সংবাদ

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির ভয় নারায়ণগঞ্জে তিন মহাসড়কে


আফসানা আক্তার, নারায়ণগঞ্জ
আফসানা আক্তার, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির ভয় নারায়ণগঞ্জে তিন মহাসড়কে

নারায়ণগঞ্জ অংশের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে (ঢাকা বাইপাস)সংস্কার কাজ চলমান থাকায় আসন্ন ঈদুল আযহায় যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেরও কয়েকটি স্থানে যানজটের আশঙ্কা করছেন করছেন এ পথে চলাচল করা যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, দুর্ঘটনা কিংবা যানবাহন বিকল হলে এ ভোগান্তি বাড়ে বলে জানান তারা।

এদিকে, ঈদযাত্রা ও কোরবানির পশুবাহী যান চলাচলে ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা সড়ক ও বড় বড় গর্তে ঢাকা বাইপাস (এশিয়ান হাইওয়ে) সড়কের বেহাল দশা। মহাসড়কটির মদনপুর, নয়াপাড়া ও বস্তুল এলাকায় বেশকিছু অংশে ছোট-বড় গর্ত দেখা যায়। এসব গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। ফলে যানবাহনের ধীরগতিতে যানজট বৃদ্ধি পায়। মহসড়কটির কাঞ্চন সেতু এলাকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি করুণ।

সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ঘন্টার পর ঘণ্টা যানজটে ও পরিবহনের চাপ অনুযায়ী সড়কটি যথেষ্ট প্রশস্ত না থাকায় যানজটের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে জানান চালকরা।

সিএনজি চালক আল আমিন বলেন, “এই সমস্যায় আমরা তিন-চার বছর ধইরা ভুগতেছি। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাইশ ঘণ্টাই এখানে জ্যাম লাইগা থাকে। গর্তে একটা চাকা পড়লে ওঠার আর সুযোগ নাই।” 

সড়কের ভাঙাচোরা মেরামতের কাজ চলছে

পিকআপ চালক সিরাজ মিয়া বলেন, “জ্যাম তো তিন-চার বছর ধইরাই দেখতাসি।  প্রতিবার এই রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইসা থাকি। ঈদের সময় তো এই রাস্তা দিয়া যাওনই যাইব না। এহন তো নতুন সরকার আইসে, তারা কাজটা তাড়াতাড়ি করতে পারেনা? আমাগো আর কত কষ্ট করতে হইব!”

মহাসড়কটির মদনপুর অংশে দায়িত্ব পালনকারী কাঁচপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল কান্তি নাথ বলেন, এই রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। কিছুদূর পরপর ভাঙা। যদিও সংস্কার কাজ চলমান আছে। কিন্তু রাস্তা খুব একটা প্রশস্ত না হওয়ায় গাড়ির চাপ সামলানো যায় না। 

গাজীপুর রিজিওনাল হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার বদিউল আমিন চৌধুরী বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান থাকায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে ঠিকই কিন্তু আমরা এ নিয়ে পরিকল্পনাও করেছি। বিশেষ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত মোতায়েন থাকবে। একইসঙ্গে জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন থেকে আনসার সদস্যরা থাকবেন মহাসড়কে।”

এ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাইফুল বলেন, “এ প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক বিভাগের প্রধান কার্যালয়। কাজ কতটুকু এগিয়েছে, তা তারা বলতে পারবেন।”

অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেরও একই অবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় গর্ত , জমে আছে বৃষ্টির পানি। ফলে যানবাহন কম থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কটিতে যানজট দেখা যায়। ঈদ যাত্রায় এ ভোগান্তি বহুগুণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন চালকরা। তবে, কয়েকটি স্থানে সাময়িকভাবে গর্ত ভরাটে সংস্কার কাজ চলতে দেখা গেছে। এছাড়া মহাসড়কটির কাঁচপুর, যাত্রামুড়া, বরাব, রূপসী ও ভুলতা এলাকায় যানজট দেখা যায়। 

স্থানীয়রা জানান,  গত চার বছর ধরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কটির ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। উন্নয়ন কাজটি ধীরগতিতে চলার কারণে গত যানজট ও ধুলোবালিতে প্রতিনিয়তই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

মহাসড়কে যানজট নিরসরে সংস্কারকাজ চলমান

অভিযোগ করে ঝুট ব্যবসায়ী রাকিবুজ্জামান বলেন, “বছরের পর বছর শুধু কাজই চলে কিন্তু শেষ আর হয় না। মানুষ কত বছর আর ভোগান্তি পোহাইব! প্রতিদিন যানজট থাকেই। এখন বৃষ্টির মৌসুম বলে ধুলা কম, না হলে ধুলায় গোসল করতে হয়।”

মহাসড়কটির তারাব বিশ্বরোড এলাকায় অন্তত ২৫ মিনিট ধরে কাঙ্ক্ষিত বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে পাওয়া যায় গৃহিনী মোসাম্মৎ সাথীকে। রূপগঞ্জ উপজেলার দিঘীবরাব এলাকার এ বাসিন্দা যাবেন রাজধানীর গুলিস্তানে।

সাথী বলেন, “প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু বাস আসতে পারছে না। কারণ, যানজট। যানজট না থাকলে পাঁচ মিনিট পরপরই গাড়ি পাওয়া যেতো। এ সমস্যা গত তিন-চার বছর ধরেই।”

এ মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যদেরও কাজ করতে দেখা যায়। সড়কে দায়িত্ব পালনরত জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সাহাবুল বলেন, সংস্কার কাজের কারণে যানবাহনের গতি ধীর হলেই দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। তবে, তারা কয়েকটি পয়েন্টে কাজ করছেন।

এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যানজটের আশঙ্কা করছেন এ পথের যান চালকরা। বাঁধন পরিবহনের বাস কন্ডাক্টার মঞ্জুর হোসেন বলেন, এই রাস্তায় গর্ত বা ভাঙা তেমন নাই। কিন্তু এইখানে টোলপ্লাজায় টোল কালেকশনে দেরি হলেই জ্যাম লেগে যায়। তাছাড়া, কোথাও এক্সিডেন্ট হলে বা গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে মুহুর্তের মধ্যে লম্বা জ্যাম লেগে যায়।”

গত শুক্রবারও (১৫ মে) মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় এক দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছিল। তাতে সাড়ে তিন ঘণ্টা এক জায়গাতেই বসে থাকতে হয়েছিল বলে নিজের অভিজ্ঞতা জানান পরিবহন শ্রমিক মঞ্জুর হোসেন।

 সড়কের মাঝখানে ভাঙাচোরা-খানাখন্দ।

যোগাযোগ করা হলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানাও তিনটি মহাসড়কের একই সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি সেতুতে ছোট ছোট খানাখন্দ আছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলছে। যাত্রামুড়া সেতুতে গাড়ি বেশি আটকে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে সড়কের প্রশস্ততাও কমে আসে। অন্যদিকে, কাঞ্চন-ভুলতা-বস্তুল-মদনপুরে এশিয়ান হাইওয়েতেও কাজ চলমান থাকায় যানজট দেখা যায়।”

এ তিন মহাসড়কের আশেপাশের আঞ্চলিক সড়কেও যানজট দেখা দিলে তার প্রভাব মহাসড়কে পড়ে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রতিটি পয়েন্টে কনসার্ন অথরিটিকে বিষয়গুলো জানিয়েছি। ঈদের আগে অন্তত রাস্তাগুলোকে সংস্কার দ্রুত করার তাগিদ দিয়েছি। ঈদযাত্রা ও কোরবানির পশুবাহী যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন যাতে না ঘটে সেজন্য পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

ঈদযাত্রায় ভোগন্তি কমাতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কিছু সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। সেসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও হয়েছে। সড়ক বিভাগকে কাজ দ্রুত করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি মহাসড়কে আনসার সদস্যরাও ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় ভোগান্তির ভয় নারায়ণগঞ্জে তিন মহাসড়কে

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ অংশের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে (ঢাকা বাইপাস)সংস্কার কাজ চলমান থাকায় আসন্ন ঈদুল আযহায় যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেরও কয়েকটি স্থানে যানজটের আশঙ্কা করছেন করছেন এ পথে চলাচল করা যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, দুর্ঘটনা কিংবা যানবাহন বিকল হলে এ ভোগান্তি বাড়ে বলে জানান তারা।

এদিকে, ঈদযাত্রা ও কোরবানির পশুবাহী যান চলাচলে ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা সড়ক ও বড় বড় গর্তে ঢাকা বাইপাস (এশিয়ান হাইওয়ে) সড়কের বেহাল দশা। মহাসড়কটির মদনপুর, নয়াপাড়া ও বস্তুল এলাকায় বেশকিছু অংশে ছোট-বড় গর্ত দেখা যায়। এসব গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। ফলে যানবাহনের ধীরগতিতে যানজট বৃদ্ধি পায়। মহসড়কটির কাঞ্চন সেতু এলাকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি করুণ।

সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ঘন্টার পর ঘণ্টা যানজটে ও পরিবহনের চাপ অনুযায়ী সড়কটি যথেষ্ট প্রশস্ত না থাকায় যানজটের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে জানান চালকরা।

সিএনজি চালক আল আমিন বলেন, “এই সমস্যায় আমরা তিন-চার বছর ধইরা ভুগতেছি। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাইশ ঘণ্টাই এখানে জ্যাম লাইগা থাকে। গর্তে একটা চাকা পড়লে ওঠার আর সুযোগ নাই।” 

সড়কের ভাঙাচোরা মেরামতের কাজ চলছে

পিকআপ চালক সিরাজ মিয়া বলেন, “জ্যাম তো তিন-চার বছর ধইরাই দেখতাসি।  প্রতিবার এই রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইসা থাকি। ঈদের সময় তো এই রাস্তা দিয়া যাওনই যাইব না। এহন তো নতুন সরকার আইসে, তারা কাজটা তাড়াতাড়ি করতে পারেনা? আমাগো আর কত কষ্ট করতে হইব!”

মহাসড়কটির মদনপুর অংশে দায়িত্ব পালনকারী কাঁচপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল কান্তি নাথ বলেন, এই রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। কিছুদূর পরপর ভাঙা। যদিও সংস্কার কাজ চলমান আছে। কিন্তু রাস্তা খুব একটা প্রশস্ত না হওয়ায় গাড়ির চাপ সামলানো যায় না। 

গাজীপুর রিজিওনাল হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার বদিউল আমিন চৌধুরী বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান থাকায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে ঠিকই কিন্তু আমরা এ নিয়ে পরিকল্পনাও করেছি। বিশেষ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত মোতায়েন থাকবে। একইসঙ্গে জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন থেকে আনসার সদস্যরা থাকবেন মহাসড়কে।”

এ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাইফুল বলেন, “এ প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক বিভাগের প্রধান কার্যালয়। কাজ কতটুকু এগিয়েছে, তা তারা বলতে পারবেন।”

অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেরও একই অবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় গর্ত , জমে আছে বৃষ্টির পানি। ফলে যানবাহন কম থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কটিতে যানজট দেখা যায়। ঈদ যাত্রায় এ ভোগান্তি বহুগুণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন চালকরা। তবে, কয়েকটি স্থানে সাময়িকভাবে গর্ত ভরাটে সংস্কার কাজ চলতে দেখা গেছে। এছাড়া মহাসড়কটির কাঁচপুর, যাত্রামুড়া, বরাব, রূপসী ও ভুলতা এলাকায় যানজট দেখা যায়। 

স্থানীয়রা জানান,  গত চার বছর ধরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কটির ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। উন্নয়ন কাজটি ধীরগতিতে চলার কারণে গত যানজট ও ধুলোবালিতে প্রতিনিয়তই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

মহাসড়কে যানজট নিরসরে সংস্কারকাজ চলমান

অভিযোগ করে ঝুট ব্যবসায়ী রাকিবুজ্জামান বলেন, “বছরের পর বছর শুধু কাজই চলে কিন্তু শেষ আর হয় না। মানুষ কত বছর আর ভোগান্তি পোহাইব! প্রতিদিন যানজট থাকেই। এখন বৃষ্টির মৌসুম বলে ধুলা কম, না হলে ধুলায় গোসল করতে হয়।”

মহাসড়কটির তারাব বিশ্বরোড এলাকায় অন্তত ২৫ মিনিট ধরে কাঙ্ক্ষিত বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে পাওয়া যায় গৃহিনী মোসাম্মৎ সাথীকে। রূপগঞ্জ উপজেলার দিঘীবরাব এলাকার এ বাসিন্দা যাবেন রাজধানীর গুলিস্তানে।

সাথী বলেন, “প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু বাস আসতে পারছে না। কারণ, যানজট। যানজট না থাকলে পাঁচ মিনিট পরপরই গাড়ি পাওয়া যেতো। এ সমস্যা গত তিন-চার বছর ধরেই।”

এ মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যদেরও কাজ করতে দেখা যায়। সড়কে দায়িত্ব পালনরত জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সাহাবুল বলেন, সংস্কার কাজের কারণে যানবাহনের গতি ধীর হলেই দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। তবে, তারা কয়েকটি পয়েন্টে কাজ করছেন।

এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যানজটের আশঙ্কা করছেন এ পথের যান চালকরা। বাঁধন পরিবহনের বাস কন্ডাক্টার মঞ্জুর হোসেন বলেন, এই রাস্তায় গর্ত বা ভাঙা তেমন নাই। কিন্তু এইখানে টোলপ্লাজায় টোল কালেকশনে দেরি হলেই জ্যাম লেগে যায়। তাছাড়া, কোথাও এক্সিডেন্ট হলে বা গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে মুহুর্তের মধ্যে লম্বা জ্যাম লেগে যায়।”

গত শুক্রবারও (১৫ মে) মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় এক দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছিল। তাতে সাড়ে তিন ঘণ্টা এক জায়গাতেই বসে থাকতে হয়েছিল বলে নিজের অভিজ্ঞতা জানান পরিবহন শ্রমিক মঞ্জুর হোসেন।

 সড়কের মাঝখানে ভাঙাচোরা-খানাখন্দ।

যোগাযোগ করা হলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানাও তিনটি মহাসড়কের একই সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি সেতুতে ছোট ছোট খানাখন্দ আছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলছে। যাত্রামুড়া সেতুতে গাড়ি বেশি আটকে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে সড়কের প্রশস্ততাও কমে আসে। অন্যদিকে, কাঞ্চন-ভুলতা-বস্তুল-মদনপুরে এশিয়ান হাইওয়েতেও কাজ চলমান থাকায় যানজট দেখা যায়।”

এ তিন মহাসড়কের আশেপাশের আঞ্চলিক সড়কেও যানজট দেখা দিলে তার প্রভাব মহাসড়কে পড়ে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রতিটি পয়েন্টে কনসার্ন অথরিটিকে বিষয়গুলো জানিয়েছি। ঈদের আগে অন্তত রাস্তাগুলোকে সংস্কার দ্রুত করার তাগিদ দিয়েছি। ঈদযাত্রা ও কোরবানির পশুবাহী যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন যাতে না ঘটে সেজন্য পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

ঈদযাত্রায় ভোগন্তি কমাতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কিছু সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। সেসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও হয়েছে। সড়ক বিভাগকে কাজ দ্রুত করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি মহাসড়কে আনসার সদস্যরাও ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত