সংবাদ

ঢাকায় তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস, রাতে তাপমাত্রা বাড়লো ৬ ডিগ্রি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

ঢাকায় তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস, রাতে তাপমাত্রা বাড়লো ৬ ডিগ্রি
ছবি : সংগৃহীত

চলতি মাসে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়।  আজ বুধবার (২০ মে) সকাল থেকেই নগরবাসী ভ্যাপসা গরমের কবলে পড়েছেন। তবে এই গরমের মূল কারণ দিনের উচ্চ তাপমাত্রা নয়; বরং রাতের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত রাতে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি বেশি। এর প্রভাব পড়েছে দিনের তাপমাত্রায়। আজ বিকেলে রাজধানীর তাপমাত্রা ওঠে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘এ সময়ে ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা ঢাকার জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা এত বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি অনেক তীব্র হচ্ছে। মানুষের শরীর গরম থেকে বেরোতে পারছে না।’

ঢাকার বাইরে আরও ছয় জেলায় আজ তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে বাগেরহাটে- ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮, সাতক্ষীরায় ৩৬ দশমিক ৪, খুলনায় ৩৬ দশমিক ২, পাবনা ও রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তাকে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’ বলা হয়। আজ এই সাত জেলা সেই তালিকায় রয়েছে।

সকাল থেকে রাস্তায় কাজ করছেন এমন অনেক শ্রমজীবী মানুষের কপালে ঘামের ধারা। আজকের মতো ভ্যাপসা গরমে শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।

আজ ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের একাধিক এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। যদি বৃষ্টিও হয়, তা হবে সামান্য পরিমাণে- যা তাপমাত্রা কমাতে তেমন ভূমিকা রাখবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রাতের তাপমাত্রা বাড়ছে। আকাশ পরিষ্কার না থাকায় পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারছে না। এতে দিনের তাপ জমে থাকে রাতেও। এই অবস্থাকে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ ইফেক্ট বলে। ঢাকায় ঘনবসতি ও কংক্রিটের ভবনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ প্রভাব আরও স্পষ্ট।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী অন্তত দুই দিন এই তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। ফলে গরমের তীব্রতা খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই।

তীব্র তাপপ্রবাহে ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলতে হবে, হালকা রঙের ও সুতির পোশাক পরতে হবে, শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে, প্রয়োজনে ছাতা ও টুপি ব্যবহার করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


ঢাকায় তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস, রাতে তাপমাত্রা বাড়লো ৬ ডিগ্রি

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

চলতি মাসে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়।  আজ বুধবার (২০ মে) সকাল থেকেই নগরবাসী ভ্যাপসা গরমের কবলে পড়েছেন। তবে এই গরমের মূল কারণ দিনের উচ্চ তাপমাত্রা নয়; বরং রাতের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত রাতে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি বেশি। এর প্রভাব পড়েছে দিনের তাপমাত্রায়। আজ বিকেলে রাজধানীর তাপমাত্রা ওঠে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘এ সময়ে ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা ঢাকার জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা এত বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি অনেক তীব্র হচ্ছে। মানুষের শরীর গরম থেকে বেরোতে পারছে না।’

ঢাকার বাইরে আরও ছয় জেলায় আজ তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে বাগেরহাটে- ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮, সাতক্ষীরায় ৩৬ দশমিক ৪, খুলনায় ৩৬ দশমিক ২, পাবনা ও রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তাকে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’ বলা হয়। আজ এই সাত জেলা সেই তালিকায় রয়েছে।

সকাল থেকে রাস্তায় কাজ করছেন এমন অনেক শ্রমজীবী মানুষের কপালে ঘামের ধারা। আজকের মতো ভ্যাপসা গরমে শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।

আজ ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের একাধিক এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। যদি বৃষ্টিও হয়, তা হবে সামান্য পরিমাণে- যা তাপমাত্রা কমাতে তেমন ভূমিকা রাখবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রাতের তাপমাত্রা বাড়ছে। আকাশ পরিষ্কার না থাকায় পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারছে না। এতে দিনের তাপ জমে থাকে রাতেও। এই অবস্থাকে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ ইফেক্ট বলে। ঢাকায় ঘনবসতি ও কংক্রিটের ভবনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ প্রভাব আরও স্পষ্ট।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী অন্তত দুই দিন এই তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। ফলে গরমের তীব্রতা খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই।

তীব্র তাপপ্রবাহে ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলতে হবে, হালকা রঙের ও সুতির পোশাক পরতে হবে, শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে, প্রয়োজনে ছাতা ও টুপি ব্যবহার করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত