কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিখোঁজের তিন দিন পর একটি ওয়ানটাইম প্লেট তৈরির কারখানা থেকে জিল্লুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) সকালে কটিয়াদী পৌর এলাকার ভোগপাড়ায় অবস্থিত ওই কারখানার ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
জিল্লুর রহমান ওই কারখানার মালিক। তিনি পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর গোহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি সপরিবারে কটিয়াদীতে বসবাস করতেন। গত শুক্রবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পর থেকে কারখানার পিকআপ চালকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভোগপাড়া এলাকায় নিজস্ব কারখানায় ওয়ানটাইম প্লেট ও গ্লাস তৈরি করতেন জিল্লুর। কারখানায় দুজন নারী শ্রমিক ও একজন পিকআপ চালক কাজ করতেন। গত শুক্রবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর জিল্লুর আর ফিরে আসেননি। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল। আজ সকালে জিল্লুরের স্ত্রী অন্তরা বেগম কারখানার তালা খুলে ভেতরে স্বামীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
কারখানার দুই নারী শ্রমিক মদিনা ও শারমিন জানান, গত বৃহস্পতিবার কাজ শেষ করে তারা চলে যান। সাধারণত কাঁচামাল এলে মালিক তাদের ফোন করে কাজে ডাকতেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে তারা কোনো ফোন পাননি।
জিল্লুরের স্ত্রী অন্তরা বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরের পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাই। সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে আজ সকালে কারখানার চাবি দিয়ে তালা খুলে দেখি মেঝেতে তাঁর রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে।’
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের মুখ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ঘাতক পালিয়ে গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, কারখানার পিকআপ চালক নিখোঁজ রয়েছেন। তার নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও কারখানার দুই নারী কর্মীকে থানায় আনা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন