বিনিয়োগ খরায় ভোগা দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দুই সপ্তাহের মাথায় লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয় ১ হাজার ১০১ কোটি ৫২ লাখ টাকার। ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে আরও ৩৭২ কোটি টাকা।
আগের দিন এই বাজারে লেনদেন ছিল ৭১৪ কোটি টাকার আশপাশে। একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৮৭ কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সূচকও বেড়েছে ২৪ পয়েন্ট। ডিএসইর সূচক দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টে।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল শেষবার ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। তখন হাতবদল হয় ১ হাজার ২৬ কোটি টাকার শেয়ার। এরপর দুই সপ্তাহ লেনদেন ৭০০ থেকে ৮৭৬ কোটি টাকার মধ্যে ঘুরপাক খায়।
মঙ্গলবার লেনদেনের সময় রাজধানীর একটি হোটেলে ৩৯ বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র (বিএসআইসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সেখানে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘আমরা ক্যাপিটাল মার্কেট রিফর্মে যাচ্ছি। বড় ধরনের সংস্কার হবে। আমরা বিগওয়েতে সিরিয়াস রেগুলেশনে যাচ্ছি।’
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই বাজারে উৎসাহ বেড়ে যায়। দিনের প্রথম আধাঘণ্টায় সূচকে কিছুটা তেজিভাব থাকলেও পরে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু দুপুরের দিকে লেনদেন গতি পায়। শেষ পর্যন্ত তা ছাড়িয়ে যায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
শুধু লেনদেন নয়, দরবৃদ্ধির প্রতিযোগিতাতেও উল্লম্ফন দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৮টির। আর কমেছে ১৩৮টির।
প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাত, বস্ত্র, বীমা ও ব্যাংক খাতের শেয়ারের লেনদেন ছিল সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি পেয়েছে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস। আগের দিনের চেয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ইসলামী কমার্শিয়াল ব্যাংক। আর তৃতীয় স্থানে ভিএফএস থ্রেড ডাইং লিমিটেড।
অন্যদিকে দর হারানোর তালিকায় শীর্ষে মেঘনা পিইটি লিমিটেড, দ্বিতীয়ে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও তৃতীয়ে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি হয়েছিল। তারপর প্রায় আড়াই মাস লেনদেন হাজার কোটি টাকা স্পর্শ করতে পারেনি। মাঝে ৮ এপ্রিল ৯৯২ কোটি টাকার কাছাকাছি গেলেও টপকাতে পারেনি।
তবে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের অনেকে আশা করছেন, আসন্ন দিনগুলোতে লেনদেনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে পুঁজিবাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে। সূত্র: বিডিনিউজ।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
বিনিয়োগ খরায় ভোগা দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দুই সপ্তাহের মাথায় লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয় ১ হাজার ১০১ কোটি ৫২ লাখ টাকার। ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে আরও ৩৭২ কোটি টাকা।
আগের দিন এই বাজারে লেনদেন ছিল ৭১৪ কোটি টাকার আশপাশে। একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৮৭ কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সূচকও বেড়েছে ২৪ পয়েন্ট। ডিএসইর সূচক দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টে।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল শেষবার ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। তখন হাতবদল হয় ১ হাজার ২৬ কোটি টাকার শেয়ার। এরপর দুই সপ্তাহ লেনদেন ৭০০ থেকে ৮৭৬ কোটি টাকার মধ্যে ঘুরপাক খায়।
মঙ্গলবার লেনদেনের সময় রাজধানীর একটি হোটেলে ৩৯ বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র (বিএসআইসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সেখানে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘আমরা ক্যাপিটাল মার্কেট রিফর্মে যাচ্ছি। বড় ধরনের সংস্কার হবে। আমরা বিগওয়েতে সিরিয়াস রেগুলেশনে যাচ্ছি।’
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই বাজারে উৎসাহ বেড়ে যায়। দিনের প্রথম আধাঘণ্টায় সূচকে কিছুটা তেজিভাব থাকলেও পরে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু দুপুরের দিকে লেনদেন গতি পায়। শেষ পর্যন্ত তা ছাড়িয়ে যায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
শুধু লেনদেন নয়, দরবৃদ্ধির প্রতিযোগিতাতেও উল্লম্ফন দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৮টির। আর কমেছে ১৩৮টির।
প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাত, বস্ত্র, বীমা ও ব্যাংক খাতের শেয়ারের লেনদেন ছিল সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি পেয়েছে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস। আগের দিনের চেয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ইসলামী কমার্শিয়াল ব্যাংক। আর তৃতীয় স্থানে ভিএফএস থ্রেড ডাইং লিমিটেড।
অন্যদিকে দর হারানোর তালিকায় শীর্ষে মেঘনা পিইটি লিমিটেড, দ্বিতীয়ে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও তৃতীয়ে এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি হয়েছিল। তারপর প্রায় আড়াই মাস লেনদেন হাজার কোটি টাকা স্পর্শ করতে পারেনি। মাঝে ৮ এপ্রিল ৯৯২ কোটি টাকার কাছাকাছি গেলেও টপকাতে পারেনি।
তবে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের অনেকে আশা করছেন, আসন্ন দিনগুলোতে লেনদেনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে পুঁজিবাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে। সূত্র: বিডিনিউজ।

আপনার মতামত লিখুন