সংবাদ

মঞ্চনাটক

‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ নাটকে স্বাধীনতা ও যৌবনের জয়গান


ওবায়েদ আকাশ
ওবায়েদ আকাশ
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ এএম

‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ নাটকে স্বাধীনতা ও যৌবনের জয়গান
`দুই পাখি ও নন্দিনী' নাটকের একটি দৃশ্য


স্বাধীনতা মানুষের চিরকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। এই স্বাধীনতাকে ঘিরে রচিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা, নাটক, গান, গল্পসহ প্রচুর সাহিত্যকর্ম। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অসংখ্য রচনায় এ প্রসঙ্গে উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা ‘দুই পাখি’ ও নাটক ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী চরিত্রটিকে নিয়ে “দুই পাখি ও নন্দিনী” নামে একটি নাটক মঞ্চে এনেছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নাটকটির উদ্বোধনী শো মঞ্চস্থ হলো জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার মঞ্চে। দীর্ঘদিন পর নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাটক মঞ্চস্থ হওয়ায় হলভর্তি ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পী লাকি ইনাম এবং প্রযোজনা ভাবনা ছিল হৃদি হকের। 

নাটকের যে দিকটি সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে, সেটি হলো নন্দিনীর চরিত্রে তিনজনের অভিনয়। এই তিন অভিনয় শিল্পী হলেন পারিশা আফরোজ, লায়লা পলি ও ফারিন তামান্না। রাজার ভূমিকায় চমৎকার অভিনয় করেন জুয়েল জহুর। নাটকে প্রেম বিজয়ী হয়, ক্ষমতা বরাবরের মতোই পরাজিত। হত্যা এবং নির্যাতন করে প্রকৃত সাফল্যকে ধরা যায় না। ভালবাসার পাত্রকে নিঃশেষ  করে দিলেও সে জেগে থাকে। 

দুই পাখি কবিতাটি রচিত হয়েছে একটি বনের পাখি আর একটি খাঁচার পাখিকে ঘিরে। উভয়েই উভয়ের জায়গায় সুখ খুঁজে পেলেও; প্রকৃত সুখ মেলে স্বাধীনতায়। আবার নন্দিনীকে হাজার চেষ্টাতেও ক্ষমতা আর বৈভব দিয়ে জয় করা যায় না। সে রাজা বাদশা যেই হোন না কেন, নন্দিনী তার ভালবাসার মানুষ রঞ্জনকে ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে পারে না। রাজা তাকে উভয়ের সাথে সম্পর্কের প্রলোভন দেখালেও নন্দিনী তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত রাজা রঞ্জনকে হত্যা করে। তার হাতে শোভা পায় একগুচ্ছ রক্তকরবী। নাটকটি সব ধরনের দর্শকের উপযোগী করে মঞ্চস্থ করা হয়েছে কিনা— তা অবশ্য বোধগম্য নয়। নাটকটি সব দর্শকের বুঝে ওঠার ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। একজন দর্শক নাটকটি দেখে এমন মন্তব্য করলেন। নাটকে যৌবনের জয়জয়কারকে তিনি মুখ্য অনুষঙ্গ বলে অনুধাবন করতে পেরেছেন। লাকি ইনাম জানালেন, তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করছেন। এ নাটকে তার প্রতিফলন ঘটেছে। নাটকটি সম্পর্কে তার বক্তব্য এবং নাটকের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—  

“‘দুই পাখি’ আর ‘রক্ত করবী’ দুটোই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটাই কথা বলার দু’রকম রূপ। কথাটি আর কিছুই নয়— ‘স্বাধীনতা’। স্বাধীনতা আসলে কী? 

আসল স্বাধীনতা দেয়াল তোলার মানসিকতা ভাঙ্গা। শুধু দেয়াল ভাঙ্গা নয়। 

দুই পাখি কবিতার মূল বিষয় হলো— স্বাধীনতা বনাম বন্দীত্ব এবং প্রাকৃতিক মুক্ত জীবন বনাম আরাম আয়েশে বাঁধা জীবন। খাঁচার পাখি আছে প্রাচুর্য আর বিলাসিতায় কিন্তু তার ডানা দুটি বাঁধা। সে বাইরের জগৎটা দেখতে পায় না। ডানা মেলে নীল আকাশে উড়তে পারে না। মন খুলে গাইতে পারে না গান। আর বনের পাখির জীবনে হয়তো অনিশ্চয়তা আছে, কষ্ট আছে কিন্তু সে মুক্ত। আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় মনের খুশিতে, গান গায় শিস দেয়। কিন্তু শুধু আরাম আয়েশ আর বিলাসিতা দিয়ে জীবন পূর্ণ হয় না— সত্যিকারের আনন্দ হলো স্বাধীনতায়। প্রকৃতির সাথে মিশে থাকায়। চলার পথে জীবনে কষ্টের মুখোমুখি হতে হলেও মুক্ত আত্মার শান্তি অনেক কাঙ্ক্ষিত। বনের পাখি চায়— খাঁচার পাখি সোনার খাঁচা ভেঙে মুক্ত জীবনের স্বাদ গ্রহণ করুক। স্বাধীনতার সুখ অনুভব করুক। এটি আসলে স্বাধীনতা বনাম নিরাপত্তার টানাপড়েন নিয়ে লেখা। একটি গায় মুক্তির গান অন্যটি বাঁধনের। একটি শেকলে বাঁধা, আরেকটি ঝুঁকি নিয়ে মুক্ত। আর ‘রক্ত করবী’র নন্দিনী? সে শুধু একটি চরিত্র নয়— সে পুরো নাটকের প্রাণ আর যৌবনের প্রতীক। নন্দিনীর দর্শন হলো মুক্তি আর মানবতা। যক্ষপুরীর রাজা মকররাজ যেখানে মানুষকে যন্ত্র বানিয়ে শুধু সোনা উত্তোলনের কাজে লাগায় নন্দিনী সেখানে মানুষের মনে প্রেম আর আনন্দ দিতে চায়। তার কাছে মানুষ মানে শুধু শ্রমিক না মানুষ মানে হাসি, গান ফুল আর মানবতার জয় গান। নন্দিনী প্রকৃতির মতোই স্বতঃস্ফূর্ত। সে ফুল ভালবাসে, সে রঙের কথা বলে। রাজার নিয়মবাধা ধূসর যক্ষপুরীতে সে রঙ আর আলো নিয়ে আসে। তার গলা আর সিঁথির লাল রক্তকরবী ফুলটাই বিদ্রোহের চিহ্ন।

ক্তকরবী নাটকে রাজার খাঁচা চোখে দেখা যায় না। লোভ নিষ্ঠুরতা, ভয়ভীতি, আঘাত এগুলোই তার যক্ষপুরী। শেকল নেই তবু সেই সবচেয়ে বেশি বন্দী। নন্দিনী তাকে চাবি দেয় না বরং সে রঙ, গান আর ফুল নিয়ে আসে। রাজার মনটাকে নাড়িয়ে দেয়— রাজাকে জাগায়। নন্দিনী অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে না— সে ভালোবাসা, সাহস আর সত্য নিয়ে মানুষের ভেতরের ঘুমন্ত বিবেককে জাগায়। কিশোর, ফাগুলাল সবার মনে সে নতুন আশা জাগায়। তার বিশ্বাস— ভয় দিয়ে মানুষকে চিরকাল বন্দী করে রাখা যায় না। নন্দিনীর প্রেম রাজার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। সে রাজার সোনা মোড়ানো ক্ষমতার পক্ষপাতী নয়। সে চায় মানুষ মানুষের মতো বাঁচুক। নন্দিনীর লক্ষ্য শোষণমুক্ত, মুক্ত মানুষের পৃথিবী— যেখানে কোনো রাজা থাকবে না— থাকবে মানুষ। তাই রাজাকে তার জাল ছিঁড়ে মুক্ত মানুষের কাতারে ফিরে আসার আহবান জানায় সে। রাজা যেন নিজ চোখে দেখতে পায় মানুষের মানবেতর জীবন। নন্দিনী হলো সেই বনের পাখি যে রাজার খাঁচায় উড়ে আসে। সে প্রহরীর সাথে লড়ে না। সে রাজাকে দু’হাত মেলে আকাশটা চাইতে শেখায়। রাজা যখন বেরিয়ে আসে ওটা পালানো নয়. ওটা জেগে ওঠা। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন স্বাধীনতা মানে খাঁচা নেই তা কিন্তু নয়। স্বাধীনতা মানে ঝড়টাকে বেছে নেয়া। খাঁচার পাখি প্রশ্নটা তোলে— রক্তকরবী নন্দিনীর মাধ্যমে উত্তরটা দেয়। তাই দুটোই আজ এত কাঙ্ক্ষিত, এত প্রাণবন্ত। একটা মন ছুঁয়ে যায় আরেকটা হৃদয়।”

পুরো নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি গান ব্যবহৃত হয়েছে। পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয়রে ছুটে আয়... গানের মাধ্যমে নতুন ফসল কাটার আহ্বান জানিয়ে নাটকটি শেষ হয়। নাটকটির মঞ্চসজ্জা করেছেন শাওন আকন্দ এবং সঙ্গীত আসমা দেবযানী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ নাটকে স্বাধীনতা ও যৌবনের জয়গান

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


স্বাধীনতা মানুষের চিরকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। এই স্বাধীনতাকে ঘিরে রচিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা, নাটক, গান, গল্পসহ প্রচুর সাহিত্যকর্ম। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অসংখ্য রচনায় এ প্রসঙ্গে উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা ‘দুই পাখি’ ও নাটক ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী চরিত্রটিকে নিয়ে “দুই পাখি ও নন্দিনী” নামে একটি নাটক মঞ্চে এনেছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নাটকটির উদ্বোধনী শো মঞ্চস্থ হলো জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার মঞ্চে। দীর্ঘদিন পর নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাটক মঞ্চস্থ হওয়ায় হলভর্তি ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পী লাকি ইনাম এবং প্রযোজনা ভাবনা ছিল হৃদি হকের। 

নাটকের যে দিকটি সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে, সেটি হলো নন্দিনীর চরিত্রে তিনজনের অভিনয়। এই তিন অভিনয় শিল্পী হলেন পারিশা আফরোজ, লায়লা পলি ও ফারিন তামান্না। রাজার ভূমিকায় চমৎকার অভিনয় করেন জুয়েল জহুর। নাটকে প্রেম বিজয়ী হয়, ক্ষমতা বরাবরের মতোই পরাজিত। হত্যা এবং নির্যাতন করে প্রকৃত সাফল্যকে ধরা যায় না। ভালবাসার পাত্রকে নিঃশেষ  করে দিলেও সে জেগে থাকে। 

দুই পাখি কবিতাটি রচিত হয়েছে একটি বনের পাখি আর একটি খাঁচার পাখিকে ঘিরে। উভয়েই উভয়ের জায়গায় সুখ খুঁজে পেলেও; প্রকৃত সুখ মেলে স্বাধীনতায়। আবার নন্দিনীকে হাজার চেষ্টাতেও ক্ষমতা আর বৈভব দিয়ে জয় করা যায় না। সে রাজা বাদশা যেই হোন না কেন, নন্দিনী তার ভালবাসার মানুষ রঞ্জনকে ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে পারে না। রাজা তাকে উভয়ের সাথে সম্পর্কের প্রলোভন দেখালেও নন্দিনী তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত রাজা রঞ্জনকে হত্যা করে। তার হাতে শোভা পায় একগুচ্ছ রক্তকরবী। নাটকটি সব ধরনের দর্শকের উপযোগী করে মঞ্চস্থ করা হয়েছে কিনা— তা অবশ্য বোধগম্য নয়। নাটকটি সব দর্শকের বুঝে ওঠার ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। একজন দর্শক নাটকটি দেখে এমন মন্তব্য করলেন। নাটকে যৌবনের জয়জয়কারকে তিনি মুখ্য অনুষঙ্গ বলে অনুধাবন করতে পেরেছেন। লাকি ইনাম জানালেন, তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করছেন। এ নাটকে তার প্রতিফলন ঘটেছে। নাটকটি সম্পর্কে তার বক্তব্য এবং নাটকের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—  

“‘দুই পাখি’ আর ‘রক্ত করবী’ দুটোই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটাই কথা বলার দু’রকম রূপ। কথাটি আর কিছুই নয়— ‘স্বাধীনতা’। স্বাধীনতা আসলে কী? 

আসল স্বাধীনতা দেয়াল তোলার মানসিকতা ভাঙ্গা। শুধু দেয়াল ভাঙ্গা নয়। 

দুই পাখি কবিতার মূল বিষয় হলো— স্বাধীনতা বনাম বন্দীত্ব এবং প্রাকৃতিক মুক্ত জীবন বনাম আরাম আয়েশে বাঁধা জীবন। খাঁচার পাখি আছে প্রাচুর্য আর বিলাসিতায় কিন্তু তার ডানা দুটি বাঁধা। সে বাইরের জগৎটা দেখতে পায় না। ডানা মেলে নীল আকাশে উড়তে পারে না। মন খুলে গাইতে পারে না গান। আর বনের পাখির জীবনে হয়তো অনিশ্চয়তা আছে, কষ্ট আছে কিন্তু সে মুক্ত। আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় মনের খুশিতে, গান গায় শিস দেয়। কিন্তু শুধু আরাম আয়েশ আর বিলাসিতা দিয়ে জীবন পূর্ণ হয় না— সত্যিকারের আনন্দ হলো স্বাধীনতায়। প্রকৃতির সাথে মিশে থাকায়। চলার পথে জীবনে কষ্টের মুখোমুখি হতে হলেও মুক্ত আত্মার শান্তি অনেক কাঙ্ক্ষিত। বনের পাখি চায়— খাঁচার পাখি সোনার খাঁচা ভেঙে মুক্ত জীবনের স্বাদ গ্রহণ করুক। স্বাধীনতার সুখ অনুভব করুক। এটি আসলে স্বাধীনতা বনাম নিরাপত্তার টানাপড়েন নিয়ে লেখা। একটি গায় মুক্তির গান অন্যটি বাঁধনের। একটি শেকলে বাঁধা, আরেকটি ঝুঁকি নিয়ে মুক্ত। আর ‘রক্ত করবী’র নন্দিনী? সে শুধু একটি চরিত্র নয়— সে পুরো নাটকের প্রাণ আর যৌবনের প্রতীক। নন্দিনীর দর্শন হলো মুক্তি আর মানবতা। যক্ষপুরীর রাজা মকররাজ যেখানে মানুষকে যন্ত্র বানিয়ে শুধু সোনা উত্তোলনের কাজে লাগায় নন্দিনী সেখানে মানুষের মনে প্রেম আর আনন্দ দিতে চায়। তার কাছে মানুষ মানে শুধু শ্রমিক না মানুষ মানে হাসি, গান ফুল আর মানবতার জয় গান। নন্দিনী প্রকৃতির মতোই স্বতঃস্ফূর্ত। সে ফুল ভালবাসে, সে রঙের কথা বলে। রাজার নিয়মবাধা ধূসর যক্ষপুরীতে সে রঙ আর আলো নিয়ে আসে। তার গলা আর সিঁথির লাল রক্তকরবী ফুলটাই বিদ্রোহের চিহ্ন।

ক্তকরবী নাটকে রাজার খাঁচা চোখে দেখা যায় না। লোভ নিষ্ঠুরতা, ভয়ভীতি, আঘাত এগুলোই তার যক্ষপুরী। শেকল নেই তবু সেই সবচেয়ে বেশি বন্দী। নন্দিনী তাকে চাবি দেয় না বরং সে রঙ, গান আর ফুল নিয়ে আসে। রাজার মনটাকে নাড়িয়ে দেয়— রাজাকে জাগায়। নন্দিনী অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে না— সে ভালোবাসা, সাহস আর সত্য নিয়ে মানুষের ভেতরের ঘুমন্ত বিবেককে জাগায়। কিশোর, ফাগুলাল সবার মনে সে নতুন আশা জাগায়। তার বিশ্বাস— ভয় দিয়ে মানুষকে চিরকাল বন্দী করে রাখা যায় না। নন্দিনীর প্রেম রাজার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। সে রাজার সোনা মোড়ানো ক্ষমতার পক্ষপাতী নয়। সে চায় মানুষ মানুষের মতো বাঁচুক। নন্দিনীর লক্ষ্য শোষণমুক্ত, মুক্ত মানুষের পৃথিবী— যেখানে কোনো রাজা থাকবে না— থাকবে মানুষ। তাই রাজাকে তার জাল ছিঁড়ে মুক্ত মানুষের কাতারে ফিরে আসার আহবান জানায় সে। রাজা যেন নিজ চোখে দেখতে পায় মানুষের মানবেতর জীবন। নন্দিনী হলো সেই বনের পাখি যে রাজার খাঁচায় উড়ে আসে। সে প্রহরীর সাথে লড়ে না। সে রাজাকে দু’হাত মেলে আকাশটা চাইতে শেখায়। রাজা যখন বেরিয়ে আসে ওটা পালানো নয়. ওটা জেগে ওঠা। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন স্বাধীনতা মানে খাঁচা নেই তা কিন্তু নয়। স্বাধীনতা মানে ঝড়টাকে বেছে নেয়া। খাঁচার পাখি প্রশ্নটা তোলে— রক্তকরবী নন্দিনীর মাধ্যমে উত্তরটা দেয়। তাই দুটোই আজ এত কাঙ্ক্ষিত, এত প্রাণবন্ত। একটা মন ছুঁয়ে যায় আরেকটা হৃদয়।”

পুরো নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি গান ব্যবহৃত হয়েছে। পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয়রে ছুটে আয়... গানের মাধ্যমে নতুন ফসল কাটার আহ্বান জানিয়ে নাটকটি শেষ হয়। নাটকটির মঞ্চসজ্জা করেছেন শাওন আকন্দ এবং সঙ্গীত আসমা দেবযানী।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত