নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১১ বছর বয়সী হোসাইনের রক্তাক্ত মরদেহ। কে বা কারা এত ছোট একটি শিশুকে হত্যা করতে পারে- এই প্রশ্নের উত্তর যতই ভয়াবহ হোক, বাস্তবতা তার চেয়েও বেশি নৃশংস।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ যখন তথ্য জোগাড় করতে থাকে, তখন বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত ও এক অপরাধীর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে অবিশ্বাস্য এক চিত্র।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে- ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা নিতে হবে’। সেই পরিকল্পনা থেকেই বেছে নেওয়া হয় নিরীহ হোসাইনকে।
নিহত হোসাইন ফুল বিক্রি করতো তার বাবা সুমনের সঙ্গে। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। ছয় দিন পর ২৪ এপ্রিল ফতুল্লার রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় নিয়মিত আড্ডা ও মাদক সেবন করতো এই কিশোর গ্রুপটি। সেই পরিত্যক্ত বাড়িতেই ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় হোসাইনকে।
জবানবন্দিতে এক কিশোর জানিয়েছে, ‘আমরা জানতাম, খুন করলে পুলিশ ধরে জেলে পাঠায়। জেলে কেমন লাগে, তা একবার অনুভব করতে চেয়েছিলাম।’ মোট ছয়জন মিলে পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতে হোসাইনের জন্য।
মাত্র ১১ বছরের শিশুটি হয়তো জানতেই পারেনি, আদর করে ডেকে নিয়ে যাওয়া ‘বন্ধুরা’ আসলে তার মৃত্যুদূত। নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশ ফেলে রেখে যায় তারা।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপরাধের ধরন বদলে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা। জেল খাটার অভিজ্ঞতা নিতে শিশু হত্যা- এ যেন এক বিকৃত মানসিকতার চরম প্রকাশ।’
ঘটনার পর পুরো ফতুল্লায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাস্তায় রাস্তায় ঘটনার নির্মমতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১১ বছর বয়সী হোসাইনের রক্তাক্ত মরদেহ। কে বা কারা এত ছোট একটি শিশুকে হত্যা করতে পারে- এই প্রশ্নের উত্তর যতই ভয়াবহ হোক, বাস্তবতা তার চেয়েও বেশি নৃশংস।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ যখন তথ্য জোগাড় করতে থাকে, তখন বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত ও এক অপরাধীর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে অবিশ্বাস্য এক চিত্র।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে- ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা নিতে হবে’। সেই পরিকল্পনা থেকেই বেছে নেওয়া হয় নিরীহ হোসাইনকে।
নিহত হোসাইন ফুল বিক্রি করতো তার বাবা সুমনের সঙ্গে। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। ছয় দিন পর ২৪ এপ্রিল ফতুল্লার রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় নিয়মিত আড্ডা ও মাদক সেবন করতো এই কিশোর গ্রুপটি। সেই পরিত্যক্ত বাড়িতেই ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় হোসাইনকে।
জবানবন্দিতে এক কিশোর জানিয়েছে, ‘আমরা জানতাম, খুন করলে পুলিশ ধরে জেলে পাঠায়। জেলে কেমন লাগে, তা একবার অনুভব করতে চেয়েছিলাম।’ মোট ছয়জন মিলে পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতে হোসাইনের জন্য।
মাত্র ১১ বছরের শিশুটি হয়তো জানতেই পারেনি, আদর করে ডেকে নিয়ে যাওয়া ‘বন্ধুরা’ আসলে তার মৃত্যুদূত। নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশ ফেলে রেখে যায় তারা।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপরাধের ধরন বদলে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা। জেল খাটার অভিজ্ঞতা নিতে শিশু হত্যা- এ যেন এক বিকৃত মানসিকতার চরম প্রকাশ।’
ঘটনার পর পুরো ফতুল্লায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাস্তায় রাস্তায় ঘটনার নির্মমতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন