সংবাদ

দুমকিতে ভুয়া বিশেষজ্ঞের চিকিৎসায় রোগীর ঝুঁকি


প্রতিনিধি, দুমকি (পটুয়াখালী)
প্রতিনিধি, দুমকি (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

দুমকিতে ভুয়া বিশেষজ্ঞের চিকিৎসায় রোগীর ঝুঁকি
লুথারান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ হাসপাতাল। ছবি : সংবাদ

পটুয়াখালীর দুমকিতে অবস্থিত লুথারান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ (এলএইচসিবি) নামক একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ছাড়াই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাহিরা মুরতাজা নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারসহ (সিজার) একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লুথারান হেলথ কেয়ারের ওয়েবসাইট ও বিডিজবস-এ প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে গাইনী বিশেষজ্ঞ পদের জন্য ডিজিও বা এফসিপিএস ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে ডা. তাহিরা মুরতাজার এই দুটির কোনো ডিগ্রিই ছিল না। তবুও তিনি ৭ এপ্রিল আবেদন করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বোর্ড গঠন করে মেধাতালিকার ৩য় স্থানে থাকা তাহিরাকে নিয়োগ দেয়। গত বছরের ১ জুন তিনি গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে সেখানে যোগদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি না থাকলেও ডা. তাহিরা নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশনসহ জটিল সব চিকিৎসা করে আসছেন। গত বছরের ১৩ জুলাই ফাহিমা আক্তার নামে এক প্রসূতির সিজার করতে গিয়ে তিনি তার মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতা ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি এক অপরিণত নবজাতকের সিজার করার পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. গ্রেনার মারাক ভুক্তভোগী পরিবারকে চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তাহিরা মুরতাজা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী পরিচালক ডা. গ্রেনার মারাক বলেন, "নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীরা বেশি সম্মানী দাবি করায় এবং দূরত্বের কারণে আসতে না চাওয়ায় তৃতীয় প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।"

তবে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ছাড়া কেউ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিতে পারেন না। তিনি ছোটখাটো অপারেশন করতে পারলেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হতে পারবেন না। পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়াও একই মত প্রকাশ করে বলেন, ডিগ্রি না থাকলে বিশেষজ্ঞ পদবি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ইভাঞ্জেলিক্যাল লুথারান চার্চ ইন আমেরিকার অর্থায়নে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অব্যবস্থাপনায় এর সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


দুমকিতে ভুয়া বিশেষজ্ঞের চিকিৎসায় রোগীর ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর দুমকিতে অবস্থিত লুথারান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ (এলএইচসিবি) নামক একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ছাড়াই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাহিরা মুরতাজা নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারসহ (সিজার) একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লুথারান হেলথ কেয়ারের ওয়েবসাইট ও বিডিজবস-এ প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে গাইনী বিশেষজ্ঞ পদের জন্য ডিজিও বা এফসিপিএস ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে ডা. তাহিরা মুরতাজার এই দুটির কোনো ডিগ্রিই ছিল না। তবুও তিনি ৭ এপ্রিল আবেদন করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বোর্ড গঠন করে মেধাতালিকার ৩য় স্থানে থাকা তাহিরাকে নিয়োগ দেয়। গত বছরের ১ জুন তিনি গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে সেখানে যোগদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি না থাকলেও ডা. তাহিরা নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশনসহ জটিল সব চিকিৎসা করে আসছেন। গত বছরের ১৩ জুলাই ফাহিমা আক্তার নামে এক প্রসূতির সিজার করতে গিয়ে তিনি তার মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতা ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি এক অপরিণত নবজাতকের সিজার করার পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. গ্রেনার মারাক ভুক্তভোগী পরিবারকে চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তাহিরা মুরতাজা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী পরিচালক ডা. গ্রেনার মারাক বলেন, "নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীরা বেশি সম্মানী দাবি করায় এবং দূরত্বের কারণে আসতে না চাওয়ায় তৃতীয় প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।"

তবে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ছাড়া কেউ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিতে পারেন না। তিনি ছোটখাটো অপারেশন করতে পারলেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হতে পারবেন না। পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়াও একই মত প্রকাশ করে বলেন, ডিগ্রি না থাকলে বিশেষজ্ঞ পদবি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ইভাঞ্জেলিক্যাল লুথারান চার্চ ইন আমেরিকার অর্থায়নে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অব্যবস্থাপনায় এর সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত