প্রায় এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ে যাচ্ছেন।ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সফরকে কেবল কূটনৈতিক হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। যা আগামী দশকের ভূ-রাজনীতির দিকনির্ধারণ করতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, এবার সেটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতেও পারে, নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প এবার শুল্ক কমানোর চেয়ে চীনা বাজারে আমেরিকান পণ্যের অনুপ্রবেশ বাড়ানোর কৌশল নিতে পারেন। অর্থাৎ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রয়োগ করতে পারেন।চীনও ট্রাম্পের এই কৌশল জানে। তাই বেইজিং এখন আঞ্চলিক বন্ধুত্ব জোরদারের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
খনিজ তেলের যুগ তো শেষ। এখন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি। এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের চীন সফরের ছায়ায় থাকছে চিপ রপ্তানি ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রশ্ন।
ওয়াশিংটনের স্পষ্ট বার্তা- চীনের সামরিক বাহিনী যেন আমেরিকান প্রযুক্তি ব্যবহার না করতে পারে। চীন কিন্তু এতে নতি স্বীকার করবে না। বরং উল্টো তারা নিজেদের প্রযুক্তি স্বনির্ভর করার তাগিদ আরও বাড়াবে। ফলে বৈঠক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা যখন চরমে, তখন চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক হিসেবে ইরানের প্রধান ক্রেতা। ট্রাম্প চাইবেন বেইজিং যেন তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিনিময়ে চীন বাণিজ্যে বড় ছাড় নিতে চাইতে পারে।
কিন্তু ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক কি ট্রাম্পের একটিমাত্র সফরে বদলে যাবে? সম্ভাবনা খুবই কম। বরং বেইজিং কূটনৈতিক চাপ এড়িয়ে ‘শান্তি বজায় রাখার’ মুসিবতে পড়তে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুচাপের জটিলতা সবচেয়ে বড় প্রভাবক। শি জিনপিং ‘এক চীন’ নীতিতে অনড়। ট্রাম্প আগের মেয়াদে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি করে চীনকে ক্ষুব্ধ করেছিলেন। এবার তিনি কি সেই অবস্থান বজায় রাখবেন, না কি কোনও সমঝোতায় আসবেন?
চীন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে- নিজের ভূখণ্ডের প্রশ্নে আপস নয়। তাই শি-ট্রাম্প বৈঠক সফল হওয়ার চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।এমনটাই ভাবছেন বিশ্লেষকরা।
গত দশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট চীন সফর করেননি। এর ফলে দুই দেশের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে আস্থার বড় সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট আর শির চীনা স্বপ্ন যেখানে মুখোমুখি, সেখানে সমঝোতা সহজ পথ নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতিও ট্রাম্পকে চীনের বিপরীতে কঠোর ভূমিকা রাখতে প্ররোচিত করতে পারে।
ট্রাম্পের চীন সফর থেকে বড় কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বেরিয়ে আসা কঠিন। তবে অন্তত একটি নীলনকশা তৈরি হতে পারে। যেখান থেকে নির্ধারণ হবে, কোন বিষয়ে কতটুকু এগোনো যাবে, আর কোথায় লালরেখা অতিক্রম করা যাবে না।
বিশ্ব অর্থনীতি এই মুহূর্তে অস্থির, ক্রমবর্ধমান ঋণ, মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনে জর্জরিত। তাই দুই নেতার বৈঠক সফল না হলে বিশ্ববাণিজ্যে নতুন মন্দা আসতে পারে। অন্যদিকে কোনো প্রকার সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির বাণিজ্যে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামীকাল ১৩ থেকে ১৫ মে চীন সফর করবেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে তিনি এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাবেন। এটি ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের প্রথম এবং দীর্ঘ ৯ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীনে প্রথম সফর।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
প্রায় এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ে যাচ্ছেন।ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সফরকে কেবল কূটনৈতিক হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। যা আগামী দশকের ভূ-রাজনীতির দিকনির্ধারণ করতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, এবার সেটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতেও পারে, নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প এবার শুল্ক কমানোর চেয়ে চীনা বাজারে আমেরিকান পণ্যের অনুপ্রবেশ বাড়ানোর কৌশল নিতে পারেন। অর্থাৎ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রয়োগ করতে পারেন।চীনও ট্রাম্পের এই কৌশল জানে। তাই বেইজিং এখন আঞ্চলিক বন্ধুত্ব জোরদারের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
খনিজ তেলের যুগ তো শেষ। এখন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি। এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের চীন সফরের ছায়ায় থাকছে চিপ রপ্তানি ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রশ্ন।
ওয়াশিংটনের স্পষ্ট বার্তা- চীনের সামরিক বাহিনী যেন আমেরিকান প্রযুক্তি ব্যবহার না করতে পারে। চীন কিন্তু এতে নতি স্বীকার করবে না। বরং উল্টো তারা নিজেদের প্রযুক্তি স্বনির্ভর করার তাগিদ আরও বাড়াবে। ফলে বৈঠক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা যখন চরমে, তখন চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক হিসেবে ইরানের প্রধান ক্রেতা। ট্রাম্প চাইবেন বেইজিং যেন তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিনিময়ে চীন বাণিজ্যে বড় ছাড় নিতে চাইতে পারে।
কিন্তু ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক কি ট্রাম্পের একটিমাত্র সফরে বদলে যাবে? সম্ভাবনা খুবই কম। বরং বেইজিং কূটনৈতিক চাপ এড়িয়ে ‘শান্তি বজায় রাখার’ মুসিবতে পড়তে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুচাপের জটিলতা সবচেয়ে বড় প্রভাবক। শি জিনপিং ‘এক চীন’ নীতিতে অনড়। ট্রাম্প আগের মেয়াদে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি করে চীনকে ক্ষুব্ধ করেছিলেন। এবার তিনি কি সেই অবস্থান বজায় রাখবেন, না কি কোনও সমঝোতায় আসবেন?
চীন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে- নিজের ভূখণ্ডের প্রশ্নে আপস নয়। তাই শি-ট্রাম্প বৈঠক সফল হওয়ার চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।এমনটাই ভাবছেন বিশ্লেষকরা।
গত দশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট চীন সফর করেননি। এর ফলে দুই দেশের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে আস্থার বড় সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট আর শির চীনা স্বপ্ন যেখানে মুখোমুখি, সেখানে সমঝোতা সহজ পথ নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতিও ট্রাম্পকে চীনের বিপরীতে কঠোর ভূমিকা রাখতে প্ররোচিত করতে পারে।
ট্রাম্পের চীন সফর থেকে বড় কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বেরিয়ে আসা কঠিন। তবে অন্তত একটি নীলনকশা তৈরি হতে পারে। যেখান থেকে নির্ধারণ হবে, কোন বিষয়ে কতটুকু এগোনো যাবে, আর কোথায় লালরেখা অতিক্রম করা যাবে না।
বিশ্ব অর্থনীতি এই মুহূর্তে অস্থির, ক্রমবর্ধমান ঋণ, মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনে জর্জরিত। তাই দুই নেতার বৈঠক সফল না হলে বিশ্ববাণিজ্যে নতুন মন্দা আসতে পারে। অন্যদিকে কোনো প্রকার সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির বাণিজ্যে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামীকাল ১৩ থেকে ১৫ মে চীন সফর করবেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে তিনি এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাবেন। এটি ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের প্রথম এবং দীর্ঘ ৯ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীনে প্রথম সফর।

আপনার মতামত লিখুন