সংবাদ

সীমান্ত দিয়ে গবাদী পশু আনা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

সীমান্ত দিয়ে গবাদী পশু আনা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু আনা ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে টেকসই করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

রবিবার বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই নির্দেশনার কথা জানান।

টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন শীর্ষক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশে বর্তমানে গবাদিপশুর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরতার অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখের উপর গবাদিপশু রয়েছে। যেখানে সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। ফলে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদিপশু আমদানির দরকার নেই।”

তিনি আরও বলেন, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উদ্বৃত্ত পশু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক খামার ব্যবস্থা, নিরাপদ উৎপাদন, প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বাজার সংযোগ জোরদারের মাধ্যমে এ খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে এক দিকে খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন। অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও সহনীয় দামে কোরবানির পশু ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও টেকসই, লাভজনক ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে রূপান্তরে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে কৃষি ও খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজে সহায়তা দেওয়া এবং সরকারি সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়। সেমিনারে বক্তব্যের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী জেলা কসাইখানা এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


সীমান্ত দিয়ে গবাদী পশু আনা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু আনা ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে টেকসই করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

রবিবার বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই নির্দেশনার কথা জানান।

টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন শীর্ষক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশে বর্তমানে গবাদিপশুর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরতার অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখের উপর গবাদিপশু রয়েছে। যেখানে সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। ফলে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদিপশু আমদানির দরকার নেই।”

তিনি আরও বলেন, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উদ্বৃত্ত পশু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক খামার ব্যবস্থা, নিরাপদ উৎপাদন, প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বাজার সংযোগ জোরদারের মাধ্যমে এ খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে এক দিকে খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন। অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও সহনীয় দামে কোরবানির পশু ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও টেকসই, লাভজনক ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে রূপান্তরে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে কৃষি ও খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজে সহায়তা দেওয়া এবং সরকারি সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়। সেমিনারে বক্তব্যের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী জেলা কসাইখানা এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত