তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, একনেকে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ ৫ দফা দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। আগামী ৫ জুনের মধ্যে এসব দাবি মানা না হলে তিস্তা বেষ্টিত রংপুর অঞ্চলের দুই কোটি মানুষ লাগাতার আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে রংপুর নগরীর একটি বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম দেয় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হলেও এর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকাকালে এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছিলেন এবং ক্ষমতায় আসলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ বরাদ্দ করা হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘোষিত কর্মসূচি :
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-২ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় ও গণসংযোগ; ঈদের জামাতে বিশেষ মোনাজাত; এবং ৫ জুনের মধ্যে বাজেটে বরাদ্দ ও রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে বিভাগীয় নগরী রংপুরে সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে সংহতি সমাবেশ। এছাড়া তিস্তাপাড়ের ৫ জেলার ১২ উপজেলায় কর্মশালা, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা ও মশাল মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই প্রধানমন্ত্রী তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং দ্রুততম সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করবেন। অন্যথায় তিস্তাপাড়ের মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’
আপনার মতামত লিখুন