সংবাদ

মিরপুরে চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ভিডিও ভাইরাল


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

মিরপুরে চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ভিডিও ভাইরাল
কুষ্টিয়ার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের কার্ড নিয়ে বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র হাতে হামলা ও সচিবকে হুমকির দৃশ্য। ছবি : সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভিজিএফের চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২০ মে) হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতি করছেন এবং একপর্যায়ে রামদা হাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে ৬১৬টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ আসে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা সব কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত ঘরানার হওয়ায় চেয়ারম্যান ১০০টি কার্ড জামায়াত নেতাদের দিতে চেয়েছিলেন।

এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আলোচনার সময় ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিষদে হামলা চালান। হামলাকারীরা আসবাব ভাঙচুর করেন এবং সচিবের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেন।

ইউপি সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সব কার্ড নিজেদের দাবি করছিলেন এবং জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে তারা আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল বলেন, ‘চেয়ারম্যান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রামের এক যুবককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তিনি ১০ লাখ টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছিলেন না। সেই টাকা নিয়ে কথা বলতে গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কার্ড নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ হাতে রামদা থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, অন্য একজনের হাত থেকে তিনি রামদাটি কেড়ে নিয়েছিলেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ঘটনা যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


মিরপুরে চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভিজিএফের চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২০ মে) হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতি করছেন এবং একপর্যায়ে রামদা হাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে ৬১৬টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ আসে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা সব কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত ঘরানার হওয়ায় চেয়ারম্যান ১০০টি কার্ড জামায়াত নেতাদের দিতে চেয়েছিলেন।

এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আলোচনার সময় ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিষদে হামলা চালান। হামলাকারীরা আসবাব ভাঙচুর করেন এবং সচিবের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেন।

ইউপি সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সব কার্ড নিজেদের দাবি করছিলেন এবং জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে তারা আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল বলেন, ‘চেয়ারম্যান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রামের এক যুবককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তিনি ১০ লাখ টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছিলেন না। সেই টাকা নিয়ে কথা বলতে গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কার্ড নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ হাতে রামদা থাকার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, অন্য একজনের হাত থেকে তিনি রামদাটি কেড়ে নিয়েছিলেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ঘটনা যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত