মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে নরসিংদী জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, হাটগুলো তত জমে উঠছে। পুরোদমে কেনাবেচা শুরু না হলেও দরদাম যাচাই আর পছন্দসই পশু দেখতে ক্রেতারা বিভিন্ন হাট ও খামারে ভিড় করছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
সরেজমিনে জেলার প্রধান হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপারী ও খামারিরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু নিয়ে আসছেন। নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর, মাধবদী বাজার, শিবপুরের পুটিয়া, কামরাব, যোশর ও গড়বাড়ী এবং রায়পুরার শ্রীরামপুর, মৌলভীবাজার ও রামনগরসহ বিভিন্ন হাটে পশুর সমাগম বাড়ছে। স্থায়ী হাটগুলো এরই মধ্যে জমে উঠলেও অস্থায়ী হাটগুলোতে প্রস্তুতি চলছে।
বাজারে ছোট আকারের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। মাঝারি আকারের গরু ১ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ছোট ও বড় আকারের মহিষ ৯০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা এবং খাসি ১৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ও শিবপুরের পুটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় এবং হাট পরিচালনার জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার গোখাদ্যের দাম অনেক বেশি। বিক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, “ভুষিসহ বিভিন্ন পশুখাদ্যের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তাই ভালো দাম না পেলে লোকসান হবে।” তবে বাজারে যাতে ভারতীয় গরু না ঢোকে, সে দাবি জানান খামারিরা।
অনেকে ভিড় এড়াতে আগাম খামার থেকেই পশু কিনছেন। শেখেরচর থেকে আসা ক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, “খামারিদের কাছ থেকে গরু কেনা নিরাপদ। তারা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করেন। কিনে রেখে যাচ্ছি, ঈদের আগের দিন নিয়ে যাব।”
নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। বিপরীতে পশু প্রস্তুত আছে ৮৫ হাজার ৯০৫টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু বেশি রয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করা যাবে। তিনি আরও জানান, পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার রোধে মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে নরসিংদী জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, হাটগুলো তত জমে উঠছে। পুরোদমে কেনাবেচা শুরু না হলেও দরদাম যাচাই আর পছন্দসই পশু দেখতে ক্রেতারা বিভিন্ন হাট ও খামারে ভিড় করছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
সরেজমিনে জেলার প্রধান হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপারী ও খামারিরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু নিয়ে আসছেন। নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর, মাধবদী বাজার, শিবপুরের পুটিয়া, কামরাব, যোশর ও গড়বাড়ী এবং রায়পুরার শ্রীরামপুর, মৌলভীবাজার ও রামনগরসহ বিভিন্ন হাটে পশুর সমাগম বাড়ছে। স্থায়ী হাটগুলো এরই মধ্যে জমে উঠলেও অস্থায়ী হাটগুলোতে প্রস্তুতি চলছে।
বাজারে ছোট আকারের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। মাঝারি আকারের গরু ১ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ছোট ও বড় আকারের মহিষ ৯০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা এবং খাসি ১৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ও শিবপুরের পুটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় এবং হাট পরিচালনার জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার গোখাদ্যের দাম অনেক বেশি। বিক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, “ভুষিসহ বিভিন্ন পশুখাদ্যের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তাই ভালো দাম না পেলে লোকসান হবে।” তবে বাজারে যাতে ভারতীয় গরু না ঢোকে, সে দাবি জানান খামারিরা।
অনেকে ভিড় এড়াতে আগাম খামার থেকেই পশু কিনছেন। শেখেরচর থেকে আসা ক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, “খামারিদের কাছ থেকে গরু কেনা নিরাপদ। তারা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করেন। কিনে রেখে যাচ্ছি, ঈদের আগের দিন নিয়ে যাব।”
নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। বিপরীতে পশু প্রস্তুত আছে ৮৫ হাজার ৯০৫টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু বেশি রয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করা যাবে। তিনি আরও জানান, পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার রোধে মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন