মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও নিজস্ব ভবন পায়নি ৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। নিজস্ব কমপ্লেক্স না থাকায় ঘিওর সদর, বড়টিয়া ও নালি এই তিন ইউনিয়নের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে জরাজীর্ণ ভবন ও টিনের ঘরে। এতে ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব ভবন না থাকায় পরিষদের সভা, উঠান বৈঠক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। গুদামঘর না থাকায় টিআর, জিআর, ভিজিএফ ও ভিজিডিসহ সরকারি ত্রাণসামগ্রী সংরক্ষণ ও বিতরণে হিমশিম খাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও ডিজিটাল সেন্টারের অন্যান্য সেবা নিতে এসে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে করুণ দশা বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদের। ২০০১ সালে এলজিইডি ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে এখানেই চলছে কাজ। একতলা ভবনটির ছাদ ও বিমে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে রড। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় নথিপত্র। সড়ক থেকে ৪-৫ ফুট দেবে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। ইউপি সচিব ও উদ্যোক্তারা বারান্দার ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে কাজ করলেও সদস্যদের বসার কোনো জায়গা নেই।
নালি ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থা আরও শোচনীয়। ১৯৭৩ সাল থেকে একটি অস্থায়ী টিনের ঘরে চলছে এই ইউনিয়নের সব কার্যক্রম। এখানে ডিজিটাল কমপ্লেক্স নির্মাণের বরাদ্দ এলেও দীর্ঘদিনের ভূমি জটিলতায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ঘিওর সদর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘১৯৭২ সালে এই ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হলেও আজ পর্যন্ত নিজস্ব ডিজিটাল কমপ্লেক্স হয়নি। জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ভবন নির্মাণ আটকে আছে। দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে দ্রুত ভবন নির্মাণ জরুরি।’
ঘিওর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর ইসলাম বলেন, ভবনহীন ইউনিয়ন পরিষদগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও নিজস্ব ভবন পায়নি ৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। নিজস্ব কমপ্লেক্স না থাকায় ঘিওর সদর, বড়টিয়া ও নালি এই তিন ইউনিয়নের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে জরাজীর্ণ ভবন ও টিনের ঘরে। এতে ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব ভবন না থাকায় পরিষদের সভা, উঠান বৈঠক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। গুদামঘর না থাকায় টিআর, জিআর, ভিজিএফ ও ভিজিডিসহ সরকারি ত্রাণসামগ্রী সংরক্ষণ ও বিতরণে হিমশিম খাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও ডিজিটাল সেন্টারের অন্যান্য সেবা নিতে এসে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে করুণ দশা বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদের। ২০০১ সালে এলজিইডি ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে এখানেই চলছে কাজ। একতলা ভবনটির ছাদ ও বিমে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে রড। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় নথিপত্র। সড়ক থেকে ৪-৫ ফুট দেবে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। ইউপি সচিব ও উদ্যোক্তারা বারান্দার ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে কাজ করলেও সদস্যদের বসার কোনো জায়গা নেই।
নালি ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থা আরও শোচনীয়। ১৯৭৩ সাল থেকে একটি অস্থায়ী টিনের ঘরে চলছে এই ইউনিয়নের সব কার্যক্রম। এখানে ডিজিটাল কমপ্লেক্স নির্মাণের বরাদ্দ এলেও দীর্ঘদিনের ভূমি জটিলতায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ঘিওর সদর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘১৯৭২ সালে এই ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হলেও আজ পর্যন্ত নিজস্ব ডিজিটাল কমপ্লেক্স হয়নি। জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ভবন নির্মাণ আটকে আছে। দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে দ্রুত ভবন নির্মাণ জরুরি।’
ঘিওর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর ইসলাম বলেন, ভবনহীন ইউনিয়ন পরিষদগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন