ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হওয়ার পর একটি মেছোবাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে স্থানীয় লোকজন। বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের উত্তর মির্জাপুর গ্রামের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরাতন বাখরবা গ্রামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ একটি মেছোবাঘ সামনে চলে আসে। সংঘর্ষে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় মেছোবাঘটিও আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছিল। তবে প্রাণীটি পুনরায় আক্রমণ করতে পারে-এমন আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লাঠিসোটা দিয়ে সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। স্থানীয়দের ধারণা, বন-জঙ্গল কমে যাওয়া ও খাদ্যসংকটের কারণে মেছোবাঘটি লোকালয়ে চলে এসেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে এসে দেখি মোটরসাইকেল চালক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পাশে মেছোবাঘটি আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সেটি হিংস্র আচরণ করছিল। ভয়ে সবাই মিলে সেটিকে মেরে ফেলি।’
শৈলকুপা বন বিভাগের কর্মকর্তা মোখলেচুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসী মেছোবাঘটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী গবেষক সুজন বিপ্লব বলেন, মেছোবাঘ মূলত নিশাচর প্রাণী এবং এরা সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে। ঝোপঝাড় উজাড় ও প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হওয়ার কারণে এই প্রাণীদের আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস হয়ে গেছে। তীব্র খাদ্যসংকটের কারণেই এরা লোকালয়ে আসছে। একটি আহত বন্যপ্রাণীকে পিটিয়ে মারা বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় বিপর্যয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শৈলকুপার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই মেছোবাঘের দেখা মিলছে। খাবারের সন্ধানেই এই প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপনার মতামত লিখুন