সংবাদ

ঈদে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা


আকাশ চৌধুরী, সিলেট
আকাশ চৌধুরী, সিলেট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

ঈদে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা
আশুগঞ্জ গোলচত্বর সরাইল-বিশ্বরোড মোড়। ছবি সংগৃহীত

সিলেট থেকে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন চালক রাসেল মিয়া। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোডে মোড়ে এসে তিনি পৌঁছান বেলা তিনটার দিকে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ওই জায়গা থেকে নড়তে পারেননি গত মাসে। চার লেনের কাজ চলমান থাকায় খানাখন্দে অবস্থায় এ মহাসড়কটি আগামী পবিত্র ঈদুল আযহায় চরম দুর্ভোগ পোহানোর আশঙ্কা রয়েছে যাত্রীদের। এছাড় মঙ্গলবারও (১৯ মে) সিলেট ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানের তীব্র যানজট ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পুলিশ, প্রশাসন ও ভুক্তভোগীরা জানান, আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি। যে কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নানা জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। 

টানা বর্ষণের কারণে এসব গর্ত আরও বড় হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ম লঙ্ঘন করে চালকেরা ওভারটেক করতে গিয়ে যানজট পাকিয়ে ফেলছেন। এরই সর্বশেষ নমুনা দেখা যায় গত মাসে। পুরো দিনই এই মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব হয়ে নরসিংদীর ইটাখোলা পর্যন্ত ছিল যানজট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোডের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম  (৬০) বলেন, এখানে কোনো বাস-ট্রাক এক ফুটও নড়ে না। যানজট নিয়ন্ত্রণে আসা পুলিশ সদস্যরা একরকম অসহায় হয়ে পড়েন। বেপরোয়া চালকেরা তাদের পাত্তাই দিতে চান না।

ভাঙাচোরা সড়কে চালকেরা কে কার আগে যাবেন- এমন মানসিকতার প্রতিযোগিতাকেই যানজটের মূল কারণ হিসেবে মনে করেন এই ব্যবসায়ী। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়া সাংবাদিক এস ছুটন সিংহ বলেন, গত মাসে ঢাকায় গিয়েছিলাম। ভৈরব সেতুর আগে তীব্র যানজট ছিল। আজকেও সেই আশঙ্কা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি।'

ভুক্তভোগীরা জানান, সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে শেরপুর, (সিলেট–মৌলভীবাজার সীমান্ত), বাহুবল ও মাধবপুর (হবিগঞ্জ), শায়েস্তাগঞ্জ, নবীগঞ্জ সংযোগ এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী অঞ্চলে, সরাইল বিশ্বরোড, আশুগঞ্জ সেতু ও টোল প্লাজা, ভৈরব বাজার ও ভৈরব সেতু, বেলাবো ও নরসিংদী অংশ, ঢাকা সংলগ্ন এলাকা

কাঁচপুর সেতু, যাত্রাবাড়ী ও সাইনবোর্ড এলাকায় প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাখ লাখ ঘরমুখি মানুষের বিড়াম্বনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

ঢাকায় যাওয়া সাংবাদিক এস ছুটন সিংহ মঙ্গলবার বিকেল চারটায় কাঁচপুর থেকে এর প্রতিবেদককে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ মিনিট যানজটে রয়েছেন। 

স্থানীয়দের আগে থেকেই ভাষ্য, সরাইলের বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর, শান্তিনগর ও আশুগঞ্জের খড়িয়ালা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে যানজট প্রায়ই লেগে থাকে। একই যানজট ছড়িয়ে পড়ে নরসিংদীর ইটাখলা থেকে চৈতন্য, মরজাল, বারৈচা, নারায়ণপুর, ভৈরবের জগন্নাথপুর ব্রিজ, দুর্জয় মোড় বাসস্ট্যান্ড ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার জুড়ে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চার লেন প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে এক পাশের কাজ শেষ হলেও বিপরীত পাশের কাজ শুরু হয়নি। যে কারণে ওই অংশটি সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দু’পাশের যানবাহন একপাশ দিয়ে চালাতে হয়। ফলে সড়কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিওনাল পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা সাতটায় যানজটের বিষয়টি স্বীকার করে সংবাদকে বলেন, 'আমি এখন সিলেট থেকে ভৈরবের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। রাস্তায় কিছুটা কাজ চলছে। যারা কাজ করছেন, উনাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আশা করছি ২৪ তারিখের পর আর যানজট থাকবে না। সেদিন আমরা রাস্তা খুলে দেবো। ঈদ পর্যন্ত রাস্তা পরিষ্কার থাকবে ইনশাল্লাহ।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


ঈদে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

সিলেট থেকে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন চালক রাসেল মিয়া। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোডে মোড়ে এসে তিনি পৌঁছান বেলা তিনটার দিকে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ওই জায়গা থেকে নড়তে পারেননি গত মাসে। চার লেনের কাজ চলমান থাকায় খানাখন্দে অবস্থায় এ মহাসড়কটি আগামী পবিত্র ঈদুল আযহায় চরম দুর্ভোগ পোহানোর আশঙ্কা রয়েছে যাত্রীদের। এছাড় মঙ্গলবারও (১৯ মে) সিলেট ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানের তীব্র যানজট ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পুলিশ, প্রশাসন ও ভুক্তভোগীরা জানান, আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি। যে কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নানা জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। 

টানা বর্ষণের কারণে এসব গর্ত আরও বড় হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ম লঙ্ঘন করে চালকেরা ওভারটেক করতে গিয়ে যানজট পাকিয়ে ফেলছেন। এরই সর্বশেষ নমুনা দেখা যায় গত মাসে। পুরো দিনই এই মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব হয়ে নরসিংদীর ইটাখোলা পর্যন্ত ছিল যানজট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোডের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম  (৬০) বলেন, এখানে কোনো বাস-ট্রাক এক ফুটও নড়ে না। যানজট নিয়ন্ত্রণে আসা পুলিশ সদস্যরা একরকম অসহায় হয়ে পড়েন। বেপরোয়া চালকেরা তাদের পাত্তাই দিতে চান না।

ভাঙাচোরা সড়কে চালকেরা কে কার আগে যাবেন- এমন মানসিকতার প্রতিযোগিতাকেই যানজটের মূল কারণ হিসেবে মনে করেন এই ব্যবসায়ী। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়া সাংবাদিক এস ছুটন সিংহ বলেন, গত মাসে ঢাকায় গিয়েছিলাম। ভৈরব সেতুর আগে তীব্র যানজট ছিল। আজকেও সেই আশঙ্কা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি।'

ভুক্তভোগীরা জানান, সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে শেরপুর, (সিলেট–মৌলভীবাজার সীমান্ত), বাহুবল ও মাধবপুর (হবিগঞ্জ), শায়েস্তাগঞ্জ, নবীগঞ্জ সংযোগ এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী অঞ্চলে, সরাইল বিশ্বরোড, আশুগঞ্জ সেতু ও টোল প্লাজা, ভৈরব বাজার ও ভৈরব সেতু, বেলাবো ও নরসিংদী অংশ, ঢাকা সংলগ্ন এলাকা

কাঁচপুর সেতু, যাত্রাবাড়ী ও সাইনবোর্ড এলাকায় প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাখ লাখ ঘরমুখি মানুষের বিড়াম্বনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

ঢাকায় যাওয়া সাংবাদিক এস ছুটন সিংহ মঙ্গলবার বিকেল চারটায় কাঁচপুর থেকে এর প্রতিবেদককে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ মিনিট যানজটে রয়েছেন। 

স্থানীয়দের আগে থেকেই ভাষ্য, সরাইলের বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর, শান্তিনগর ও আশুগঞ্জের খড়িয়ালা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে যানজট প্রায়ই লেগে থাকে। একই যানজট ছড়িয়ে পড়ে নরসিংদীর ইটাখলা থেকে চৈতন্য, মরজাল, বারৈচা, নারায়ণপুর, ভৈরবের জগন্নাথপুর ব্রিজ, দুর্জয় মোড় বাসস্ট্যান্ড ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার জুড়ে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চার লেন প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে এক পাশের কাজ শেষ হলেও বিপরীত পাশের কাজ শুরু হয়নি। যে কারণে ওই অংশটি সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দু’পাশের যানবাহন একপাশ দিয়ে চালাতে হয়। ফলে সড়কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিওনাল পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা সাতটায় যানজটের বিষয়টি স্বীকার করে সংবাদকে বলেন, 'আমি এখন সিলেট থেকে ভৈরবের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। রাস্তায় কিছুটা কাজ চলছে। যারা কাজ করছেন, উনাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আশা করছি ২৪ তারিখের পর আর যানজট থাকবে না। সেদিন আমরা রাস্তা খুলে দেবো। ঈদ পর্যন্ত রাস্তা পরিষ্কার থাকবে ইনশাল্লাহ।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত