সংবাদ

টিকা সংকটের আগেই ৫-৬ চিঠি, ১০ বৈঠক করেছিল ইউনিসেফ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

টিকা সংকটের আগেই ৫-৬ চিঠি, ১০ বৈঠক করেছিল ইউনিসেফ
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই আলোচনায় এলো নতুন তথ্য। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করতে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন। রানা ফ্লাওয়ার্স আরও জানান, ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বৈঠক করেছে। প্রতিবারই তারা টিকা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, “এ মুহূর্তে আমার হাতের কাছে একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে আমি এটুকু জানি যে, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যে, যিনি নতুন করে এই দায়িত্ব পাবেন, তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।”

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং কর্মীদের সঙ্গে বার বার বৈঠক করেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত। আমার মুখ দেখে বুঝুন, আমি চিন্তিত যে, আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে ইউনিসেফ টিকার সংকটের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে। ‘এটা স্পষ্ট ছিল যে দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে। আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।’

টিকা কেনায় বিলম্বের কারণ হিসেবে রানা ফ্লাওয়ার্স উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে (অন্তর্বর্তী সরকারের) মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’

তবে তিনি জানান, টিকার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। টিকা অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। আপনি শুধু এক লাখ মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনছেন না, আপনার লক্ষ্য অনেক বড় সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকা আছে। তাই আপনি সবচেয়ে সস্তা টিকার পেছনে ছুটবেন না।’

ইউনিসেফের এই বক্তব্যের কিছুদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান দাবি করেছিলেন, ইউনিসেফ হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তৎকালীন সরকারকে সতর্ক করেনি।

রানা ফ্লাওয়ার্স অবশ্য এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে বলেন, ‘এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এখন এমনভাবে টিকাদান প্রক্রিয়া কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়।’

হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় আছে বলে মনে করেন ইউনিসেফের এই প্রতিনিধি। তিনি ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’-এর ওপর জোর দেন। ‘আমরা খতিয়ে দেখব কেন অনেক বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।’

তিনি এই সংখ্যাটিকে ‘মোটা দাগের অনুমান’ আখ্যা দিয়ে জানান, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাক-বিদ্যালয় ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের একত্রিত করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


টিকা সংকটের আগেই ৫-৬ চিঠি, ১০ বৈঠক করেছিল ইউনিসেফ

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই আলোচনায় এলো নতুন তথ্য। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করতে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন। রানা ফ্লাওয়ার্স আরও জানান, ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বৈঠক করেছে। প্রতিবারই তারা টিকা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, “এ মুহূর্তে আমার হাতের কাছে একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে আমি এটুকু জানি যে, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যে, যিনি নতুন করে এই দায়িত্ব পাবেন, তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।”

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং কর্মীদের সঙ্গে বার বার বৈঠক করেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত। আমার মুখ দেখে বুঝুন, আমি চিন্তিত যে, আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে ইউনিসেফ টিকার সংকটের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে। ‘এটা স্পষ্ট ছিল যে দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে। আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।’

টিকা কেনায় বিলম্বের কারণ হিসেবে রানা ফ্লাওয়ার্স উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে (অন্তর্বর্তী সরকারের) মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’

তবে তিনি জানান, টিকার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। টিকা অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। আপনি শুধু এক লাখ মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনছেন না, আপনার লক্ষ্য অনেক বড় সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকা আছে। তাই আপনি সবচেয়ে সস্তা টিকার পেছনে ছুটবেন না।’

ইউনিসেফের এই বক্তব্যের কিছুদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান দাবি করেছিলেন, ইউনিসেফ হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তৎকালীন সরকারকে সতর্ক করেনি।

রানা ফ্লাওয়ার্স অবশ্য এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে বলেন, ‘এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এখন এমনভাবে টিকাদান প্রক্রিয়া কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়।’

হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় আছে বলে মনে করেন ইউনিসেফের এই প্রতিনিধি। তিনি ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’-এর ওপর জোর দেন। ‘আমরা খতিয়ে দেখব কেন অনেক বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।’

তিনি এই সংখ্যাটিকে ‘মোটা দাগের অনুমান’ আখ্যা দিয়ে জানান, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাক-বিদ্যালয় ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের একত্রিত করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত