাবুলিওয়ালা'-র মানবিক সম্পর্ক আমাদের মানুষের অন্তর্জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। শরৎচন্দ্র পড়লে সমাজের প্রান্তে দুঃখে-কষ্টে জর্জরিত থাকা মানুষটিকেও দূরে বলে মনে হয় না। বেগম রোকেয়ার 'সুলতানাস ড্রিম'-এ নারী ও সমাজ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। বিভূতিভূষণের 'পথের পাঁচালী'-র  অপু-দুর্গার চরিত্রগুলোর মধ্যেও নিজেকে কল্পনা করতে আমাদের আনন্দ দেয়। এখানেই সাহিত্যের শক্তি। একটি ভালো বই পাঠককে নিজের পরিচিত চিন্তার জগতের বাইরে নিয়ে যায়।

আমরা সাধারণত নিজের মতের সাথে মিল আছে এমন মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করি। বই সেই সাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি ভেঙে দিতে পারে। একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ দর্শনের বই পড়তে পারেন, বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ সাহিত্যের বই পড়তে পারেন।সাহিত্যের মানুষ বিজ্ঞানের বই পড়তে পারেন।একমাত্র বই-ই পারে একটি মানুষকে তার পরিচিত পৃথিবীর বাইরে আরেকটি নতুন পৃথিবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। তখন অনুভব করতে পারবো আমরা যা ভাবি পৃথিবী শুধু তাই নয়। এই উপলব্ধিই মানুষকে মানবিক হতে শেখায় আর বিনয়ী করে তোলে। মানবজীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলো মানবিক আর বিনয়ী হওয়া। তার অর্থ এই  নয় যে ন্যায়-অন্যায় নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। মানুষের মতো মানুষ হতে হলে ন্যায়-অন্যায় বুঝতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে। সত্য-মিথ্যা যাচাই করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যুক্তি দিয়ে ভাবতে হবে। বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজের ভুল স্বীকার করার সৎসাহস থাকতে হবে এবং ভিন্নমতকে বুঝতে শিখতে হবে।

বই পড়লেই কী মানুষের মতো মানুষ হওয়া যায়?ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়,পৃথিবীতে এমন মানুষও ছিলেন, যারা অনেক বই পড়েছেন, অনেক জেনেছেন, কিন্তু জ্ঞানকে ন্যায়ের কাজে ব্যবহার করতে পারেননি। সুতরাং প্রশ্ন এটা হওয়া অনুচিত- 'কত বই পড়েছি?' বরং প্রশ্ন এটা হওয়া উচিত- 'পড়ে কী হয়েছি বা কী করতে পেরেছি!'

একজন মানুষ ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েও যদি তার আচরণে রূঢ়তা, নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায় তবে সেই পাঠ তার জীবনে কতটুকু আলো আনতে পেরেছে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। বই পড়ার সার্থকতা বইয়ের সমাপ্তিতে নয়, বরং বই পড়ে মানুষের কল্যাণে আসতে পেরেছি কি না কিংবা কতটুকু আলো নিজের জীবনে প্রতিফলিত করতে পেরেছি সেখানেই বই পড়ার সার্থকতা নিহিত। আমাদের বই পড়া উচিত পৃথিবীটাকে ভালোভাবে জানা এবং বোঝার জন্য, মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য, নিজের সীমাবদ্ধতা কোথায়, তা জানার জন্য।

সুতরাং বইয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা শুধুই পরীক্ষার ফল হতে পারে না। কারণ মানুষের জীবন পরীক্ষার সিলেবাসের চেয়েও অনেক অনেক গুণ বড়। জীবনে এমন অসংখ্য প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যার কোনো সাজেশন নেই। তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয় বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে। সেই বিবেক বুদ্ধিকে জাগ্রত করার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হলো ভালো বই।

একটি বই আমাদের কী দিয়েছে? তার হিসাব কখনোই তার পৃষ্ঠা গণনা করে হয়না। হয়তো একটি বই আমাদের একটি প্রশ্ন দিয়েছে। হয়তো একটি গল্প আমাদের ক্ষমা করতে শিখিয়েছে। হয়তো একটি বিজ্ঞানগ্রন্থ আমাদের কুসংস্কার থেকে মুক্ত করেছে। হয়তো একটি কবিতা আমাদের পৃথিবীকে সুন্দর করে দেখতে শিখিয়েছে।

তাই বই পড়বো শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়, বরং পড়বো কীভাবে জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায় সেজন্যও।

মুজাহিদুল হক হুসাইন


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত