সংবাদ

সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব, হামলাকারীসহ নিহত ৫


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব, হামলাকারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র সমৃদ্ধ ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। জোহরের নামাজের ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতায় বন্দুকধারী দুই তরুণসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একজন ওই সেন্টারের নিরাপত্তা প্রহরী। এফবিআই এটিকে 'বিদ্বেষমূলক অপরাধ' বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ কোনো গুলি না চালালেও ১৭ ১৯ বছর বয়সী দুই হামলাকারী তরুণ ঘটনার পর নিজেদের গুলিতে নিজেরা আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। এক নারী পুলিশকে জানান, তার ছেলে তিনটি অস্ত্র এক বন্ধুসহ বাসা থেকে বের হয়ে একটি চিরকুট রেখে গেছে। পরে তল্লাশি চালিয়ে মসজিদের কাছে গাড়ি থেকে তাদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভয়াবহ এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র নিন্দা শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শহরের পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, ‘যেকোনো সম্প্রদায়ের জন্যই এটি ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা।তবে ওই সময় সেন্টারের বিদ্যালয়ে থাকা শিশুরা সবাই অক্ষত আছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এখন বিপদ কেটে গেছে। শিশুরা নিরাপদ আছেএটা ভালো খবর। সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এই শহরে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে ইসলামিক সেন্টারটির পরিচালক ইমাম তাহা হাসান বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনোই এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। এই মুহূর্তে আমরা দোয়া করছি এবং আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছি। যেকোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

একই সুর শোনা গেছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের (কেয়ার) সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজহীন নিজামের কণ্ঠে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রার্থনা কিংবা শিশুদের স্কুলে পড়ার সময় কাউকেই যেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শংকায় থাকতে না হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজকের গুলির ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবার আর শোকসন্তপ্ত মানুষদের প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এখানে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। আমরা কোনোভাবেই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাস বা ভীতিপ্রদর্শন সহ্য করব না।

ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। ট্রাম্প এটিকেএকটি ভয়াবহ পরিস্থিতিবলে মন্তব্য করেছেন। ঘটনার পর সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি না থাকলেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদ উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব, হামলাকারীসহ নিহত ৫

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র সমৃদ্ধ ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। জোহরের নামাজের ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতায় বন্দুকধারী দুই তরুণসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একজন ওই সেন্টারের নিরাপত্তা প্রহরী। এফবিআই এটিকে 'বিদ্বেষমূলক অপরাধ' বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ কোনো গুলি না চালালেও ১৭ ১৯ বছর বয়সী দুই হামলাকারী তরুণ ঘটনার পর নিজেদের গুলিতে নিজেরা আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। এক নারী পুলিশকে জানান, তার ছেলে তিনটি অস্ত্র এক বন্ধুসহ বাসা থেকে বের হয়ে একটি চিরকুট রেখে গেছে। পরে তল্লাশি চালিয়ে মসজিদের কাছে গাড়ি থেকে তাদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভয়াবহ এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র নিন্দা শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শহরের পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, ‘যেকোনো সম্প্রদায়ের জন্যই এটি ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা।তবে ওই সময় সেন্টারের বিদ্যালয়ে থাকা শিশুরা সবাই অক্ষত আছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এখন বিপদ কেটে গেছে। শিশুরা নিরাপদ আছেএটা ভালো খবর। সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এই শহরে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে ইসলামিক সেন্টারটির পরিচালক ইমাম তাহা হাসান বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনোই এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। এই মুহূর্তে আমরা দোয়া করছি এবং আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছি। যেকোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

একই সুর শোনা গেছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের (কেয়ার) সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজহীন নিজামের কণ্ঠে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রার্থনা কিংবা শিশুদের স্কুলে পড়ার সময় কাউকেই যেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শংকায় থাকতে না হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজকের গুলির ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবার আর শোকসন্তপ্ত মানুষদের প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এখানে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। আমরা কোনোভাবেই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাস বা ভীতিপ্রদর্শন সহ্য করব না।

ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। ট্রাম্প এটিকেএকটি ভয়াবহ পরিস্থিতিবলে মন্তব্য করেছেন। ঘটনার পর সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি না থাকলেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদ উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত