সংবাদ

ভূমি অফিসে দালাল রাজত্ব, জিম্মি সাধারণ মানুষ


প্রতিনিধি, সাভার (ঢাকা)
প্রতিনিধি, সাভার (ঢাকা)
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ভূমি অফিসে দালাল রাজত্ব, জিম্মি সাধারণ মানুষ
ছবি : সংবাদ

সাভারের রাজফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে দেদার ঘুষ লেনদেন। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ জমি মালিকেরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া উচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত ‘মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টস’–এর জমি থেকে দুটি অবৈধ নামজারি (খারিজ) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে থাকা বিলবালিয়া মৌজার আরএস ৪৩৫৬ ও ৪৩৫৯ দাগ থেকে গুলশান আরা বেগমের নামে ৪১.২৫ শতক জমির নামজারি অনুমোদন দিয়েছেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জহিরুল আলম। যার খতিয়ান নম্বর ২০২৫-১০০২৫৩। এ ছাড়া মেট্রো মেকার্সের নামে থাকা একই মৌজার আরএস ৩২৬৮ দাগ থেকে মো. গোলাম আজমের নামে ৪.৯৫ শতক জমির নামজারি দিয়েছেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল-আমিন ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) জাহাঙ্গীর আলমের যোগসাজশে। যার খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০৫৫৮।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইমন হাছান বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মেট্রো মেকার্স কোম্পানির কিছু দাগে নামজারি বন্ধ রয়েছে। বিলবালিয়া মৌজার আরএস ৪৩৫৬, ৪৩৫৯ ও ৩২৬৮ দাগগুলো যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এগুলো মেট্রো মেকার্সের তালিকায় রয়েছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের রায়ে নদী ভরাট করে গড়ে ওঠা মেট্রো মেকার্স প্রকল্পের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে এবং কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এ বিষয়ে বেলার লিগ্যাল কো-অর্ডিনেটর হাসানুল বান্না বলেন, ‘আদালতের রায়ে নামজারির ওপর নির্দিষ্ট করে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে রায়ের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করলে নতুন করে কোনো উন্নয়ন বা নামজারি করলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মেট্রো মেকার্স আপিল করেছিল, আপিলেও উচ্চ আদালতের রায় বহাল রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে রিভিউ করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। মেট্রো মেকার্স একটি সম্পূর্ণ অবৈধ প্রকল্প।’

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমানে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ইউএনও মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘এটি আগের ঘটনা, সবকিছু মনে নেই। সে সময় ডিসি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু নামজারি হয়েছে। উচ্চ আদালতের রুলে নামজারির ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, আইনগত ভিত্তির ওপরই করা হয়েছে।’

এদিকে সরকারি প্রশাসনিক নীতিমালার ফাঁক গলে একই কর্মস্থলে ঘুরেফিরে তিনবার পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) জাহাঙ্গীর আলম। জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম প্রথম দফায় ২০২১ সালের ২৬ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত ২ বছর ১১ মাস ৯ দিন টানা কর্মরত ছিলেন। পরে বদলি হলেও রহস্যজনকভাবে কয়েক মাসের ব্যবধানে ওই বছরের ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় একই কার্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আবারও বদলি করা হলেও মাত্র কয়েক মাসের মাথায় চলতি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো ফের একই কার্যালয়ে বহাল হন তিনি। বর্তমানেও তিনি এই কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, অফিসের গেট থেকে শুরু করে ভেতরে অন্তত ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয়। সরকারি কোনো নিয়োগ ও বেতন না থাকলেও জনি, গৌর চন্দ্র, তুষার, মোহাম্মদ আলী আজগর, কামাল, নাঈম ও মারুফসহ একাধিক ব্যক্তি অফিসটিতে কাজ করছেন। সরকারি ফি ১,১cw০ টাকা হলেও দালাল ছাড়া কাজ করাতে গেলে কাগজে ভুল আছে–এমন অজুহাতে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা নামজারি করে দেন। এ ছাড়া রেকর্ড রুমের মতো স্পর্শকাতর কক্ষে অবাধে ঢুকছেন দালাল চক্রের সদস্য ও বহিরাগতরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই অবৈধ নামজারি দেন তহশিলদার জাহাঙ্গীর আলম। তবে তিনি নিজে কোনো টাকাপয়সা লেনদেন করেন না, তার দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লেনদেন হয়। অধিকাংশ লেনদেন হয় ভূমি অফিসের বাইরে।

আরেক ভুক্তভোগী নিরঞ্জন চন্দ্র মৃধা বলেন, ‘ভাকুড়্তা মৌজায় আমাদের ১৬ শতক জমির খাজনা দিতে গিয়ে দেখি অন্য ৫ জনের নামে নামজারি করা হয়েছে, যাদের আমরা চিনিই না।’ পরবর্তীতে প্রায় লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে তহশিলদার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে মেট্রো মেকার্সের নামে থাকা জমি কীভাবে নামজারি হলো জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। দালাল চক্রের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এ বিষয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে যদি কোনো নামজারি দেওয়া হয় এবং কোর্টের আদেশ অমান্য করা হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্তদের বাইরে অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভূমি অফিসে দালাল রাজত্ব, জিম্মি সাধারণ মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাভারের রাজফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে দেদার ঘুষ লেনদেন। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ জমি মালিকেরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া উচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত ‘মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টস’–এর জমি থেকে দুটি অবৈধ নামজারি (খারিজ) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে থাকা বিলবালিয়া মৌজার আরএস ৪৩৫৬ ও ৪৩৫৯ দাগ থেকে গুলশান আরা বেগমের নামে ৪১.২৫ শতক জমির নামজারি অনুমোদন দিয়েছেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জহিরুল আলম। যার খতিয়ান নম্বর ২০২৫-১০০২৫৩। এ ছাড়া মেট্রো মেকার্সের নামে থাকা একই মৌজার আরএস ৩২৬৮ দাগ থেকে মো. গোলাম আজমের নামে ৪.৯৫ শতক জমির নামজারি দিয়েছেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল-আমিন ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) জাহাঙ্গীর আলমের যোগসাজশে। যার খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০৫৫৮।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইমন হাছান বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মেট্রো মেকার্স কোম্পানির কিছু দাগে নামজারি বন্ধ রয়েছে। বিলবালিয়া মৌজার আরএস ৪৩৫৬, ৪৩৫৯ ও ৩২৬৮ দাগগুলো যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এগুলো মেট্রো মেকার্সের তালিকায় রয়েছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের রায়ে নদী ভরাট করে গড়ে ওঠা মেট্রো মেকার্স প্রকল্পের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে এবং কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এ বিষয়ে বেলার লিগ্যাল কো-অর্ডিনেটর হাসানুল বান্না বলেন, ‘আদালতের রায়ে নামজারির ওপর নির্দিষ্ট করে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে রায়ের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করলে নতুন করে কোনো উন্নয়ন বা নামজারি করলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মেট্রো মেকার্স আপিল করেছিল, আপিলেও উচ্চ আদালতের রায় বহাল রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে রিভিউ করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। মেট্রো মেকার্স একটি সম্পূর্ণ অবৈধ প্রকল্প।’

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমানে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ইউএনও মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘এটি আগের ঘটনা, সবকিছু মনে নেই। সে সময় ডিসি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু নামজারি হয়েছে। উচ্চ আদালতের রুলে নামজারির ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, আইনগত ভিত্তির ওপরই করা হয়েছে।’

এদিকে সরকারি প্রশাসনিক নীতিমালার ফাঁক গলে একই কর্মস্থলে ঘুরেফিরে তিনবার পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) জাহাঙ্গীর আলম। জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম প্রথম দফায় ২০২১ সালের ২৬ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত ২ বছর ১১ মাস ৯ দিন টানা কর্মরত ছিলেন। পরে বদলি হলেও রহস্যজনকভাবে কয়েক মাসের ব্যবধানে ওই বছরের ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় একই কার্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আবারও বদলি করা হলেও মাত্র কয়েক মাসের মাথায় চলতি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো ফের একই কার্যালয়ে বহাল হন তিনি। বর্তমানেও তিনি এই কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, অফিসের গেট থেকে শুরু করে ভেতরে অন্তত ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয়। সরকারি কোনো নিয়োগ ও বেতন না থাকলেও জনি, গৌর চন্দ্র, তুষার, মোহাম্মদ আলী আজগর, কামাল, নাঈম ও মারুফসহ একাধিক ব্যক্তি অফিসটিতে কাজ করছেন। সরকারি ফি ১,১cw০ টাকা হলেও দালাল ছাড়া কাজ করাতে গেলে কাগজে ভুল আছে–এমন অজুহাতে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা নামজারি করে দেন। এ ছাড়া রেকর্ড রুমের মতো স্পর্শকাতর কক্ষে অবাধে ঢুকছেন দালাল চক্রের সদস্য ও বহিরাগতরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই অবৈধ নামজারি দেন তহশিলদার জাহাঙ্গীর আলম। তবে তিনি নিজে কোনো টাকাপয়সা লেনদেন করেন না, তার দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লেনদেন হয়। অধিকাংশ লেনদেন হয় ভূমি অফিসের বাইরে।

আরেক ভুক্তভোগী নিরঞ্জন চন্দ্র মৃধা বলেন, ‘ভাকুড়্তা মৌজায় আমাদের ১৬ শতক জমির খাজনা দিতে গিয়ে দেখি অন্য ৫ জনের নামে নামজারি করা হয়েছে, যাদের আমরা চিনিই না।’ পরবর্তীতে প্রায় লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে তহশিলদার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে মেট্রো মেকার্সের নামে থাকা জমি কীভাবে নামজারি হলো জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। দালাল চক্রের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এ বিষয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে যদি কোনো নামজারি দেওয়া হয় এবং কোর্টের আদেশ অমান্য করা হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্তদের বাইরে অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত